28 C
Kolkata
Saturday, June 25, 2022
More

    রামে নেই বিলাসে ছিলেন,দলিত রাজনীতির স্বপ্নরথী,এক ভোটে ফেলেছিলেন বাজপেয়ীকে- দেবারুণ রায়

    বিহার রাজনীতির মুষলপর্বে ত্রিমূর্তির একজন আচমকাই প্রস্থান করলেন রঙ্গমঞ্চ থেকে। তিনি রামবিলাস পাসোয়ান। দলিত রাজনীতির এমন এক রং ছড়ানো মানুষ যাঁকে একটাই মাত্রায় বাঁধা যায় না। বৈপরীত্যে ভরা বহুমাত্রিক মানুষ। আদর্শের মৌল প্রখর হলেও আদর্শবাদিতা থেকে দূরে প্রকৃত প্র্যাগমাটিজম যাকে বলে তারই প্রতিকৃতি। কিন্তু লোহিয়াবাদী সমাজবাদের পাঠশালাটি ছিল উজ্জ্বল নক্ষত্রের ছায়পথ । তাই পোক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আজীবন পেশাদার রাজনীতিকের দক্ষ দিশায় পথ খুঁজেছেন। জাগতিক অর্থে সাফল্যের পদচুম্বন করে মৃত্যুর সময়েও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী । কিন্তু “কীর্তির্যস্য স জীবতি” আপ্তবাক্য তাঁর অধরাই থেকে গেছে। একটা মানুষ যদি জহুরির জাতব্যবসা ছেড়ে মহাজনী সুদের কারবার করে। কীর্তির পরমার্থ ছেড়ে অর্থহীন অর্থ খোঁজে জীবনের, তাহলে তার শেষটা আর অশেষ হয়না। সমাপ্তির পথে যায়। পাসোয়ানজির পরিণতিও তাই। অসামান্য শুরু। কিন্তু শেষের সেদিনে কোনও উদয়ের পথ নেই। মেরুকরণের মতে সায় দিতে দিতে মেরুদণ্ডে কি ভীষণ গ্লানি !

    রামবিলাসের টিকে থাকার রাজনীতিবিলাস যখন তাঁকে ইন্দিরা ও রাজীব জমানার অনমনীয় লড়াকু দৃপ্ত যুবনেতা থেকে ক্রমাগত ক্ষয়িষ্ণু সমঝোতার চুক্তিতে উপনীত করেছে, তিনি প্রৌঢ় ও বৃদ্ধ হয়েছেন । জীবনের প্রথম শ্লোগান ছিল, “যে ঘরে শতাব্দীর জমাট অন্ধকার, আমি সেই ঘরে চিরাগ জ্বালতে এসেছি। শতাব্দীর অন্ধকার দূর করতেই এই রাজনীতির সফর।” কিন্তু মাঝপথে সেই পথ হারিয়ে রাজনীতির রং বদলে ময়ূরপুচ্ছধারি কাক। কোথায় মাণ্ডার রাজা প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনাথপ্রতাপ সিংয়ের মণ্ডল রাজনীতির মাস্তুলে বসে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রামবিলাস পাসোয়ান, আর কোথায় বাজপেয়ীর এনডিএ জমানার যোগাযোগ মন্ত্রীর কর্পোরেট কেতা। মধ্যে কিন্তু ওই ভিপির আলোতেই আলোকিত। দেবগৌড়ার রেলমন্ত্রী। এমন এমন যুগান্তকারী দিশা যা অভাবনীয়, অভিনব, নতুন পথ। কাশ্মীরে রেল নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ও বাজেট বরাদ্দ। ত্রিপুরার কুমারঘাটে রেল ফ রেল স্টেশনের কুলিদের জন্যে বিশেষ সুবিধা প্রকল্প। আরও কতো কী। ক’টা আঁধার ঘরে আর চিরাগ জ্বালতে পেরেছেন? যদিও সেটা স্বপ্ন ছিল।

    ছেলের নাম রেখেছিলেন চিরাগ। এটাও ছেলের নাম বিপ্লব রাখার মতো। উপনিষদ পড়া হলনা বলেও একাজ করেছে কেউ কেউ। অধরা স্বপ্নের একটা রিক্যুইজিশন। সেই চিরাগ বড় হল যখন তখন সেই হাজিপুরের চারলাখি রামবিলাসের লাশটাই শুধু রয়েছে। মন মরে গেছে। তখন সাংবাদিকরা তাঁকে বলে হাওয়া মোরগ। একজন পরিবর্তনকামী নির্ভেজাল চর্মজীবীর ঘর থেকে উঠে আসা, নিজের বুকের পাটার জোরে, ছাতির ইঞ্চি মেপে নয়, বিহারের মতো জাতের ঘরে মাথা তুলে দাঁড়ানো মানুষটা কিন্তু তবু যেমনভাবে চলেছিলেন তেমনি থেকে গেলেন। অথচ তিনি মীরা কুমার বা মায়াবতী এই দুই ধারার কোনও ধারাতেই নন। এবং শুধু একটা কথা বলতেই হবে। পাসোয়ানের ময়ূরপুচ্ছের সমর্থক নই। কিন্তু প্রশ্ন যদি নৈতিক অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক দুর্নীতির হয় তাহলে তথাকথিত উঁচুজাতের ক’জন নেতাকে দুর্নীতির কারণে দাগী হতে হয়েছে আমাদের দেশে ? আইনের আওতায় না ঢুকেও বলা যায় লালু যাদব ও জগন্নাথ মিশ্র একই ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত হলেও বামুন ঠাকুর জগন্নাথের নামে বিষোদ্গার করে কে?

