25 C
Kolkata
Monday, December 5, 2022
More

    বিপ্র-কুটিরের ‘পঞ্চম পাণ্ডব’ শিবদাস – নির্মলকুমার সাহা

    (‌আজ ২৯ জুলাই। ১৯১১ সালে এই দিনেই মোহনবাগান আই এফ এ শিল্ড চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়েছিল। মোহনবাগান দিবসে ‘‌অমর একাদশ’‌-‌এর অধিনায়ককে নিয়ে বিশেষ লেখা।)‌

    বিপ্রদাস-‌ভবতারিনীর ৬ ছেলে। হরিদাস, তুলসীদাস, দ্বিজদাস, রামদাস, বিজয়দাস ও শিবদাস। তুলসীদাস ছাড়া বাকি ৫ জনই ছিলেন ফুটবলার। ৫ জনই কোনও না কোনও সময়ে মোহনবাগানের হয়ে খেলেছেন। ১৯০৪ সালে কুচবিহার কাপ জিতেছিল মোহনবাগান। সেই দলে ৫ ভাই-‌ই ছিলেন। কোথাও কোথাও অবশ্য ৪ ভাইয়ের কথা লেখা আছে। তা যাই হোক, সেটা আলোচনার বিষয় নয়। এই লেখার বিষয় ১৯১১ সালে মোহনবাগানের ঐতিহাসিক আই এফ এ শিল্ড চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক শিবদাস ভাদুড়ি।

    বিপ্রদাসদের আদি বাড়ি ছিল ওপার বাংলার ফরিদপুর জেলার কোঁড়কদি গ্রামে। সেখানেই শিবদাসের জন্ম ১৮৮৫ সালে। শিবদাসের যখন শৈশব, শ্যামবাজারের ৪ নম্বর কালাচাঁদ সান্যাল লেনে বাড়ি কিনে বিপ্রদাস পরিবার নিয়ে চলে আসেন এপার বাংলায়। যে বাড়ির নাম হয় ‘‌বিপ্র-‌কুটির’‌।

    বিপ্রদাসের বড় ছেলে হরিদাসের মাধ্যমেই ভাদুড়ি বাড়িতে ফুটবলের প্রবেশ। একদা তিনি ছিলেন মোহনবাগানের নিয়মিত ফুটবলার। তাঁকে দেখেই অন্য ভাইরা ফুটবলে এসেছিলেন। ওই সময় ভাদুড়ি বাড়ির ৫ ফুটবলার ভাইকে বলা হত ‘‌মোহনবাগানের পঞ্চপাণ্ডব’‌। পাড়ার লোকেরা বলতেন ‘‌বিপ্র-‌কুটিরের পঞ্চপাণ্ডব’‌। বিপ্র-‌কুটিরের সেই পঞ্চপাণ্ডবের শেষ জন বা ‘পঞ্চম পাণ্ডব‌’‌ হলেন শিবদাস। দাদারা যখন ময়দানে ফুটবল খেলতে যেতেন, প্রথমদিকে তাঁদের জামা, কাপড়, ব্যাগ পাহাড়া দেওয়ার কাজ ছিল ছোট শিবদাসের। কিন্তু পরবর্তীতে দাদাদের টপকে তিনিই হয়ে উঠেছিলেন সেরা। ফুটবলের প্রাথমিক শিক্ষা দাদাদের কাছেই পেয়েছেন। কিছুদিন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন স্যার দুখীরাম মজুমদারের কাছেও। শোনা যায়, স্যার দুখীরামের কোচিং পদ্ধতি ভালো না লাগায় বেশিদিন তাঁর কাছে যাননি। পরে দাদাদের পথ ধরেই যোগ দেন মোহনবাগানে। ফুটবলের প্রতি তিনি এতটাই আন্তরিক ছিলেন যে ময়দানে নিয়মিত প্র‌্যাকটিস করা ছাড়াও নিজের খেলার উন্নতির জন্য বাড়ির ছাদেও নানারকম কৌশল রপ্ত করতেন। নতুন নতুন কৌশল শেখার জন্য তিনি মাঝেমধ্যেই ময়দানে সাহেবদের অনুশীলন দেখতে যেতেন। একদিন ময়দানে গোরাদের একটি দলের অনুশীলনে দেখেছিলেন সাহেবরা পরপর একধরনের খুঁটি সাজিয়ে রেখে ড্রিবলিং প্র‌্যাকটিস করছেন। শিবদাসের ওই পদ্ধতিটা খুব ভালো লেগে গেল। এরপর শুরু হয়ে গেল বাড়ির ছাদে ড্রিবলিং অনুশীলন। কিন্তু ছাদে তো আর খুঁটি পোতা সম্ভব নয়। অগত্যা খুঁটির ভূমিকায় দেখা গেল বাড়ির সব ফুলের টবকে। ছাদে একটু একটু ব্যবধানে ফুলের টব রেখে তার ভেতর দিয়ে শুরু হল শিবদাসের ড্রিবলিং অনুশীলন। মাঠে শরীরের ভারসাম্য ঠিক রাখতে বাড়ির চাতালে জল ঢেলে দাদা বিজয়দাসকে সঙ্গে নিয়ে স্কিপিং করতেন।

