29 C
Kolkata
Monday, October 3, 2022
More

    আজ পশ্চিমবঙ্গ দিবস ! বাঙালি হিন্দুর গরিমার দিন

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো :

    আজ বাঙালি হিন্দুরা যে নিজেদের ভারতীয় বলে পরিচয় দিতে পারে তার পেছনে রয়েছে বিরাট ইতিহাস। আজ অর্থাৎ ২০ জুনের তাৎপর্য এই ইতিহাসকে কেন্দ্র করেই। বাঙালি হিন্দু গরিমার পুনরুত্থানের দিন এই ২০ জুন। অনেক রক্তক্ষয় সংগ্রামের ফসল আজকের পশ্চিমবঙ্গ। আজ বাঙ্গালীর ভারতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার দিন। কিন্তু বাঙ্গালা ও বাঙ্গালী আজ খণ্ডিত। কিন্তু কেন খণ্ডিত ?

    ১৯৪৬ সাল, ৯ই আগস্ট বোম্বাই থেকে আওয়াজ দিলেন জিন্না, “প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস” বা ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে পালনের। যদিও হিন্দু মহাসভার গোপাল মুখার্জি, যুগল ঘোষদের অসামান্য বীরত্বের সামনে মুসলিম লীগ পর্যুদস্ত হয় ও কলকাতা বেঁচে যায়। কলকাতাকে দখল করতে না পারার ব্যর্থতায় জ্বলতে থাকা মুসলিম লীগ প্রতিশোধ নিতে পূর্ববঙ্গের নোয়াখালীতে ঠিক আর দুই মাস বাদেই শুরু করে হিন্দু গণহত্যা। কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার দিনটি বেছে নেয় তারা। গ্রামের হিন্দু মহাসভার নেতা রাজেন্দ্রলাল রায়কে হত্যা করা হয়, ধর্ষণ করা হয় গ্রামের মেয়েদের। পা দিয়ে মুছে দেওয়া হয় সিঁথির সিঁদুর। আক্রমণের তালিকায় ছিলো নমশূদ্র, কৈবর্ত সম্প্রদায়ের মানুষেরা।

    হত্যাকাণ্ডের বীভৎসতায় বিচলিত হয় বাংলার বাঘ স্যার আশুতোষ মুখার্জির সুযোগ্য পুত্র হিন্দু মহাসভার নেতা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি গঠন করেন বেঙ্গল পার্টিশন লীগ। ১৯৪৭ সালে হুগলী জেলার শৈবপীঠ তারকেশ্বরের সভা ডাকে হিন্দু মহাসভা। সভার বিষয় বাঙালি হিন্দুর পৃথক হোমল্যান্ড বা পশ্চিমবঙ্গ গঠনের রূপরেখা প্রতিষ্ঠা। লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার সোমনাথ চ্যাটার্জির পিতা নির্মলচন্দ্র চ্যাটার্জি ছিলেন সভাপতির আসনে। তিনি বলেছিলেন, “বাংলা ভাগ বাঙালি হিন্দুর কাছে জীবন-মরণের প্রশ্ন”।

    তারকেশ্বর সভায় ছিলেন আজাদ হিন্দ ফৌজের এপ্রিলের আগে মার্চ মাসে কলকাতার এক সভায় শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বাঙ্গালা ভাগ এবং বাঙ্গালী হিন্দুর পৃথক হোমল্যাণ্ডের স্বপক্ষে বক্তব্য রাখেন। ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন সেই প্রস্তাব সমর্থন করেন। উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, কৃষক নেতা এবং নেতাজির বাল্যবন্ধু হেমন্ত সরকার এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী মিলে তৈরী করেন “বেঙ্গল পার্টিশন লীগ”। ইতিহাসবিদ যদুনাথ সরকার, উত্তরবঙ্গের তপশিলি নেতা প্রেমহরি বর্মণ এবং মতুয়া মহাসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা প্রমথরঞ্জন ঠাকুররা ছিলেন সম্পূর্ণ সমর্থনে। বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক দলের সাংসদ বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা, ড: রমেশ চন্দ্র মজুমদারদের মতন ব্যক্তিত্বরাও।

    এরপর, সর্বদল সমর্থিত প্রস্তাবটি বঙ্গীয় বিধানসভায় যথাক্রমে ৫৮ ও ২১ ভোটে পাস হয়। গৃহীত হয় বাঙালি হিন্দুর হোমল্যান্ড — পশ্চিমবঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হন প্রফুল্ল চন্দ্র ঘোষ। ডঃ যদুনাথ সরকার পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পরেই এক বিখ্যাত মন্তব্য করেছিলেন যা বর্তমান ইজরাইলের সাথে তুলনা দেওয়া চলে।

    Related Posts

    Comments

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    সেরা পছন্দ

    বদলে যাচ্ছে ট্রেনের টাইমটেবিল

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : ভারতে দু’কোটি ২৩ লক্ষ মানুষ প্রতি দিন ট্রেনে যাতায়াত করেন। কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য লোকাল,...

    চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণাবর্ত , বৃষ্টিতে ভিজবে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণাবর্ত। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, ওই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে সপ্তমী থেকেই দক্ষিণবঙ্গে বাড়তে পারে...

    খাড়্গে বনাম থারুর , জমজমাট কংগ্রেস সভাপতি পদের লড়াই

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : সরকারিভাবে কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচন হয়ে গেল দ্বিমুখী। ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মন্ত্রী কে এন ত্রিপাঠির মনোনয়নপত্র...

    মুস্তাক আলি ট্রফিতে বাংলা দলে বিশ্বকাপজয়ী বোলার দলে নেই অভিজ্ঞ ব্যাটার মনোজ, অনুষ্টুপ

    দ্য ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : ১১ অক্টোবর থেকে শুরু সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির দল ঘোষণা করল বাংলা। ক্রিকেটে...

    গল্‌ফ মঞ্চে বিশ্বকাপজয়ী কপিল-‌ধোনি

    দ্য ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : গুরগাঁওয়ে আমন্ত্রণীমূলক গল্‌ফের মঞ্চে প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক কপিল দেব ও মহেন্দ্র সিংহ ধোনি।...