    বাজপেয়ী জীর সাথে

    এতো গেল জাতের ব্যপার। নৈতিকতাও কী জাত দেখে হয়। আর দ্বিতীয় বিষয় হল রাজনীতির রঙ। দিনের শেষে কে কোথায় দাঁড়িয়ে। কোন মেরুতে। মেরুকরণটাই শেষ কথা। মেরুদণ্ড নয়। কারণ রঙ বদলায় রঙ বদলায়। ক্ষমতার দুরন্ত ঘূর্ণিতে দুনিয়া ঘোরে বনবন বনবন। ছন্দে ছন্দে কত রঙ বদলায়। বাংলা দিয়েই ভাবা যেতে পারে। শিবির বদল শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ছিল, তবে কম ছিল। এখন রন্ধ্রে রন্ধ্রে। কিন্তু প্রসঙ্গ যখন পাসোয়ান তখন বিহার নিয়েই ইতিহাসে তাকানো যাক। লালু যাদব, রামবিলাস পাসোয়ান আর নীতীশ কুমার একই দল থেকে পরিচিত হয়েছেন। তিনজনের দারুণ ঘনিষ্ঠতা ছিল একদা। তিনজনই তিন জমানায় রেলমন্ত্রী হয়েছেন। এরমধ্যে দল ভাঙার সূচনা করেন নীতীশকুমার। শুধু দল নয়, শিবিরও পরিবর্তন করেন। জর্জ ফার্নান্ডেজের হাত ধরে সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী শিবির থেকে সরাসরি সমতা পার্টি গঠন করে বিজেপির মিত্র হন। শিবসেনা ও অকালি আগেই আঞ্চলিক দল ছিল। তারা এনডিএর প্রথম শরিক। কিন্তু আডবাণীর তত্ত্ব ছিল ধর্মনিরপেক্ষ শিবিরের সঙ্গে পাঞ্জা কষতে হবে আঞ্চলিক দলগুলোকে বন্ধু করে। যেখানে কেউ নেই সেখানে অন্য বড় দল ভেঙে। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তারা দল ভাঙিয়ে সরাসরি লোক টানে। তাদের নাম আয়ারাম গয়ারাম। কিন্তু আডবাণী যে তত্ত্ব খাড়া করলেন তাতে বিজেপির জাত গেল না এবং পেটও ভরল।

    এই কৌশলেই হিন্দি বলয়ের বেশ কিছু রাজ্যে এবং ওড়িশা ও বাংলায় পা রাখার জায়গা পেল বিজেপি। দুর্বল হল কংগ্রেস। উঠে গেল জনতাদল। দক্ষিণ বাংলায় কংগ্রেসের ধমনীর রক্ত বহে গেল তৃণমূলে। ওড়িশায় কং বিজেপি বিরোধিতার সবটা নির্যাস নিয়ে জনতাদলের নাম-নিশান নিশ্চিহ্ন করে বিজেপির হাত ধরল বিজেডি। এই রাজনীতির সৃজন আডবাণীজির হলেও সেই প্রচ্ছন্ন রামরথের সারথী ছিলেন জর্জদাদা। বিহার এই প্রথম পথ দেখাল বাংলা আর ওড়িশাকে। এনডিএর কনভেনর জর্জ ফার্নান্ডেজের প্রভাবে বাংলা তখন জর্জরিত। অতীতে ‘৭৪ আর ‘৭৭-য়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সারাদেশের উত্তাল আন্দোলনে জর্জ ছিলেন ঝড়ের পাখি। কমিউনিস্টরা মতাদর্শের বড় অমিল সরিয়ে রেখে জর্জের দলের সঙ্গে বৃহত্তর ঐক্য গড়েছিলেন। আর কংগ্রেসের সমর্থিত যুক্তফ্রন্ট সরকার ভেঙে যাওয়ার পর ‘৯০ দশকের শেষে জর্জদাদা বাংলায় এলেন অন্য কলেবরে। এবং সাফল্য তাঁর হাত চুম্বন করল।