    শিবদাসের ছোটবেলার বন্ধু ছিলেন জ্যোতিষচন্দ্র সেন। তিনি মাঝেমধ্যেই ইংল্যান্ডে যেতেন। শোনা যায়, তিনি ওখান থেকে শিবদাসকে এনে দিয়েছিলেন ফুটবলের কলাকৌশল শেখার একটি বই। সেই বই পড়েও ফুটবলের নানা কৌশল রপ্ত করেছিলেন শিবদাস। ১৯১১ সালে মোহনবাগানের সেই শিল্ড জয়ে প্রতিটি খেলাতেই শিবদাস সেসব কৌশল কাজে লাগিয়েছিলেন নিপুণভাবে। ২৯ জুলাই ফাইনালে দ্বিতীয়ার্ধের ১৫ মিনিটে গোল খেয়ে মোহনবাগান পিছিয়ে পড়েছিল। অধিনায়ক শিবদাসই গোল করে সমতা ফিরিয়েছিলেন। পরে শিবদাসের পাস থেকে বল পেয়ে জয়সূচক গোল করেছিলেন অভিলাষ ঘোষ। ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টকে ২-‌১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মোহনবাগান। চ্যাম্পিয়ন দলের গোলকিপার ছিলেন হীরালাল মুখার্জি। অনেক পরে তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেনন, ‘‌শিবদাস না থাকলে মোহনবাগান ১৯১১-‌তে শিল্ড পেত কিনা সন্দেহ। .‌.‌.‌.‌ ভারতীয় ফুটবলকে আজ যদি বিরাট এক বৃক্ষ বলে মনে করা হয়, তাহলে শিবদাসকে মানতে হবে সেই মহীরূহের শিকড়রূপে। অন্য দক্ষ খেলোয়াড়রা হলেন সেই বৃক্ষেরই ডালপালা।’‌

    শিবদাস শুধু নিজে খেলতেন না, আক্ষরিক অর্থেই ছিলেন ক্যাপ্টেন। জানতেন, পুরো দলটাকে কীভাবে চাঙ্গা রাখতে হয়। হীরালালের সেই সাক্ষাৎকারের আরেকটি অংশ তুলে ধরলে সেটা আরও পরিস্কার হবে, ‘‌ফাইনালে ইস্ট ইয়র্ক যখন আমাদের বিপক্ষে প্রথম গোল করে তখন গোলরক্ষক হিসেবে আমি বেশ মুষড়ে পড়েছিলাম। উৎসাহ দিতে শিবদাসই আমার কাছে এসে বলে, ঘাবড়াসনি, গোল শোধ করে দিচ্ছি। যেমন কথা, তেমনি কাজ। মিনিট কয়েকের মধ্যেই একার চেষ্টাতেই শিবদাস ইস্ট ইয়র্কের তাবড় গোলরক্ষক ক্রেসিকে ঠকিয়ে দিল দুরূহ কোণ থেকে শট করে। ‌তারপর আবার সেই শিবদাসই জনা কয়েককে কাটিয়ে একেবারে ফাঁকায় অভিলাষের পায়ে বল জুগিয়ে দিলে অভিলাষ দ্বিতীয় বা শেষ গোলটি করে। সত্যি কথা বলতে কী, ১৯১১ সালে আমাদের দলকে শিল্ড জিতিয়েছিল দলপতি শিবদাসই।’‌

    বাংলার ১৩৫৫ সনে ‘‌ভারতী’‌ পত্রিকায় সেই শিল্ড ফাইনাল নিয়ে জয়সূচক গোলদাতা অভিলাষ ঘোষের একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছিল। অভিলাষ লিখেছিলেন, ‘‌‘ ‌.‌.‌.‌.‌ আমরা পেলাম শিবদাসের অপূর্ব প্রতিভার আশ্চর্য পরিচয়। শিবদাস বল পেয়েই তা নিয়ে কানুবাবুর (‌রাইট আউট)‌ পজিশনে চলে যান এবং এগোতে থাকেন। তিনি বিদ্যুৎ গতিতে বল নিয়ে এগিয়ে যান ও লেফট ব্যাককে কাটিয়ে সোজা গোলে এমন শট করেন, যা ক্রেসির ন্যায় গোলরক্ষকও ধরতে পারেন না। ঐ গোলটি সত্যি ছিল অধিনায়কের দেওয়া উপযুক্ত গোল।’‌’‌

