26 C
Kolkata
Thursday, May 26, 2022
More

    অ্যাসিম্পটোমেটিক বিস্তার কী করোনা অতিমারী থেমে যাওয়ার পূর্ব লক্ষণ: একটি গবেষণামূলক প্রতিবেদন

    দ্য ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো:সান ফ্রান্সিসকোর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ মণিকা গান্ধী সাম্প্রতিক সময়ে করোনা আক্রান্ত রোগীদের ওপর একটি সমীক্ষা চালাতে গিয়ে লক্ষ্য করেন একটি বিশাল সংখ্যক সংক্রমিত মানুষদের মধ্যে ৯৫%’ই অ্যাসিম্পটোমেটিক অর্থাত্‍ তাদের কারোরই কোন রকমের কোনো লক্ষণ ছিলনা।

    মণিকা গান্ধী, সান ফ্রান্সিসকোর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ

    করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের গভীরে প্রবেশ করতে গিয়ে গান্ধী লক্ষ্য করেন বোস্টনের একটি গৃহহীন আশ্রয়কেন্দ্রে ১৪৭ জন মানুষ আক্রান্ত ছিল, কিন্তু এদের মধ্যে ৮৮%’ এরই কোন লক্ষন ছিল না। যদিও তারা তাদের বসবাসের জায়গা ভাগাভাগি করে নিয়েছে। অন্যদিকে আর্কের স্প্রিংডেলের একটি টাইসন ফুডস পোল্ট্রি প্ল্যান্টে ৪৮১টি মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছিল, এবং লক্ষ্যনীয় ভাবেই এই আক্রান্তদের ৯৫%’ই অ্যাসিম্পটোমেটিক। আরকানসাস, নর্থ ক্যারোলিনা, ওহাইও এবং ভার্জিনিয়ার করগারেও ৩,২৭৭ জন মানুষ আক্রান্ত কিন্তু এদের ৯৬%’ই অ্যাসিম্পটোমেটিক।

    বিগত সাত মাসে সারা বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের হামলায় এখনো অবধি ৭,২৭,২৫৮ এর ও বেশী মৃত্যু ঘটেছে। কিন্তু গবেষক গান্ধী ভাবতে শুরু করেন যে এই আক্রান্ত দের শরীরে লক্ষণ না দেখতে পাওয়া বেশ বড় কোনো রহস্য হতে পারে। তাঁর মনে অনেক গুলো প্রশ্ন আসে এই সব উপসর্গহীন মানুষদের কি হয়েছে, তারা কি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া মানুষের পাশে ছিল না তাদের সাথে কাজ করতো নাকি কিছু একটা ঘটেছিল যা তাদের রক্ষা করেছিল? ভাইরাল এক্সপোজারের ‘ডোজ’ কি তাদের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে? নাকি এটা জেনেটিক্স ছিল? নাকি ইতিমধ্যে কিছু মানুষের ভেতরে এই ভাইরাসের আংশিক প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠে থাকতে পারে, যা আমাদের প্রাথমিক উপলব্ধির বিপরীতে?

    মণিকা গান্ধীর মতে অসুস্থতার বৈচিত্র্য বোঝার প্রচেষ্টা অবশেষে ফলাফল দিতে শুরু করেছে, আশা করা হচ্ছে এই প্রশ্নগুলোর জবাব পাওয়া গেলেই ভ্যাকসিন তৈরি আরও সহজ হবে এবং থেরাপির উন্নয়নেও যথেষ্ট সাহায্য করবে। হতেও পারে এই গবেষণা পশুপালকদের মধ্যে অনাক্রম্যতা গড়ে তোলার দিকে নতুন পথ তৈরিতে সাহায্য করবে যেখানে যথেষ্ট সংখ্যক মানুষ এই ভাইরাসের একটি ‘মৃদু সংস্করণ’তৈরি করে যা আরো ছড়িয়ে পড়ে এই মহামারীর সমাপ্তি ঘটাবে।

