ক্যালকাটা মিরর ডেস্ক:
প্যারিসে এক ক্যাফে। সেখানে বাস কফির কাপে চুমুক প্রস্তাবন এক ভদ্রলোক। হাতে নোটবুক, গুরুত্বপূর্ণ মোটা ফ্রেমারশমা। বিশ্ববিদ্যালয় তিনি ‘দ্য হিন্দু’ (দ্য হিন্দু) পত্রিকার প্যারিস ডেসপেন্ট বা সাংবাদিক। কিন্তু এই রাজনীতিটা ছিল কেবলই একটা মুখোশ। চশমার আঙ্গুলের দেখতে দৃশ্যমান প্রকৃতপক্ষে আন্তর্জাতিক রাজনীতির সবচেয়ে বড় পালাবদলের বোঝাপড়া। তিনি আর কেউ নন, তিনি ছিলেন গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (R&AW)-এর সদস্য এবং ডিসকাউন্টার-টেরিজম ইউনিটের প্রধান—বিরমন (বি. রমন)।
প্যারিস সীমান্ত এবং তীব্র বিপ্লবের সময় বারে বারে এক সামরিক অস্থিরতা। শাহের পতন আসন্ন। আর বিপ্লবের শেরেকর আয়াত খোমেনি তখন প্যারিসে নির্বাসিত। দেশ তাবড় তাবড় গোয়েন্দা সংস্থা—সিআইএ (সিআইএ), কেজিবি (কেজিবি)-সবাই চেষ্টা করছে খোমেনির নাগাল পেতে, কিন্তু চালু হচ্ছে। ঠিক তখনই জাদুকরের মতো চাল চালনা বি. রমন। অনেক আগে এক ছাত্রের জীবন তিনি বাঁচিয়েছিলেন। খোমেনির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়েছে। সাংবাদিকের ছদবেশে শান্ত রমন সেই সম্পর্কে জানালেন সুতো ধরে সোজা গ্রুপন আয়াতের খোমেনির অন্দরমহলে। সিআইএ হতে পারে, তা করে দেখান এই স্পাই। তিনি খোমে এবং তার বিপ্লবের সাথে এক পরিচিত ‘ব্যাক চ্যানেল’ (ব্যাক চ্যানেল) গভীরের শাহের পতন এবং ইসলামিক বিপ্লবের সেই উত্তাল সময়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করতে যে ভূমিকা পালন করতেন, তাও আজ স্পাই দুনিয়ায় এক রূপকথা হয়েছে।
দ্য কাউবেজ অফ ‘র’ (দ্য কাওবয়স অফ R&AW) বি. রমন ছিলেন ১৯৬১ ব্যাচের আইপিএস মাস্টার। কিন্তু তার কাছে পুলিশ ছিল না, ছায়ার জগত ছিল। ১৯৬৮ সালে যখন রামেশ্বরনাথ কাও (আরএন কাও) নতুন গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ মানুষ করেন, তখন তিনি হিরে জহুরির মতো বেছে নিয়েছিলেন। কাও হাতে গড়া এই-দের বলা হয়েছে “কাওবয়েজ” (কাওবয়)। রমনের স্মৃতিশক্তি ছিল কম্পিউটারের মতো। জোটের পর জোটে আপনি হুবহু মনে রাখতে পারবেন। প্রাণ, বাংলাদেশ, এবং চীনের উপর তার বিশ্লেষণ ছিল অভ্রান্ত। বলা হয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা কৌশলের ব্লু-প্রিন্ট তার হাত ধরে রাখা হয়েছিল।
একাকী জীবন ও নীরব বিদায় দেখুন জীবন দেশের সকলের জন্য আলাদা আলাদা আলাদা আলাদা আলাদা আলাদা আলাদা আলাদা আলাদা আলাদা আলাদা আলাদা আলাদা আলাদা আলাদা আলাদা আলাদা আলাদা আলাদা আলাদা আলাদা আলাদা আলাদা আলোচনা আলোচনা করতে পারবেন। তিনি বিয়ে করেন। ১৯৬৩ সাল থেকে আমৃত্যু তিনি একাই থেকেছেন। তার সঙ্গে ছিল শুধু তার কাজ আর দেশের গোপন নথিপত্র। ছাড়পত্র ছাড়া আমার সেবা, কিন্তু মা মারা যাওয়ার পর আবার সেই একাকীত্ব। শেষ বয়সে শরীরে বাসা বাঁধে মরনরোগ ক্যান্সার। ২০১৩ সালের ১৬ জুন। চেন্নাইয়ের এক ঘটনা ৭৭ বছর বয়সে নীরবে বিশ্ব থেকে বিদায় এই ছাত্রমাইন্ড।


