28 C
Kolkata
Sunday, June 26, 2022
More

    কোভিড-১৯ পরিস্থিতি কী ইংল্যান্ড আর স্কটল্যাণ্ডের বিচ্ছেদকে আরও স্পষ্ট করে তুললো?

    গত বৃহস্পতিবার স্কটল্যান্ডের উত্তর উপকূলে অবস্থিত একটি দ্বীপপুঞ্জ অরকনিতে ভ্রমণের সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সাহসের সাথে ঘোষণা করেছিলেন যে এই সফরটি সংযুক্ত রাষ্ট্রের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি প্রমাণ করেছে।

    এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন- “ইউনিয়ন একটি খুব শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান – এটি আমাদের দেশকে দৃঢ়তা এবং নমনীয় উভয় হতেই সহায়তা করেছে। আমি মনে করি লোকেরা যা করতে চায় তা হ’ল আমাদের পুরো দেশটিকে এক সাথে ফিরে পেতে ছয়, এবং আমরা এটিই করতে যাচ্ছি।”

     সম্ভবত একত্রে শব্দটির উল্লেখ করলেও সেটি কোনো স্কটল্যান্ডের নেতার সাথে নয়। এ বছর স্কটল্যান্ডে প্রথম ভ্রমণের জন্য জনসন এডিনবার্গের স্কটিশ রাজনৈতিক শক্তির আসন থেকে কয়েক মাইল দূরে দ্বীপের একটি বিচ্ছিন্ন জনসংখ্যার দল বেছে নিয়েছিলেন; তিনি স্কটল্যান্ডের শীর্ষ নির্বাচিত কর্মকর্তা, প্রথমমন্ত্রী নিকোলা স্টারজনের সাথেও সাক্ষাত করেননি।

    এটির একটি সঙ্গত কারণ থাকতে পারে। যদিও স্কটল্যান্ড কোভিড-১৯ এ খুব খারাপভাবে ভুগছে তবুও স্টার্জনের জনপ্রিয়তা বেড়েছে, কারণ তিনি তার ইংরেজ অংশের চেয়ে মহামারী থেকে নিস্তার পাওয়ার দিকে বেশি সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি রেখেছেন। ইতিমধ্যে স্টার্জনের চূড়ান্ত রাজনৈতিক লক্ষ্য, ইংল্যান্ডের কাছ থেকে স্কটিশ স্বাধীনতা অর্জনের পক্ষেও সমর্থন বাড়ছে।

    জনসনের ব্যক্তিগত রেটিং ইতিমধ্যেই নিম্নমুখী সেই সাথে স্কটিশ সীমান্তের দক্ষিণ অংশ পুনরায় খুলে দেওয়ার বার্তা এই বিষয়ে ঘৃতাহুতি করেছে। তাঁর এই স্কটল্যান্ড সফর হ্যাড্রিয়ানের প্রাচীরের উত্তরে কিছুটা রাজনৈতিক দখল ফিরে পাওয়ার চেষ্টা ছিল।

    মহামারী প্রত্যেক দেশকেই কিছু না কিছু শিখিয়ে ছাড়ছে। তেমনি যুক্তরাজ্যের মহামারী থেকে প্রাপ্ত অনেকগুলি শিক্ষার একটি হ’ল দেশের রাজনৈতিক নেতাদের রাজনীতি পরিচালনার একেবারে ভিন্ন ভিন্ন ধরণ।

    জনসন নিজে কোভিড -১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার অনেক আগেই তিনি একদল সাংবাদিককে এক মুখ হাসি নিয়ে বলেছিলেন যে আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন যে আমি সম্প্রতি একটি হাসপাতালে গিয়েছিলাম যেখানে হয়ত কিছু রোগী করোনা আক্রান্ত ছিল এবং আমি সবার সাথে হাত মিলিয়েছি”।

    জনসন লকডাউন তোলার বিষয়ে বিভ্রান্তিকর পরামর্শের জন্য বিশেষ উপহাসের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তিনি গত ১০ই মে ব্রিটিশদের বলেছিলেন যে তারা যদি বাড়ি থেকে কাজ না করতে পারে তবে তাদের এখন “কাজ করতে যাওয়ার” জন্য সক্রিয়ভাবে উত্সাহিত করা উচিত তবে তার সাথে সাথে তাদের “সতর্ক” থাকাও উচিত।

    স্টার্জন, বরিসের এই বক্তব্যে মুগ্ধ হননি। তিনি এই সময় বলেছিলেন যে “আমি সতর্ক থাকব” এর অর্থ কী তা আমি জানি না। তবে তিনি ব্রিটিশ সরকারকে স্কটল্যান্ডে এই স্লোগানটি প্রচার না করার জন্য বলেছিলেন।

    জনসনের সরকার যখন নতুন বিধি প্রবর্তন করেছিল যেখানে নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের পর কোয়ারেণ্টাইনের বিষয়ে বিশেষ মূল্য না রেখেই নির্দিষ্ট কিছু দেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়, তখন স্টার্জেন ব্রিটিশ সরকারের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াটিকে “অসংঘটিত” বলে অভিহিত করেন। ডাউনিং স্ট্রিটের বিপরীতে থেকেই তিনি স্পেন থেকে অনিয়ন্ত্রিত ভ্রমণের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছিলেন।