    গান্ধী এও বলেন যে- ‘বেশি মাত্রায় অ্যাসিম্পটোমেটিক ইনফেকশন একটি ভালো জিনিষ। ‘এটা যেমন ব্যক্তির জন্য ভাল তেমনি সমাজের জন্যও একটি উপকারী দিক হিসেবে গণ্য হবে।’

    বিজ্ঞানীর মতে করোনাভাইরাস অসংখ্য সূত্র (ক্লু) রেখে যাচ্ছে- বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অসম সংক্রমণ, যা মূলত শিশুদের উপর মৃদু প্রভাব ফেলছে। সম্ভবত সবচেয়ে বড় সুত্র হতে চলেছে অস্বাভাবিক বড় অনুপাতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই অ্যাসিম্পটোমেটিক অথবা মৃদু উপসর্গ যুক্ত। আর গত মাসে সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এণ্ড প্রিভেনশন এর অনুমান অনুযায়ী এই হার প্রায় ৪০%। যা সত্যিই ভাববার।

    এই সূত্রগুলো বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন দিকে গবেষণা করতে সহায়তা করছে: কেউ কেউ রিসেপ্টর কোষের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে, যা ভাইরাস কোনো শরীরে প্রবেশ করতে ব্যবহার করে। কেউ কেউ বয়স এবং জেনেটিক্স এ এই ভাইরাস কি ভূমিকা পালন করতে পারে তা আরো ভালোভাবে বুঝতে চাইছে। অন্যরা দেখতে চাইছেন যে মুখোশ ব্যবহার করার ফলে সেখানে এই ভাইরাসের যথেষ্ট ফিল্টার হচ্ছে কিনা, যে কারণে মাস্ক পড়ে থাকা মানুষদের মৃদু উপসর্গ ছিল অথবা কোন উপসর্গই ছিল না।

    সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যে তত্ত্ব সবচেয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে তা হচ্ছে যে আমাদের মধ্যেই চলাফেরা করা কিছু মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যেই আংশিক অনাক্রম্যতা এসে থাকতে পারে।

    আর একটি চমকে দেওয়ার মত তথ্য সামনে এসেছে যে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে বিশ্বের জনসংখ্যার একটি অংশের আংশিক সুরক্ষা আগে থেকেই হয়ত ছিল। এই বিষয়ে বিজ্ঞানীরা ‘মেমোরি’ টি সেল কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এই ‘টি’ সেল আমাদের ইমিউন সিষ্টেমের অংশ যা নির্দিষ্ট আক্রমণকারীদের চিনতে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। এটা শৈশবের আদর্শ টিকা থেকে উদ্ভূত ক্রস-প্রোটেকশন থেকেও তৈরি হয়ে থাকতে পারে। মঙ্গলবার ইন সায়েন্সে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে প্রস্তাব করা হয়েছে, এটি অন্যান্য করোনাভাইরাসের সাথে কোভি
    ড-১৯ এর আগের সাক্ষাতের বিষয়টি খুঁজে বের করতে পারে, যেমন সাধারণ ঠাণ্ডা লাগার জন্যে দায়ী করোনা ভাইরাস।

    এই প্রসঙ্গে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্থ ডিরেক্টর ফ্রান্সিস কলিন্স গত সপ্তাহে একটি ব্লগ পোস্টে মন্তব্য করেছেন যে- ‘এটা ব্যাখ্যা করতে পারে কেন কিছু মানুষ সম্ভবত এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করছে এবং তাদের গুরুতর অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও কেনো এত কম।’ সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের একজন গবেষক হ্যান্স-গুস্তাফ লুজংগ্রেন লুজুংগ্রেন বলেন, এটা “জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে খুব ভালো খবর”।

    করোনা ভাইরাসের এপিডেমিওলজির কিছু সাম্প্রতিক প্রবণতা এটাই প্রমাণ করে যে যেখানে সংক্রমণের হার কমে গেছে অনেকটাই এই যেমন সুইডেনে, সেখানে এখন ব্যাপক হারে লকডাউন বা মুখোশ পড়ে ঘুরে বেড়ানোর কারণ নেই বা মুম্বাইয়ের
    দরিদ্র এলাকায় যেখানে সংক্রমণের হার উচ্চ কিন্তু গুরুতরভাবে আক্রান্ত কম।

