The Calcutta Mirror Desk :
পশ্চিমবঙ্গের বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং কেরলের ভিএস অচ্যুতানন্দন—উভয়েই বামপন্থী আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রত্যাখ্যান করে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন।
আদর্শের জয়গান: বুদ্ধদেবের পথেই অচ্যুতানন্দন পরিবার
কলকাতা ও তিরুবনন্তপুরম: রাজনৈতিক আঙিনায় তারা ছিলেন দুই ভিন্ন রাজ্যের মহীরুহ, কিন্তু আদর্শের সুতোয় বাঁধা ছিল তাঁদের জীবন। পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভিএস অচ্যুতানন্দন—উভয়েই সিপিআই(এম)-এর প্রথা মেনে কেন্দ্রের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নিলেন।

২০২২ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করার ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার । কিন্তু সেই ঘোষণা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বুদ্ধদেব স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তিনি এই পুরস্কার গ্রহণ করবেন না। তাঁর যুক্তি ছিল, দেশের জন্য কাজ করা একজন কমিউনিস্ট হিসেবে ব্যক্তিগত রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির চেয়ে জনগণের ভালোবাসাই বড়। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ।
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সেই ঘটনার চার বছর পর, ২০২৬ সালে একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় কেরলের প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভিএস অচ্যুতানন্দনের পরিবার। গত বছর ২১ জুলাই ১০১ বছর বয়সে অচ্যুতানন্দনের মৃত্যু হয় । ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় সরকার তাঁকে মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ দেওয়ার ঘোষণা করে ।
পুরস্কারের খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়। তবে বুদ্ধদেবের দেখানো পথেই হাঁটে অচ্যুতানন্দনের পরিবার। তাঁর ছেলে ভি. এ. অরুণ কুমার জানিয়েছেন যে, একজন কমিউনিস্ট হিসেবে তাঁর বাবা আজীবন যে আদর্শ মেনে চলেছেন, সেই দলের অবস্থান মেনেই তাঁরা এই সম্মান প্রত্যাখ্যান করছেন । সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবিও জানান, অচ্যুতানন্দন জীবিত থাকলেও কোনো রাষ্ট্রীয় সম্মান গ্রহণ করতেন না ।
উল্লেখ্য যে, এর আগে ইএমএস নাম্বুদিরিপাদ, জ্যোতি বসু এবং হরকিষণ সিং সুরজিতের মতো বামপন্থী নেতারাও বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রের দেওয়া রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রত্যাখ্যান করেছিলেন । অচ্যুতানন্দনের পরিবারের এই সিদ্ধান্ত সেই দীর্ঘ ঐতিহ্যকেই বজায় রাখল ।