    জর্জসাবকে মজঃফরপুরে জায়গা দিয়েছিলেন লালু। সাম্প্রদায়িকতা সম্পর্কে জর্জের নরমপন্থায় ক্ষুব্ধ থেকেও ওঁর প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। রামবিলাস কিন্তু জর্জের রাজনীতির সবচেয়ে বেশি বিরোধী ছিলেন জনতাদলের ভেতরে। কংগ্রেস বিরোধিতার রাজনীতি প্রাসঙ্গিকতা হারালেও জর্জের লাইন ছিল কংগ্রেস বিরোধী ও বিজেপি ঘেঁষা। আডবাণীর সঙ্গে মধুরতম সম্পর্ক ছিল তাঁর। ডাকতেন “লালজী।” আডবাণীর পছন্দের জনতানেতা নীতীশকেও দল ছাড়ালেন জর্জ। এবং কালক্রমে কট্টর সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী ভাবমূর্তির দাবিদার রামবিলাসও পা গলালেন নীতীশের গেরুয়া জুতোয়। নীতীশ ও জর্জকে প্রকাশ্য আক্রমণেও পিছপা হতেন না রামবিলাস।

    এই ত্রয়ীর ভেতরে রামবিলাসের তুলনামূলকভাবে ভাল সম্পর্ক ছিল লালুর সঙ্গে। নীতীশের সঙ্গে রাজনৈতিক নৈকট্য থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল তিক্ত। আবার জাতিগত রাজনীতির সমীকরণে নিজের অনগ্রসর সমর্থনের সঙ্গে মুসলিমদের তো বটেই, দলিতদের মধ্যে বড় অংশকে টানার জন্যে রামবিলাসের সঙ্গে তাঁর নিজস্ব রসায়ন অটুট রাখতে অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু নেতৃত্ব ও ব্যক্তিগত উচ্চাশার পাশে বন্ধুত্বের রসায়ন রঙ হারিয়েছে। আবার শেষ দৃশ্যে দেখা গেল নীতি আর রাজনীতি, কৌশল আর কূটনীতির সব পরাকাষ্ঠা ফেলে রেখে রামবিলাস যখন চোখ বুঁজলেন তখন তাঁর পরিচয় মোদী সরকারের দশ বা বারো নম্বর একজন মন্ত্রী। যাঁর লোকজনশক্তি পার্টির চেয়ে বড় পরিচয় তিনি দুসাদ সম্প্রদায়ের দলিত নেতা। মন্ত্রিসভার জাতিগত সমীকরণের ভারসাম্যের স্বার্থে তাঁর মন্ত্রীপদটি জরুরি ছিল। তাছাড়া তিনি রামবিলাস পাসোয়ান। ভারতের রাজনীতিক বৃত্তে পরিসর ছোট হয়ে এলেও একটা অনুঘটকের উপাদান আছে। বিশেষত বিহারে। এই মুখোশমুখো মানুষের ভিড়ে কিন্তু শোকবার্তায় অন্যকিছু উপাদান রেখে গেলেন শুধু লালু। কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিস্পর্ধী নেতার মৃত্যুতে শোক নয়। শুকনো কথায় চিঁড়ে ভেজানোর বুলি নয়। জেলের হাসপাতালে বসে লালু বললেন, “রামবিলাসভাই আগে চলে গেল !” বয়স ও রাজনীতিতে রামবিলাস অবশ্যই অগ্রজ এই তিনের মধ্যে। নীতীশ সর্বকনিষ্ঠ । এবং রামবিলাসই সবার আগে সাংসদ ও খ্যাতিমান হয়েছেন। সাতাত্তরেই তাঁর ভারতজোড়া খ্যাতি চারলাখের ব্যবধানে ভোটে জিতে। লালুরও বিপুল খ্যাতি ‘৮৯-‘৯০-য়ে।

    বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ও আডবাণীর রথ রোখার মতো পদক্ষেপের সাফল্য এবং আস্থাভোটে বিজেপিকে বিরাশিশিক্ষা দিয়ে। নীতীশ তখন সবে কিছুদিন কেন্দ্রের কনিষ্ঠ মন্ত্রীত্ব করেছেন। দুর্নীতির দঙ্গলে কে নেই ? কেউ নারদে কেউ সারদে আর কেউ গারদে । কিন্তু রাজনীতির পারদে কোনও তাপ উত্তাপ নেই। লালু যদি শোভন -রাজনীতির পাঠশালায় ভর্তি হতেন তবে কীর্তির মুকুল হয়ে তিনি কুলতিলকের শিরোপা পেতেন বিজেপির কাছে। কিন্তু কী কারণে কীসের মোহে মতাদর্শের কঙ্কাল আঁকড়ে জেলের ঘানি টানার পথই বেছে নিলেন ইতিহাস সে বিচার ফেলে রাখেনি। যে রাহুল গান্ধী মনমোহনের হাতের সংশোধনী বিল ছিনিয়ে ছিঁড়ে ফেলে ভেবেছিলেন অসাধু লালু জেলে পচে মরুক। কংগ্রেস হাত মেলাবে নীতীশের সঙ্গে,বিহারে সেই সর্বহারা রাহুলের পায়ের নীচেই মাটির ব্যবস্থা করলেন কেন লালু সেই তীক্ষ্ণ মতাদর্শের রাজনীতির দিন গিয়েছে। আর উদ্দেশ্যে অটলই বা থাকে ক’জন ?

