31 C
Kolkata
Tuesday, October 4, 2022
More

    অভিনব বললেও কম বলা হবে, মেডিকেল ওয়েস্ট দিয়ে করোনা আবহের দুর্গা মূর্তি তৈরি করেছেন এই শিল্পী

    দ্য ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো:ট্যাবলেট বাই ট্যাবলেট, স্ট্রিপ বাই স্ট্রিপ, আসাম ভিত্তিক শিল্পী সঞ্জীব বসাক প্রায় ৬০ দিন ধরে মধ্যরাতের তেল পুড়িয়ে দেবী দুর্গার একটি গৌরবময় মূর্তি তৈরি করেন। যা তৈরি করতে তিনি ব্যয় করেছেন ৩০,০০০ এর ও বেশি ক্যাপসুল এবং সিরিঞ্জ।

    চলমান কোভিড-১৯ মহামারী দুর্গাপূজা উৎসবের আলো কেড়ে নেওয়া সত্ত্বেও, এই বার্ষিক উৎসব এখনও আসামের কিছু অংশে উদযাপন এবং প্রদর্শনীর মাধ্যমে উদযাপিত হচ্ছে। থিম পূজা উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়ায় এ বছর বেশ কয়েকজন কারিগর দুর্গাপ্রতিমাকে একটি করোনাভাইরাস টুইস্ট দিয়েছেন জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াবে বলেই তাদের আশা।

    সঞ্জীব বসাক, যিনি গত আট বছর ধরে ব্যবহৃত ম্যাচ স্টিক এবং তারের মত বর্জ্য উপাদান ব্যবহার করে দেবী দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করছেন, এই উৎসবের সাথে মহামারী মিশিয়ে এই বছরের মূর্তি সম্পন্ন করেছেন।

    এর আগে তিনি ২০১৯ সালে ১৬৬ কেজি ওজনের বর্জ্য বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করে দেবী দুর্গার মূর্তি তৈরির জন্য আসাম বুক অফ রেকর্ডসে নাম যোগ করেছেন। তিনি বলেন “প্রতি বছর আমি মূর্তি বানানোর জন্য নতুন আইডিয়া আনার চেষ্টা করি। এই বছর, আমি লক্ষ্য করেছি যে লকডাউন চলাকালীন অনেক লোক ওষুধ কেনার জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল। যাইহোক, অনেক দোকানে পর্যাপ্ত মজুদ ছিল না এবং মানুষকে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত ওষুধ কিনতে হয়েছিল।”

    ৩০,০০০ এর ও বেশি ক্যাপসুল এবং সিরিঞ্জ ব্যবহার করে তৈরি এই দুর্গা মূর্তি

    উপরন্তু, বসাক, যিনি ধুবরির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগে কাজ করেন, প্রায়ই তার কোভিড-১৯ ডিউটির অংশ হিসেবে ওষুধ কিনতে ওষুধের দোকানে যেতেন। পরিদর্শনের সময় তিনি লক্ষ্য করেন যে দোকানগুলো তার মেয়াদউত্তীর্ণ ওষুধের মজুদ ছুঁড়ে ফেলে দিত। তিনি যোগ করেন “প্রায়ই দোকানদাররা কোম্পানিকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ দেয়। কিন্তু, এবার লকডাউন থাকায় তারা তা করতে পারল না। তাই, অনেক বর্জ্য মজুদ ছিল।”

    যদিও বর্জ্য পদার্থ দিয়ে প্রতিমা তৈরি করা নতুন কিছু নয়, বসাক বলেন যে তিনি এই ধারণা নিয়ে এসেছেন যেহেতু তার বিভাগ গত কয়েক বছর ধরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপর মনোযোগ প্রদান করে আসছে। তিনি তখনই চিকিৎসা দোকান থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ট্যাবলেট, ক্যাপসুল ও সিরিঞ্জ সংগ্রহ করে রাখেন আর তা ব্যবহার করেই এই দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করা হয়। “এটা আমার সামাজিক দিক থেকে কিছু করার উপায় ছিল। যদি আমরা অপচয় অংশব্যবহার করতে পারি, তাহলে কেন নয়।”

    তিনি বলেন “কোভিড-১৯ এর সময় ওষুধ এবং টিকাকরণের উপর অনেক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং আমি একটি অনন্য দুর্গা মূর্তি বানাতে চেয়েছিলাম। তখনই আমি মেয়াদউত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহারের ধারণা নিয়ে আসি।”

    মেয়াদ উত্তীর্ণ ট্যাবলেট, ক্যাপসুল ও সিরিঞ্জ

    সঞ্জীব বসাক একজন কলা বিভাগে স্নাতক, এবং তিনি পেশাদার মূর্তি নির্মাতা নন এবং যখনই তিনি অতিরিক্ত সময় পান একটি শখ হিসাবে বিভিন্ন শিল্প আকারে তার হাত চেষ্টা শুরু করেন। যাইহোক, ৩৭ বছর বয়সী গত আট বছরে তার সৃজনশীল দুর্গা মূর্তির জন্য বেশ কিছু পুরস্কার পেয়েছেন।

    ২০১৯ সালে ১৬৬ কেজি ওজনের বর্জ্য বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করে দেবী দুর্গার মূর্তি তৈরির জন্য আসাম বুক অফ রেকর্ডসে বসাকের নাম যোগ করা হয়। এর আগে, তিনি ম্যাচস্টিক ব্যবহার করে একটি ১২ ফুট মূর্তি তৈরির জন্য পুরস্কৃত হন।

    Related Posts

    Comments

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    সেরা পছন্দ

    ভারতে তরুণ প্রাপ্তবয়স্কের মধ‍্যে বাড়ছে হার্ট অ‍্যাটাকের আশঙ্কা , বলছে সমীক্ষা

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : ভারতে তরুণ প্রাপ্তবয়স্কের মধ‍্যে হার্ট অ‍্যাটাকের আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে। ‘কার্ডিয়োলজিক‍্যাল সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া’-র সাম্প্রতিকতম...

    দেখে নিন বিজয়া দশমীর নির্ঘণ্ট , জানুন এই দিনটির মাহাত্ম্য

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : অসত্যের ওপর সত্যের জয়ের উৎসব বিজয়াদশমী। আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের দশমী তিথিটি বিজয়া দশমী...

    হিন্দু মহাসভার পুজোয় মহিষাসুর রূপে গান্ধীজী ! তুঙ্গে জোর বিতর্ক

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : কলকাতা-সহ সারা রাজ্য জুড়ে বিরাট ধুমধাম করে পালন করা হচ্ছে দুর্গাপুজো। অন্যদিকে দানা বেধেছে...

    বদলে যাচ্ছে ট্রেনের টাইমটেবিল

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : ভারতে দু’কোটি ২৩ লক্ষ মানুষ প্রতি দিন ট্রেনে যাতায়াত করেন। কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য লোকাল,...

    চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণাবর্ত , বৃষ্টিতে ভিজবে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণাবর্ত। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, ওই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে সপ্তমী থেকেই দক্ষিণবঙ্গে বাড়তে পারে...