33 C
Kolkata
Sunday, April 2, 2023
More

    ব্রহ্মপুত্র নদীকে জলশূণ্য করার পরিকল্পনায় শীলমোহর চীনের!

    দ্য ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো: ভারতের মাটিতে অনুপ্রবেশ আর এরপর করোনা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যে ভারতের নামে অহেতুক দোষ দিয়েই ক্ষান্ত থাকছে না চীন। এবার তিব্বতে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার খুব কাছেই ইয়ারলাং জ্যাংবো নদীতে একটি বিশাল বাঁধ তৈরির পরিকল্পনা করেছে চীন। চিনের সরকার নিয়ন্ত্রণাধীন সংবাদমাধ্যম রবিবার এই খবর প্রকাশ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে জ্যাংবো নদীতে এই বাঁধ নির্মাণ হলে উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রবল জলাভাব দেখা দেবে।

    উল্লেখ্য স্বশাসিত তিব্বতের উৎসস্থল থেকে সীমান্ত পেরিয়ে ইয়ারলাং জ্যাংবো নদী ভারতে প্রবেশ করেছে। অরুণাচলে এই নদীর নাম সিয়াং। আবার এই সিয়াং নদী অসমে প্রবেশ করার পরে পরিচিত হয়েছে ব্রহ্মপুত্র নামে এবং এর পর ফের সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এই নদী। চীনের ওই সরকারি সংবাদমাধ্যম মতে, অরুণাচল সীমান্তের খুব কাছাকাছি তিব্বতের মেডগ কাউন্টিতে ব্রহ্মপুত্রের উপরেই এই বাঁধ তৈরির প্রকল্প পরিকল্পনা করেছে চীন সরকার।

    প্রসঙ্গত: এর আগেও একাধিক ছোট বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে ব্রহ্মপুত্রের উপরে। বেজিং এর গৃহীত নতুন প্রকল্পে উৎপাদিত জলবিদ্যুতের পরিমাণ মধ্য চিনের থ্রি গর্জেস ড্যাম-এর চেয়ে প্রায় তিন গুণ হতে পারে! এমনটাই চীনা সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস সূত্রে খবর। তবে বেজিং এর যুক্তি নতুন এই বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে চীনের জাতীয় নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে। এই সুবিশাল বাঁধ নির্মাণের জন্য গত ১৬ অক্টোবর তিব্বতের স্বশাসিত প্রশাসনের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করেছে নিগম। এমনকি গত সপ্তাহে তুন বাঁধ প্রকল্পের খবর প্রথম প্রকাশ পায় কমিউনিস্ট পার্টি অফ চায়না-র ইয়ুথ লিগের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে। সেখান থেকেই জানা গিয়েছে ইয়ারলাং জ্যাংবো নদীর উপরে প্রস্তাবিত বাঁধ প্রকল্প বছরে ৬০০ কোটি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। যা বছরে ৩০০ কোটি কিলোওয়াট কার্বনমুক্ত ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।

    উল্লেখ্য ভারত-চীনের ঠান্ডা লড়াইয়ে এই নদী গুলি বরাবর ভারতের অন্তরায়! কারণ সীমান্ত অতিক্রমকারী একাধিক নদীর উত্স স্থল চীন হওয়াতে ভারতের থেকে অনেক সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে চীন। তিব্বত অঞ্চল দখলে করার পরে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম নদীগুলি, যেমন সিন্ধু নদ, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, ইরাবতী, সলউইন, ইয়াংৎসে ও মেকং নদীর উৎস রয়েছে বেজিংয়ের কব্জায়। যার মধ্যে ৪৮% নদীর জলই ভারতের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত। যা যথেষ্টই চিন্তার।

    যদিও ২০১৮ সালে ভারত ও চীনের মধ্যে জল সম্পদ, নদীখাত উন্নয়ন এবং গঙ্গা পুনরুজ্জীবিত প্রকল্প সংক্রান্ত একটি মউ (MOU) সাক্ষরিত হয়। যার শর্ত অনুযায়ী ওই সমস্ত নদীখাতের জলস্তর বৃদ্ধি পেলে প্রতি বছর ভারতকে সে সম্পর্কে তথ্য দেবে চীন। তবে বর্তমানে দুই দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক যে অবস্থায় পৌঁছেছে, তাতে চুক্তির যে বিচ্যুতি ঘটাচ্ছে বেজিং সে বিষয়ে সন্দেহ’র লেশ মাত্র নেই আর।

    Related Posts

    Comments

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    সেরা পছন্দ

    জানেন বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ কোনটি ? কোথায় দাঁড়িয়ে ভারত ?

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : পার ক্যাপিটা জিডিপি, জনস্বাস্থ্য, আয়ু, সামাজিক ন্যায়, যাপনের স্বাধীনতা এবং দুর্নীতিহীনতা-- এই একক গুলির...

    কেন্দীয় পুলিশে কয়েক হাজার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ !

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর। কারণ, কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করল সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স বা...

    আসন্ন IPL-এ কোন দলের অধিনায়ক কে হলেন ?

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : কলকাতা নাইট রাইডার্স সোমবার তাদের দলের অধিনায়কের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ১০টি আইপিএল দলের...

    বাড়ল প্যান ও আধার সংযুক্তিকরণের সময়সীমা ! সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : কেন্দ্রের তরফে আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল, চলতি মাসের মধ্যেই প্যান ও আধার লিংক করিয়ে...

    মোদীর লক্ষ্য ৪০০ পার ! বঙ্গে বিজেপির লক্ষ্য ২৫

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : দিল্লি লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দিয়েছে। আব কি বার ৪০০ পার। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে সারা...