    পৃথক পথে হাঁটার আরও একটি দিক রয়েছে- যেখানে মাস্ক পড়া নিয়ে ইংল্যান্ডের ডাউনিং স্ট্রিট অধ্যাদেশ জারি করার পুরো দু সপ্তাহ আগেই স্টার্জেন তাদের ওখানে দোকানগুলিতে মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করে তুলেছিলেন এবং ইংল্যান্ড পড়ে সেই একই পথ অনুসরণ করেছে। স্টারজনের টার্টান ফেস মাস্কটি একটি পোশাকী-স্বাক্ষরে পরিণত হয়েছে।

    জনসন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মত মুখোশ পড়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করেন নি, তবে তাঁকে প্রায়শই মুখোশ ছাড়াই, এমনকি বাড়ির অভ্যন্তরেও ঘুরতে দেখা যায় বেশি। ওরকনিতে তাঁর সফর সামান্য প্রতিবাদের মুখোমুখি হয়েছিল; যেখানে এক ব্যক্তি চিত্কার করে বলেছিল, “তোমার মুখোশটি কোথায়, বরিস?”

    বহিরাগতের কাছে (এবং বাস্তবে অনেক ব্রিটিশদের কাছে) যুক্তরাজ্যের ক্ষমতার বিভাজন বিভ্রান্তিকর হতে পারে। বরিস জনসন গ্রেট ব্রিটেন এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী, তবে ১৯৯০ এর দশকের শেষের দিক থেকে রাজশক্তির অনেকটাই যুক্তরাজ্যের সংবিধানভুক্ত- দেশগুলিতে স্থানান্তরিত হয়েছে – এটি একটি প্রক্রিয়া যা ডেভলশন নামে পরিচিত।

    এর অর্থ স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং পরিবহনের বিষয়ে অনেক নীতিগত সিদ্ধান্ত লন্ডনে নয়, এডিনবার্গ, কার্ডিফ এবং বেলফাস্টে নেওয়া হয়।

    এডিনবার্গে এই নিয়ে এক স্বাধীনতাপন্থী সমর্থক ভোটার মার্ক ডিফলে বলেছেন, “এটি সত্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় যেখানে সাধারণ নাগরিকদের কাছে বিচ্যুতি সবচেয়ে স্পষ্ট ।”

    স্কটল্যান্ডের রাজধানীর রাস্তায় এই উপলব্ধি স্পষ্ট। এডিনবার্গের ক্যারেন মাইল (৫৮) বলেছেন, “লন্ডন খুব চটজলদি, সবসময় তার জলবায়ুর মতনই তার মন পরিবর্তন করে, যা করতে চায় তা করতে পারে না।” “তারা কি জনগণকে সহায়তা করতে চায়? অর্থনীতিকে প্রথমে রাখতে চায়? নাকি যত্ন করে না? কী করছে তাই জানে না।”

    লিনলিথগোর ২১ বছর বয়সী অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড বলেছিলেন যে মহামারীর প্রভাবে স্টার্জেন সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি “অবশ্যই বেড়েছে”। তিনি বলেন, “আমি মনে করি রাজনীতি থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে নিকোলা সঠিক কাজ করেছে, এবং পুরো বিজ্ঞানের সাথে প্রথম এবং সর্বাগ্রে চলেছিলেন”।

    পদ্ধতির ক্ষেত্রে এই বোধগম্য বিভেদ সত্ত্বেও কোভিড -১৯ ফলাফলগুলি কিন্তু খুব একটা পৃথক হয়নি। প্রতি ১ লক্ষ লোক প্রতি স্কটল্যান্ডের ৭৭ জন মারা গিয়েছে এবং তাদের মৃত্যুর শংসাপত্রে কোভিড-১৯ তালিকাভুক্ত ছিল অন্য দিকে ইংল্যান্ডে এই চিত্র ছিল ৮৬ জন।

    এডিনবার্গের বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্যের অধ্যাপক লিন্ডা বাউল্ড বলেছেন, “পদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ ধারণাগুলির মধ্যে বৈপরীত্য রয়েছে এবং একইভাবে জনসাধারণের উপলব্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।”

    এখন স্টার্জেনের জন্য প্রশ্ন – এবং জনসনের জন্য ভয় – এই যে এই মহামারীটি তার নেতৃত্বের পক্ষে এক ইতিবাচক শ্রদ্ধা হিসেবে স্কটিশ স্বাধীনতার পক্ষে রাজনৈতিক সমর্থনে স্থানান্তরিত হবে কী, যা তার স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির মূল লক্ষ্য।