    অহো, সাফল্যই সততার সনদ। সুতরাং বিহারে এই ভোটের মুখে মূল খেলুড়ে নীতীশের সামনে ফাঁকা মাঠ। লালকার্ডে বহিষ্কৃত মূল প্রতিদ্বন্দ্বী লালু। আর জোটের কাঁটা কিপাসোয়ানের প্রস্থান পৃথিবীর খেল ময়দান থেকে। সুতরাং দেশসেবাটা আমিই করব চুটিয়ে ভাবতে আপাতত বাধা নেই নীতীশের । অবশেষে জনগণ এই তিনমূর্তির কাকে ধোয়া তুলসীপাতাটি উৎসর্গ করবেন ? মানে ভোট দিয়ে ভগবান বানাবেন ? কেন বানাবেন সেটা পরিষ্কার। শিবির বদল করেও হাওয়া মোরগ রামবিলাস। নীতীশ কুমার নন। আর চারা চোরের অখ্যাতি নিয়ে অর্ধমৃত লালু গট আপের, ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সব দান ছেড়ে কোন খেলায় জেতার আশায় জেলের কড়িকাঠ গুনছেন। জেলে গেলেও অনমনীয় থাকে কে ? এমন নজির একালে কোথায় ? কিন্তু ধর্ম আর জাতপাতের ব্রাহ্মণ্যবাদী কাঠামোয় নেতা জাতে উঁচু নাহলেও চলবে। যদি উঁচু জাতের স্বার্থরক্ষা করেন তাহলে সোনায় সোহাগা। নিম্নবর্গের বিজ্ঞাপণ ও বর্ণাশ্রয়ী ধর্মাশ্রয়ী বিভাজনের ভোট সবই পড়বে সহস্রধারায়। এই তো ভোটের ভবিষ্যৎ।

    জর্জ সাহেবের সাথে

    কিন্তু টিকে থাকার হাজার চেষ্টা করেও রামবিলাস তাঁর দলিত ট্যাগটি ছিঁড়ে ফেলতে পারেননি। তাঁর স্বতন্ত্র পরিচয় ছিল। দুর্বলতার সঙ্গে কেরিয়ার, টিকে থাকার চেষ্টার সঙ্গে উচ্চাভিলাষ তাঁকে ভিন্ন ভাবমূর্তিতে চিত্রিত করেছিল। প্রথমা স্ত্রী তাঁর সন্তানসহ কার্যত পথি বিবর্জিতা। দ্বিতীয় সংসারেই ছিলেন আজীবন। তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রীর সন্তান চিরাগকেই দলের বাগডোর সঁপে দেন। ভাই রামচন্দ্রও দলে আছেন। কিন্তু নেতা চিরাগই। ভাগ্যাণ্বেষী চিরাগ ফিল্মে অভিনয়ও করেছেন। কয়েকটি সিনেমায় পোষ্টারেই প্রথম দেখা চিরাগকে। রামবিলাসজীর ছায়াসঙ্গী যোগেন্দ্র আর নারায়ণ সগর্বে দেখিয়েছেন সেই পোষ্টার ১২ নম্বর জনপথের বাড়িতে। রামবিলাসের গড়া দলিত সেনার সংগঠক যোগেন্দ্র। নেতার অন্ধ অনুগত। কিন্তু চামচা নন। দলিত রাজনীতির প্রবক্তা ও সংগঠকদের একটা বিরল সম্ভ্রম আছে। দলে অনূজ কর্মীদেরও সম্মান দিয়ে আপনি করে কথা বলতেন। এনিয়ে স্পষ্ট সংস্কৃতি ছিল। সচেতন ভাবেই জীবনচর্যা রাজনীতির রঙে মিশে গিয়েছিল। কখনও কাউকেই আপনি ছাড়া তুমি তুই বলতে শুনিনি।

    সনিয়া গান্ধীর পাশের বাড়িতেই টানা তিরিশ বছর। ল্যুটিয়েনস দিল্লির নকশা মাফিক পাশাপাশি বাড়ির মধ্যে দুই অঙ্কের ফারাক। ১০ নং জনপথের পাশে ১২ নম্বর। পাশের বাড়ি হওয়ার দরুণ সুযোগ দুর্যোগ দুইই এসেছে। রাজীব গান্ধীও বিরোধী নেতা হিসেবে থাকতেন ওই বাড়িতে। তাঁর স্মৃতির টানেই সনিয়া কখনও বাড়ি বদলাননি। রাজীব যেদিন আততায়ীর হাতে নিহত হলেন, ক্রোধন্মত্ত কংগ্রেসের যুবরা চড়াও হয়েছিল ১২ নম্বরে। ভেতরে ঢুকতে পারেনি। বারান্দায় কিছু ভাংচুর করেছিল। এফ আই আরও করতে গিয়েছিলেন রামবিলাস।