    ওই লেখারই আরেকটি অংশ, ‘‌‌‘‌যাঁরা ফুটবল খেলা দেখেছেন, কিন্তু শিবদাস ভাদুড়ীর খেলা দেখেননি, তাঁদের ভাগ্য যে খুবই খারাপ তা আমি বলতে দ্বিধা বোধ করছি না। শিবদাস ছিলেন প্রতিভাবান খেলোয়াড় ও তাঁকে ’‌জাদুকর’‌ বললেও বেশী বলা হয় না। মোহনবাগানের সেদিনের জয়লাভের পিছনে তাঁরই অবদান ছিল সবচেয়ে বেশী।.‌.‌.‌.‌তিনি যে কখন কিভাবে খেলবেন তা বোঝা শক্ত ছিল। তাঁর বল কন্ট্রোল ছিল দেখবার মতো এবং পায়ে ছিল জোরালো সট।’‌’‌

    ‘‌অমর একাদশ’‌-‌এর আরেক খেলোয়াড় সুধীর চ্যাটার্জি বারবার বলেছেন, শিবদাস ভাদুড়ির মতো দক্ষ খেলোয়াড় তিনি কলকাতার মাঠে দেখেননি। ১৯৫৬ সালে প্রদেশ কংগ্রেস গুণীজন সংবর্ধনা দিয়েছিল। পুরনো খবরের কাগজের পাতা থেকে জানা যায়, সেই সংবর্ধনার আসরে সুধীর চ্যাটার্জি বলেছিলেন, ‘‌একাল ও সেকাল, এদেশীয় ও বিদেশী খেলোয়াড়দের দিকে দৃষ্টি রেখেই বলছি যে, শিবদাস ভাদুড়ীর মতো দক্ষ ফুটবল খেলোয়াড় আমি কলকাতার মাঠে আর দেখিনি। অননুকরণীয় তাঁর ক্রীড়াভঙ্গী, তিনি অনন্য।’‌

    ১৯১১-‌তে মোহনবাগান যখন শিল্ড চ্যাম্পিয়ন হয়, ‘‌চীনের প্রাচীর’‌ গোষ্ঠ পাল তখন কিশোর। মাঠে গিয়েছিলেন ফাইনাল খেলা দেখতে। বৃদ্ধ বয়সে গোষ্ঠ পাল লিখেছেন, ‘‌‘‌নিজের জীবনের অনেক খেলার স্মৃতিই ঝাপসা হয়ে এসেছে। কিন্তু মাত্র পনের বছর বয়সে দু-‌আনা ভাড়া দিয়ে অপরের সহযোগিতায় কাঠের বাক্সে দাঁড়িয়ে সেদিন যে শিবদাসবাবুর গোল দেওয়া দেখেছিলাম, সে ছবি আজও জ্বল জ্বল করছে মনের পর্দায়।’‌’‌

    ১৯০৫ সালে চুঁচুড়ায় মোহনবাগানের প্রথম গ্লাডস্টোন শিল্ড জয়েও শিবদাসের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ফাইনালে মোহনবাগান ৫-‌০ গোলে হারিয়েছিল সেবারের আই এফ এ শিল্ড চ্যাম্পিয়ন ডালহৌসিকে। যার মধ্যে ৪ টি গোল ছিল শিবদাসের। আরও পরে কলকাতা ফুটবল লিগে মোহনবাগানকে দ্বিতীয় ডিভিশন থেকে প্রথম ডিভিশনে তুলতেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন শিবদাস। ১৯১৫ সালে প্রথম ডিভিশনে খেলা শুরু করে মোহনবাগান। তার আগের বছর দ্বিতীয় ডিভিশন লিগে প্রতিটি খেলাতেই শিবদাস ছিলেন রাজার ভূমিকায়। গোল করেছিলেন ১০ টি।