    যদিও অনেকেই বলছেন যে এতো দ্রুত এই ধরনের উপসংহার টানা ঠিক নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউসি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে যখন এই ধারণাগুলো গভীরভাবে অধ্যয়ন করা হচ্ছে, তখন এই ধরনের তত্ত্ব কোনো মানে রাখে না। তিনি বলেন, কিছু ব্যক্তির মধ্যে অন্তত কিছু আংশিক প্রাক-বিদ্যমান অনাক্রম্যতা থাকায় একটি সম্ভাবনা বলে মনে হচ্ছে।

    তিনি আরো বলেন যে কারো সংস্পর্শে আসা ভাইরাসের পরিমাণ – যাকে বলা হয় ইনোকুলম – ‘অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্ভাব্য ফ্যাক্টর’ যার উপর ভিত্তি করে আমরা অন্যান্য ভাইরাস সম্পর্কে জানি।

    কিন্তু ফাউসি সতর্ক করে দিয়েছেন যে তরুণ এবং সাধারণ স্বাস্থ্য সহ একাধিক সম্ভাব্য কারণ আছে- যা নির্ধারণ করে যে কোন বিশেষ ব্যক্তি এই রোগ থেকে দূরে সরে যাবে না এর ফলে মারা যাবে।তাঁর মতে, সামাজিক দূরত্ব, মুখোশ এবং অন্যান্য সতর্কতা অব্যাহত রাখার জন্য প্রয়োজনীয়তা এখনো ফুরায় নি।

    ওপরের এই গবেষণামূলক আলোচনাটি বোস্টন নির্ভর গ্লোব ডট কম এ গত ৮ তারিখ প্রকাশিত হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে আমাদের দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আমাদের দেশে সংক্রমিত ৬৫,২০৭ জন। মোট সংক্রমিত ২১,৫৬,৭৫৬ জন। এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৪.৮২ লক্ষ মানুষ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ৮৮০ জন। সুস্থতার হার বেড়ে ৬৮.৭৮%।

    Related Posts

    Comments

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    সেরা পছন্দ

    ফের বেসরকারিকরণের পথে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ! তালিকায় আর কোন কোন সংস্থা ?

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : ফের বেসরকারিকরণের পথে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা। এবার হিন্দুস্তান জিঙ্ক। দেশের বৃহত্তম ইন্টিগ্রেটেড জিঙ্ক প্রস্তুতকারী...

    ‘মাঙ্কিপক্স’ মোকাবিলায় কতটা প্রস্তুত ভারত ? কি বলছে বিশেষজ্ঞরা

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : করোনা মহামারির বিপদ কাটতে না কাটতেই শিয়রে অন্য বিপদ, ‘মাঙ্কিপক্স’ সংক্রমণ। WHO-র সাম্প্রতিকতম তথ্য...

    ত্রাতা সেই মুখ্যমন্ত্রী , নতুন ইনভেস্টর পেল ইস্টবেঙ্গল ক্লাব

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : ত্রাতা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ইনভেস্টর সমস্যা মিটে গেল ইস্টবেঙ্গলে। লাল-হলুদে ইনভেস্টর হিসাবে...

    করোনা মোকাবিলায় মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ বাইডেন , দুষলেন চীনকে

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : কয়েকদিন আগে WHO জানিয়েছিল, কোভিডে মৃতের সংখ্যা চেপে গিয়েছে ভারত। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো...

    আগামীকাল ভারত বনধের ডাক ! একাধিক দাবি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কর্মচারী ফেডারেশনের

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : আবারও ২৫ মে ভারত বনধের ডাক। ভোটে ইভিএম-র ব্যবহার বন্ধ সহ একাধিক বিষয়ে ভারত...