    আবার ২০০৪-এর পালাবদলের চিত্রনাট্য লেখার মুসাবিদা এই বাড়িতেই। সনিয়া পাশের বাড়িতে এসেছেন কখনও প্রিয়াঙ্কা রাহুল বা অম্বিকা সোনি কিংবা আহমেদ পটেলকে পাঠিয়েছেন রামবিলাসকে ১০ নম্বরে আমন্ত্রণ জানাতে। আবার বিনয়ী পাসোয়ান বার বার নিজেও গিয়েছেন সনিয়াজির সঙ্গে শলা পরামর্শ করতে। তার কারণ এসবের নেপথ্যে ছিলেন রাজাসাব বিশ্বনাথপ্রতাপ ও হরকিষেণ সিং সুরজিৎ। সিপিএমের শীর্ষ নেতা সুরজিৎ ‘৯৬-এর অভিজ্ঞতায় বুঝেছিলেন, কংগ্রেসের নেতৃত্বে ছাড়া কেন্দ্রে ধর্মনিরপেক্ষ জোটের সরকার স্থায়ী হবেনা। তাছাড়া ভারতে সফল কোয়ালিশনের জনক বামেরা হলেও তাঁর দলকেই তিনি বোঝাতে পারেন নি। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি ও দলের সবচেয়ে সফল জননেতা জ্যোতি বসু কেন্দ্রীয় কমিটি ও পার্টি কংগ্রেসে সংখ্যালঘু সাব্যস্ত হয়েছেন। ভিপি ও সুরজিৎ তাই বাস্তবতা অনুযায়ী ন্যূনতম সাধারণ কর্মসূচির ভিত্তিতে জোট সরকারের প্রাথমিক জোগাড়যন্ত্র সেরে রেখেছিলেন।

    সুরজিৎয়ের সঙ্গে ভিপির আলোচনা হত ভিপির তিন মূর্তি মার্গের বাংলোয়। সুরজিৎয়ের বাসভবন ছিল তিন মূর্তি লেনে। ভিপি রামবিলাসকে ডেকে নিতেন । কখনও বা লালুকে। আর সুরজিৎ সঙ্গী ছিলেন সীতারাম ইয়েচুরি আর সিপিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক অর্ধেন্দুভূষণ বর্ধন। তারপর সনিয়ার সঙ্গে জোটের সলতে পাকানোর কাজটা করতেন রামবিলাস বাড়িতে বসে। অন্যদিকে তেমন দরকার হলে ভিপি ফোনে কথা বলে নিতেন সনিয়ার সঙ্গে। সুরজিৎয়ের সঙ্গে ১০ জনপথে বসেও কথা হত। কিন্তু কংগ্রেসের ভেতরে জোটবিরোধীদের বাগে আনার কাজটি করতেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। আহমেদ পটেলও ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়।

    মোদ্দা কথা, ক্ষমতাসীন এনডিএকে গদিচ্যুত করে বিকল্প জোটের কারিগরদের অন্যতম রামবিলাসের রঙ বদলাল ধীরে ধীরে। মনমোহন সরকার ক্ষমতায় থাকতেই। ‘৮৯তে বাম,বিজেপির সমর্থনে গড়া রাষ্ট্রীয় মোর্চার সরকারে থাকা নিয়ে আক্রমণের জবাবে বলতেন ওটাতো ‘৯২-এর আগের। ‘৯২-এ বাবরি মসজিদ ভাঙার পর ওরা রাজনীতিতে অচ্ছুৎ হতে পারে। আজে তো নয়। কিন্তু শতক শেষে সেই বিজেপির সঙ্গে ঘর করলেন। জীবনশেষেও সেই বিজেপির সরকারের মন্ত্রী। ইউপিএ ১ সরকারে  লালু ছিলেন হাতে গোনা ক’জন নীতিনির্ধারকদের মধ্যে। তিনি তখন রেলমন্ত্রী হিসেবে মনমোহনের আর্থিক সংস্কারের অন্যতম সারথী এবং সরকারে যোগ না দিয়েও ইউপিএর মূল চালিকাশক্তি যে সরকারের কর্মসূচিতে এমন বেশ কিছু প্রগতিশীল বিষয় আনল যা বাকি সকলের অস্তিত্ব অর্থহীন করে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট।