    শিবদাস ছিলেন লেফট আউট। কিন্তু দলের প্রয়োজনে আক্রমণভাগের যে কোনও পজিশনেই খেলতে পারতেন। ‘‌অমর একাদশ’‌-‌এ পাশে লেফট ইন ছিলেন তাঁর দাদা বিজয়দাস। দু’‌জনে অনেকটা একইরকম দেখতে ছিলেন। ফলে সাহেব খেলোয়াড়রা অনেক সময়ই দুই ভাইকে চিনতে ভুল করতেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের মধ্যে জায়গা বদল করে প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করতেন ওঁরা।

    ১৯১৭ সাল পর্যন্ত মোহনবাগানের হয়ে খেলেছেন শিবদাস। কলকাতা কর্পোরেশন তাঁর সম্মানে ১৯৬০ সালে ফড়িয়াপুকুর স্ট্রিটের নাম পাল্টে করে শিবদাস ভাদুড়ি সরনি। ১৯৯৩ সালে আই এফ এ-‌র শতবর্ষে তাঁর স্মরণে হয়েছিল শিবদাস ভাদুড়ি ট্রফির খেলা। মরণোত্তর মোহনবাগান রত্ন ২০০৩ সালে।

    কেমন ফুটবলার ছিলেন শিবদাস?‌ প্রয়াত বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক অজয় বসুর একটি লেখা থেকে কিছুটা তুলে ধরছি, ‘‘‌‌শিবদাস দৌড়তে পারতেন ঝড়ের বেগে। কিন্তু ক্ষিপ্রতার জন্য নয়, আসলে বুদ্ধির জোরেই তিনি বিপক্ষের চোখে অবলীলাক্রমে ধুলো দিতে পারতেন। শিবদাস মাঠে থাকলে বিপক্ষের রক্ষণ ব্যবস্থা তাঁকে আগলাবার জন্য চতুর্দিক থেকে বেড়াজাল ছড়িয়ে রাখতো। কিন্তু তবুও তাঁর পক্ষে এই বেড়াজালের ফাঁক-‌ফোকরগুলো খুঁজে নেওয়া কষ্টকর হোতো না। কখন কোন ফাঁকে তিনি জায়গা বদলে অন্যত্র চলে গিয়ে গোল করে বসতেন তা বুঝেও বুঝতে পারতো না অপরে। তাঁর ফাঁকি দেওয়ার কৌশল দেখে সেকালের সাহেব-‌সুবোরা বলতো‌ ‘‌শ্লিপারি শিবদাস’‌। অর্থাৎ পাঁকাল মাছের মতোই যেন তিনি কেবলই পিছলিয়ে যেতেন। দুরূহ কোণ থেকে গোল করে অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলার কৌশল ছিল তাঁর আয়ত্বে। যেখান থেকে সাধারণত গোল করা যায় না সেখান থেকে তিনি বারবার গোল করে সকলকে চমকে দিতেন।’‌’

    মোহনবাগানের সেই প্রথম আই এফ এ শিল্ড জয়ের বছরেই ‌বিপ্র-‌কুটিরের ‘‌প্রথম পাণ্ডব’‌ হরিদাসের মেয়ে তারাসুন্দরীর জন্ম। কয়েকবছর আগে তারাসুন্দরীর ছেলে অচিন্ত্য চক্রবর্তী একটি বই লিখেছেন। নাম ‘‌শিবদাস ভাদুড়ী এবং পঞ্চপাণ্ডবের ঘর’‌। অচিন্ত্যর লেখা বইটি আসলে তাঁর মায়ের চোখে ‘‌বিপ্র-‌কুটির’‌-‌এর অন্দরমহল। মহাতারকা ছোটকাকা শিবদাসকে তারাসুন্দরী দেখেছেন খুব কাছ থেকে। যেমন ছোটকাকা সম্পর্কে তারাসুন্দরী বলেছেন, ‘‌.‌.‌.‌.‌আমার ছোটকাকা শিবদাস ভাদুড়ী এ দেশের ফুটবলের দুনিয়ায় এক নম্বর নাম। তাঁর খেলা দেখিনি ঠিকই কিন্তু তা নিয়ে শুনেছি অনেক। লেখাজোখা তাঁকে নিয়ে কি কম হয়েছে?‌ .‌.‌.‌.‌ ‌শিবেকাকা ছিলেন একটু বেশী লম্বা (‌৬ ফুট তো বটেই)‌, লিকলিকে ও ফরসা। .‌.‌.‌.‌ ছিলেন পশুর ডাক্তার এবং ইন্সপেক্টরও বটে। কম কথা বলতেন তিনি। বাড়ির জগদ্ধাত্রীপুজোয় বরাবর তিনি একটা কাণ্ড করতেন, তা এবার বলব। প্রথমে বলে রাখি মানুষ শিবদাস মোটেও হিংস্র প্রকৃতির ছিলেন না। বরং তাঁর মতো উদার মনের মানুষ ভাদুড়ী বাড়িতে মানানসই ছিল। পুজো উপলক্ষে যে পাঁচটি পাঁঠা বলি দিতেন ফুলকাকা (‌রামদাস)‌ তার পঞ্চমটি রাখা হত সাদা রঙের। বলিদানের পর সেই সাদা পাঁঠাটির ধড়টির ঠ্যাং ধরে শূন্যে পাঁই পাঁই করে ঘোরাতেন শিবেকাকা। চতুর্দিকে ছিটিয়ে পড়ত সেটির রক্তের ছিটে। হৈ চৈ পড়ে যেত, বদ্যি সপ্তমে বেজে উঠত। কিছুক্ষণ পরে শিবেকাকা শান্ত হতেন। শিবেকাকার স্বয়ং শিবের মত এই ক্ষ্যাপা নৃত্যের কারণটা কী?‌ সাদা-‌পাঁঠা বলি আসলে তাঁর কাছে ছিল ইংরেজ-‌নিধন যজ্ঞ। দুঃশাসনের রক্তস্নানে তিনি শান্ত হতেন। গোরাদের সঙ্গে ফুটবল খেলাতেও শুনেছি তিনি নির্ভয়ে বুটের সঙ্গে খালি পায়ে লড়াই করতেন, চিতাবাঘের মত ঝাঁপিয়ে পড়ে গোল করে আসতেন। তিনি শুধু খেলোয়াড় ছিলেন না, ছিলেন দেশপ্রেমিক সৈনিক।’‌

