The Calcutta Mirror Desk :
মহাশিবরাত্রি শিব ও শক্তির মিলনের সবচেয়ে বড় উৎসব। এই বছর, MahaShivratri 2026 ১৫ ফেব্রুয়ারি পালিত হবে। ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫:০৪ মিনিটে শুরু হবে এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫:৩৪ মিনিটে শেষ হবে। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে অবশ্য প্রত্যেক মাসেই একটি করে শিবরাত্রি থাকে। প্রতি মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীতে পালিত হয় মাসিক শিবরাত্রি। তা হলে ফাল্গুন মাসের শিবরাত্রি এত স্পেশাল কেন? এই তিথিকে কেন ‘Mahashivratri’ বলা হয়? এর নেপথ্যে রয়েছে গভীর ধর্মীয়, পৌরাণিক এবং প্রাকৃতিক কারণ।
কেন মহাশিবরাত্রি অনান্য শিবরাত্রির চেয়ে আলাদা ?
পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে মহাশিবরাত্রি হলো সেই বিশেষ দিন যখন ভগবান শিব এবং দেবী পার্বতীর বিয়ে হয়েছিল। দীর্ঘ তপস্যার শেষে ভোলেনাথকে স্বামী রূপে পেয়েছিলেন দেবী পার্বতী। পর্বত কন্যার তপস্যার সামনে মাথা নোয়াতে হয়েছিল মহাদেবকেও। যাঁকে অবশ্য কেবল সাধারণ বিয়ে রূপে দেখা হয় না। শিব ও শক্তির মিলনের প্রতীক রূপেও গণ্য করা হয়। অন্যান্য শিবরাত্রিতে শিব উপাসনা করলেও মহাশিবরাত্রি ত্যাগের কথা বলে। একই সঙ্গে পারিবারিক জীবনের ভারসাম্য রাখাটাও জরুরি।
অন্য মতে এই রাতেই মহাদেব তাণ্ডব নৃত্য করেছিলেন। যা সৃষ্টি এবং ধ্বংসের চক্রের প্রতীক। তাই মনে করা হয় এই রাতে করা আধ্যাত্মিক অনুশীলন এবং শিবের উপাসনা অন্যান্য রাতের তুলনায় বহুগুণ বেশি ফল দেয়।
জ্যোতির্লিঙ্গের আবির্ভাব
আরেক মতে ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতেই প্রথম মহাদেব জ্যোতির্লিঙ্গ রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। যার কোনও শুরু বা শেষ খুঁজে পাওয়া যায় না। যা এক Superpower-এর কথা বলে। তাই এই দিনকে অজ্ঞতার অন্ধকারের উপর জ্ঞানের আলোর বিজয়ের প্রতীক রূপেও গণ্য করা হয়। শিবলিঙ্গকে মহাদেবের পার্থিব রূপ হিসেবে কল্পনা করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস, এই দিনে শিবের উপাসনা করলে, সেই প্রার্থনা সরাসরি দেবাদিদেবের কাছে পৌঁছায়। তাই এই রাতকে ‘সিদ্ধরাত্রি’ও বলা হয়।