    কোনও একটি শপথের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ভবনের অশোক হলে লালু যাদব ও রামবিলাসের মুখোমুখি হলাম। শপথের পর প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য জানতে রাষ্টপতির চা চক্রের শরিক। জানতাম তাই অবাক হইনি। যতদূর মনে পড়ে ওইদিন আনন্দ শর্মাকে মনমোহন মন্ত্রী পরিষদের সদস্য করলেন। শপথের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসা সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে তাঁর মা, বোনকে পরিচয় করিয়ে দিলেন আনন্দজি। পাশেই দাঁড়িয়ে লালু ও রামবিলাসের সঙ্গেও কথা বললেন। সবার মধ্যে নানা গপ্পো চলছে। হঠাৎ লালু ও রামবিলাস নিজেদের মধ্যে কুশল বিনিময় করে নিতেই লালু রামবিলাসের সঙ্গে গলাগলি করে বাচ্চা ছেলের মতো করে তাঁর গাল টিপে সরস মন্তব্য করলেন। রামবিলাস লালুর সেই সহজিয়া সখ্যের মান রেখে হেসে বললেন, আপনার সত্যিই জবাব নেই। ফোন করলে দয়া করে ফোনটা ধরেন না, আর দেখা হলে মনে হয় চোখে হারাচ্ছেন ! লালু ঠেট দেহাতিতে বললেন, আপনার মত আরামের জীবন তো আমার নয় জানেন। ঘুমোতে অনেক রাত হয়। সাত সকালে ফোন করলে কী করে ধরব? রামবিলাস– ঠিক আছে এখন থেকে সকাল দশটার পর করব। দেখি ধরেন কিনা। লালু বললেন, তো কথাটা এখন বললেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। আবার ফোনে বলবেন বলে ঝুলিয়ে রেখে কী লাভ। এবার রামবিলাস প্রসঙ্গে এলেন। তাকে জানালেন, রেলের সঙ্গে কয়লা মন্ত্রকের একটা ঝঞ্ঝাটের কথা। মন্ত্রী ছাড়া কে জট ছাড়াবে ? ব্যস লালু তাঁর স্টাইলে প্রেম গুপ্তাকে বলে দিলেন অফিসে তাঁকে মনে করিয়ে দিতে । অথচ দলের বাইরের রাজনীতি ও সংঘাতের এক জটিল আবর্তে তখন দুজনেই ভীষণ জড়িয়ে পড়েছেন।ইউপিএর সরকার ছাড়া আর কোনও যোগসূত্র নেই।

    অটলবিহারী বাজপেয়ীর দ্বিতীয় সরকার তেরমাসের মাথায় লোকসভার অনাস্থায় আছড়ে পড়েছিল ভোটাভুটিতে। এবং একচুলের জন্যে ধর্ম নিরপেক্ষ শিবির প্রথম এনডিএ সরকারকে প্রস্থানের পথ দেখাতে পেরেছিল। সেই ইতিহাস গড়া একভোট ছিল রামবিলাস পাসোয়ানের। অনেকে দাবি করেন ওই ভোট ওড়িশার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী গিরিধর গোমাঙ্গের। কিন্তু তা নয়। সাংসদ থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া গিরিধর তাঁর না ছাড়া আসনে এসেছিলেন ভোটের জন্য। এবং কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু রামবিলাসের একক অবস্থান ছিল তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত। জীবনে প্রথম মেরুবদলের আগে ব্রহ্মাস্ত্রটি তুলে দিয়েছিলেন সেকুলার রাজনীতিকে। সেই সরকার পড়ে গিয়ে আলোড়ন জাগালেও দেশের আম জনতাকে সঙ্গে নিতে পারেনি সেই পতন। সেজন্য দায়ী জনগণ ছিলেন না। ছিল সেকুলার শিবিরের ভেতরে অন্তঃসলিলা সুবিধাবাদ। যার ছোঁয়াচ এড়াতে না পেরে রামবিলাসও রাতারাতি হয়ে গিয়েছিলেন বিভীষণ।

    যুক্তফ্রন্ট সরকারের ভুল রণনীতি, ধর্মনিরপেক্ষ শিবিরের মূল অণুঘটক সিপিএমের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ এবং কংগ্রেসের বাধ্যতা সেকুলারিজমের শিকড়ে ঘা দিয়েছিল। ‘৯৮-এর পর কংগ্রেসের ভাঙন থেকে সেই ভুল স্রোতের মরা গাঙে যে জোয়ার এসেছিল সেই বেনোজলেই বানভাসি ধর্ম নিরপেক্ষ শিবির। নতুন দল তৃণমূলকে দিয়ে তার জোরদার সূত্রপাত। নাহলে শুধু জর্জ-নীতীশের টানে টানে এনডিএ জোট এতটা ব্যাপক হয়ে উঠতনা। ধর্ম নিরপেক্ষ শিবির ভাঙনের তীরে। কেউ সেখানে ঘর বাঁধতে চায়না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে নবীন পট্টনায়েক, চন্দ্রবাবু নাইডু। ফারুক আবদুল্লাহ থেকে করুণানিধি। এমনকি একই শিবিরে জয়ললিতা, ভাইকোসহ ছোট ছোট তামিল দলগুলোও। কংগ্রেস ও বামদলগুলো ছাড়া শুধু দেবগৌড়ার জেডিএসের ভিটেটুকু ভেসে ছিল ভারতের ভাঙনের তীরে। আর সব আঞ্চলিক দল কংগ্রেস বিরোধিতার জালে জড়িয়ে, বাস্তবতা বুঝতে না পেরে বা ভাবের ঘরে চুরি করে বিজেপির মৌলিক সাম্প্রদায়িক ইস্যুগুলোকে বাদ দেওয়ার ছলাকলার ফাঁদে পা দেয়। কাশ্মীরের ফারুক , মুফতি দুই মূল শক্তিই তাদের ভুল বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু তার মধ্যেই কাশ্মীরের ৩৭০ তো উঠলই , গেল রাজ্যের কাঠামোও। এজন্য এন.সি ও পিডিপি প্রাথমিকভাবে দায়ী।