    তিনি আরও বলেছেন, ‘‘‌‌ছোটকাকার খাতিরে মনীষীদেরও চোখের দেখা পেয়েছি। অসুস্থ ও চোট পাওয়া ছোটকাকাকে চিকিৎসা করতে আসতেন সদা হাস্যময় ডাঃ বিধান রায়। মিনার্ভার বক্সে বসে ‘‌আত্মদর্শন’‌ নামে একটা থিয়েটার দেখার সুযোগ হয়েছিল ছোটকাকারই খাতিরে। .‌.‌.‌.‌মাঝে মাঝে টেনিস খেলতে যেতেন ছোটকাকা, শুনেছি ভালই খেলতেন। তবে নিজের চোখে তাঁকে একটা খেলাই খেলতে দেখেছি। বৈঠকখানায় বসে সুন্দর সুন্দর ঘুঁটি দিয়ে দাবা খেলতেন।’‌’‌

    মাত্র ৪৭ বছর বয়সে, ১৯৩২ সালের ‌২৬ ফেব্রুয়ারি জীবনাবসান হয়। অসুস্থ ছিলেন। হয়েছিল যক্ষ্মা। শরীর, স্বাস্থ্য ভালো করতে গিয়েছিলেন পুরীতে। সেখানে গিয়ে আবার ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন। পুরীতেই মারা যান শিবদাস।   

    Related Posts

    Comments

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    সেরা পছন্দ

    নজিরবিহীন ঘটনা , অশোকনগরে বৃদ্ধ দম্পতির ঘরে জন্ম নিল ফুটফুটে সন্তান

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : স্বামীর বয়স প্রায় ৭০ বছর আর তার স্ত্রীর বয়সও পঞ্চাশের বেশি। বৃদ্ধ এই দম্পতির...

    বাজিমাত করল ভারতীয় অর্থনীতি , অনেক পিছিয়ে চীন

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : ফের বাজিমাত করল ভারতীয় অর্থনীতি। সরকারি ভাবে প্রকাশিত হল চলতি অর্থবর্ষের দ্বিতীয় কোয়ার্টারের বৃদ্ধির...

    গুজরাটে ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে বিজেপি , উত্থান আপের ! বলছে বিভিন্ন রিপোর্ট

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করবে BJP। প্রাক নির্বাচনী সমীক্ষা রিপোর্ট জানাচ্ছে, দুই...

    রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য সুখবর , বড়দিনে বাড়তি মিলবে ছুটি

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : বড়দিনে বড় আনন্দ। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বিরাট সুখবর। ২৬ ডিসেম্বরও ছুটি পাবেন রাজ্য...

    বঙ্গে শক্তি প্রদর্শনে RSS ! লম্বা সফরে মোহন ভাগবত

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : ৫ বছর পরে কলকাতায় প্রকাশ্য সমাবেশ করতে চলেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ। আগামী ২৩ জানুয়ারি...