    ২০১৪ সালে স্কটিশরা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার পক্ষে ভোটাভুটি করে যেখানে ‘না’ ১০ শতাংশেরও বেশি পয়েন্ট পেয়ে জিতেছে। এরপরে অনেক কিছু বদলে গেছে। ২০১৫ সালের যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে, এসএনপি ওয়েস্টমিনস্টার হাউস অফ কমন্স-এর ছয়টি আসন থেকে ৫৬-এ চলে গিয়েছিল যেখানে স্কটিশর তিনটি আসন ব্যতীত সবগুলিই জিতে নিয়েছিল। এমনকী ২০১৬ সালে স্কটিশরা ব্রেক্সিটের বিরুদ্ধে প্রচুর ভোট দিয়েছে।

    এই বৃহস্পতিবার স্ট্র্যাথক্লাইড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত পোলস্টার জন কার্টিস বিবিসিকে দেওয়া একটি সাক্ষাতকারে বলেছেন যে স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন প্রায় এক বছর ধরে বেড়ে চলেছে এবং ব্রেক্সিটের পক্ষে যারা ভোট দিয়েছিল তাদের মধ্যে অনেকেই মোট পাল্টে ফেলছেন।

    শেষ ভোটের ফলাফল নিয়ে ডিফলে বলেছেন, “প্রস্তাব দেবে যে স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন আসলেই, সত্যই দীর্ঘ সময়ের চেয়ে বেশি ছিল।”

    জনসনের পক্ষে সমস্যা, তিনি এমন একটি দলের নেতা, যার পুরো নাম কনজারভেটিভ এবং ইউনিয়নবাদী পার্টি। স্কটল্যান্ড সফর করে জনসন ইংল্যান্ডের সাথে স্কটিশদের ৩০০ বছরের পুরানো সম্পর্কের সুবিধাগুলি তুলে ধরার প্রত্যাশা করেছিলেন – তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করতে আগ্রহী ছিলেন যে লন্ডনের ট্রেজারিই উদার ফর্লো স্কিমের সাহায্যে হাজার হাজার স্কটিশ কে চাকরি দিয়েছে।

    তবে রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রীরা ঐতিহাসিকভাবে স্কটল্যান্ডে সামান্য সমর্থন পেয়েছেন, এবং স্টারজেন টুইটারে রসিকতা করেছেন যে জনসনের এই সফর তার কোনও ক্ষতি করেনি।

    এসএনপি পরের বছরের স্কটিশ সংসদ নির্বাচনের আগে স্বাধীনতার বিষয়ে একটি নতুন গণভোটের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। মহামারীজনিত কারণে এটি এখন আটকে দেওয়া হয়েছে।

    অ্যাডিনবার্গ পূর্ব প্রতিনিধিত্বকারী টমি শেপার্ডের মতে এটি সংসদ সদস্যদের জন্য শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। তিনি বলেছিলেন “যারা স্কটল্যান্ডকে একটি স্বাধীন দেশে পরিণত হতে দেখতে চায় তারা বরিস জনসনকে যতটা সম্ভব স্কটল্যান্ডে ভ্রমণে স্বাগত জানায়, কারণ প্রতিবার যখন তিনি স্কটল্যান্ডে পা রাখেন, তখনই স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন বাড়ে”।

    তিনি বিশ্বাস করেন যে মহামারীর প্রতি প্রতিক্রিয়ায় স্কটল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের মধ্যে বাস্তব পার্থক্য অনেক সংশয়ী স্কটিশের চোখ খুলেছে। তাঁর মতে “তারা এখন পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন। তারা সম্ভবত এই কথাই ভাবছে যে মহামারীর বিরুদ্ধে কাজ করার রাজনৈতিক ক্ষমতা থাকলে স্বাধীন স্কটল্যান্ড কী করতে পারতো সেই সম্ভাবনার কথা।”

    Related Posts

    Comments

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    সেরা পছন্দ

    আগামী সোমবার খুলে যাচ্ছে রাজ্যের সব স্কুল

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : আগামী ২৭ জুন থেকে খুলে যাচ্ছে রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্কুল। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু...

    পুজোর বাকি ১০০ দিন ! অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় বাঙালি

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : পুজোর বাকি ১০০ দিন। এখন থেকেই পুজোর প্ল্যানিং ? এখনও ঢের বাকি ! না,...

    দুর্বল মৌসুমী বায়ু ! অনিশ্চিত বর্ষা

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : মৌসুমি বায়ু ঢুকলেও দক্ষিণবঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়ল। আগামী কয়েকদিন বিশেষ বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখছেন না...

    আরেকটা করোনা বিস্ফোরণের মুখে দাঁড়িয়ে রাজ্য ?

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : রাজ্যে ভয়াবহ আকার নিল করোনা। এক লাফে ৭০০ পার করল দৈনিক সংক্রমণ। বৃহস্পতিবার দৈনিক...

    এক অভিনব সাইকেল যাত্রা শুরু করলো সিভিক ভলেন্টিয়ার বিপ্লব দাস ।

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো :এক অভিনব সাইকেল যাত্রা শুরু করলো বিরাটির সিভিক ভলেন্টিয়ার বিপ্লব...