    জাতীয় রাজনীতির এই প্রতিটি ঠুনকো ও স্পর্শকাতর অনুভূতির অনুভব ছিল রামবিলাসের। জাতীয় স্তরের এই ধরণের বোধ সম্পন্ন দলিত হিন্দিভাষী নেতা তিনিই হয়ে উঠছিলেন। বাবুজী জগজীবন রামের পর এই পূর্ণতা আর কোনও দলিত নেতার ছিলনা। তরুণ বয়সে পাদপ্রদীপের আলোয় এলেন যে শ্লোগানে সোচ্চার হয়ে সেটা ছিল : ” ভোট হমারা রাজ তুমহারা / নহি চলেগা নহি চলেগা।” এই শ্লোগানকে সামনে রেখেই আলোয় এলেন মায়াবতী। তবে তাঁর পেডেস্টাল ছিল কাঁসিরামের তৈরি। কিন্তু কর্পূরী ঠাকুর আর সংযুক্ত সোশ্যালিস্ট পার্টির লোহিয়াবাদী দর্শন রামবিলাসকে বৃহত্তর স্বার্থের রাজনীতির ঘরানা আর অনেক বেশি উদার দৃষ্টিভঙ্গী দিয়েছিল। অনেক স্টলওয়ার্ট অগ্রজদের সান্নিধ্য পেয়েছেন ঠিকই। কিন্তু কোনও খুঁটি পাননি।ফলে ভিপি থেকে অটল , মনমোহন থেকে মোদীর বেদীতে মাথা ঠেকাতে ঠেকাতে এগিয়েছেন। আদর্শের চাদর খসেছে কালে কালে। শেষ কালে সতীর্থ রঘুবংশবাবু মুখফোঁড় বলে মুখের ওপরই বলতেন ভোগবিলাস পাসোয়ান।

    লালুর দলের অভিভাবতুল্য বৈশালীর প্রাক্তন সাংসদ রঘুবংশপ্রসাদ সিংয়ের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ছিল গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী হিসেবে ১০০দিনের কাজ। মনমোহন চিদম্বরমের আপত্তিতেই তা পাস হয়েছিল মন্ত্রিসভায়। রঘুবংশবাবুর মতো বিজেপির নেতা তপন শিকদারও বিলাসী পাসোয়ানের সঙ্গে বিদেশ সফরে গিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন তাঁর পকেটে সোনার কলম দেখে। অটল সরকারে যোগাযোগ মন্ত্রী যখন রামবিলাস, তখন তপনবাবু তাঁর জুনিয়র মন্ত্রী। ঐ সময়ই একটি নাগরিক পরিষেবা কমিটিতে আমাকে সদস্য করে সভায় ডাকেন মন্ত্রী। সম্পাদককে জানিয়ে ডাক ও তার ভবনে যাই। তখন এনডিএ সরকার বিরোধিতার পুরস্কার দিত সংবাদপত্রগুলোকে বিমাতার মতো বৈষম্য করে। এই অবস্থায় মন্ত্রীর খাতিরদারিতে বিরক্তি জানাই তাঁর চেম্বারে ঢুকে। বলি , আমাকে না জিজ্ঞেস করে আপনি কমিটিতে নিলেন কেন? রামবিলাস জি বলেন, “সাংবাদিক বন্ধুদের কয়েকজনকে মাত্র নিতে পেরেছি। এতো কোনও অফিস অফ প্রফিট নয়। তাছাড়া আপনি এতোদিনের বন্ধু। অপনো সে ক্যা পুছনা ?” ওঁর কথার দাবিকে অস্বীকার করিনি। কিন্তু সরকারের ও তাঁর মন্ত্রকের সমালোচনার যোগ্য সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে কলম কাঁপেনি। সরকারের অন্য দপ্তরে রেওয়াজি সেলফ সেন্সরশিপের আডবাণী-আয়োজন থাকলেও রামবিলাসকে তা স্পর্শ করেনি। ব্যক্তিগত সম্পর্ক সাংবাদিকতাকে বলি দেওয়ার হাড়িকাঠ হয়ে ওঠেনি। আর একটা কথা না বললে অবিচার করা হবে অগ্রজ বন্ধু রামবিলাসজির প্রতি। দেহাতি টোনে বিহারি হিন্দি বলতেন। একদিন বলেছিলেন, একটা কথা মনে রাখবেন। এই ভারতের একটা নির্মম সত্য হল, জাত কখনও যায় না। জন্মের পরে আর মরার পরেও এদেশে সবাই জাত জিজ্ঞেস করে। হাসপাতালে আর শ্মশানে আপনার স্বজনদের বলতে হয় আপনি কোন জাতের ? এর বিরুদ্ধে বলতে গেলে আমাদেরকেই বলে জাতিবাদী। এখন কিন্তু সবাই জেগেছে। জেনেছে, জাত ছাড়া পরিচয় সম্পূর্ণ হয় না। আমার তোমার ওপর এই জাতের ভাগাভাগি চাপিয়ে দেওয়া হয়। মরার পড়েও জাত যায় না। ” জাতি নহি যাতি।”

    ‘৮৯এর শেষে কিংবা ‘৯০-এর গোড়ায় কলকাতায় প্রথম পরিচয় পাসোয়ানের সঙ্গে। তখন প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনাথপ্রতাপের সরকারে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। মণ্ডলের আন্দোলনে উত্তর ভারত উত্তাল। রামবিলাসের মন্ত্রক সরাসরি যুক্ত ছিল সেই দিন বদলের লড়াইয়ে। সামাজিক ন্যায়বিচারের সংগ্রাম ও জনমত গড়ার জাতীয় বিতর্কে “আজকাল” সাধ্যমতো সদর্থক ভূমিকা নিয়েছিল। সুতরাং যুবভারতী স্টেডিয়ামের সাংবাদিক বৈঠকে গিয়ে আলাপ করতেই বন্ধুর মতো আন্তরিক হলেন রামবিলাস। দিল্লি গেলে দেখা করতেও বললেন। এক বছর না পেরোতেই দিল্লিতে মোলাকাত এবং তারপর একটানা ছাব্বিশ বছরের ঘনিষ্ঠতা। সাংবাদিক আর নেতা মন্ত্রীর সম্পর্কের গণ্ডি পেরিয়ে, কোলাহলের বাইরে প্রাণের আলাপ জারি ছিল। শেষে শুধু চারটে বছর এবং অর্ধেক অধ্যায় জুড়ে ভ্যাকুয়াম। ভিপির মৃত্যুর পরই কার্যত শেষ সূত্র ছিঁড়ে গিয়েছিল।

    ২০১৪ থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে একেবারে অর্থহীন হয়ে গিয়েছিলেন। নিজেরই তৈরি করে নেওয়া এক অবাক নির্বাসনে ছিলেন ঘোর নাস্তিক মানুষটি পরবর্তী ছটা বছর। রামে নেই কখনওই । কিন্তু বিলাসে বিহ্বল ছিলেন। সরকারের নীতি নির্ধারণে কিংবা রাজনৈতিক কর্মের পরিসর থেকে বহু যোজন দূরে শুধু একটা ছোট শরিক দলের উপার্জনটুকু ছিল তাঁর বেঁচে থাকার টনিক। ইয়ে ভি কোই জিনা হ্যায় জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হলেও দুঃখ দিতে চাইনি। যদি বলতাম তাহলে নিশ্চয়ই পাল্টা শুনতে পেতাম, ইয়ে ভি কোই মরনা ?

    Related Posts

    Comments

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    সেরা পছন্দ

    পুজোর বাকি ১০০ দিন ! অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় বাঙালি

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : পুজোর বাকি ১০০ দিন। এখন থেকেই পুজোর প্ল্যানিং ? এখনও ঢের বাকি ! না,...

    দুর্বল মৌসুমী বায়ু ! অনিশ্চিত বর্ষা

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : মৌসুমি বায়ু ঢুকলেও দক্ষিণবঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়ল। আগামী কয়েকদিন বিশেষ বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখছেন না...

    আরেকটা করোনা বিস্ফোরণের মুখে দাঁড়িয়ে রাজ্য ?

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : রাজ্যে ভয়াবহ আকার নিল করোনা। এক লাফে ৭০০ পার করল দৈনিক সংক্রমণ। বৃহস্পতিবার দৈনিক...

    এক অভিনব সাইকেল যাত্রা শুরু করলো সিভিক ভলেন্টিয়ার বিপ্লব দাস ।

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো :এক অভিনব সাইকেল যাত্রা শুরু করলো বিরাটির সিভিক ভলেন্টিয়ার বিপ্লব...

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কারা এগিয়ে ? বিজেপি নাকি বিরোধী জোট ?

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : ঘটেছে সমস্ত জল্পনার অবসান। BJP-র পাশাপাশি বিরোধীরাও ১৬তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা...