25 C
Kolkata
Saturday, February 4, 2023
More

    ‘কংগ্রেস-বাম জোটে’র মূল সূত্রধর প্রণব মুখার্জী’র মূল মন্ত্র ছিল ‘এগ্রি টু ডিস-এগ্রি’ – দেবারুণ রায়

    দেবারুণ রায়, বাংলা সংবাদ মাধ্যমের একজন উল্লেখযোগ্য নক্ষত্র। পেশাগত কারণেই তাঁর সাথে স্বর্গীয় প্রণব মুখার্জী’র সম্পর্ক দীর্ঘ ৩৫ বছরের। শুধু পেশা নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও প্রণব মুখার্জী ছিলেন তাঁর দাদা তুল্য। অনেক কাছ থেকেই প্রণব মুখার্জীকে দেখেছেন দেবারুণ বাবু। আর প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি’র মহা প্রয়াণের পর দেবারুণ রায়ের কলমে উঠে আসছে অনেক না জানা প্রণব স্মৃতি। যা ধারাবাহিকভাবে শুধুমাত্র দ্য ক্যালকাটা মিররে প্রকাশিত হবে। আজ রইল সেই ধারাবাহিকের তৃতীয় কিস্তি 

    সনিয়া জানতেন, বামপন্থীদের সঙ্গে নিয়ে সরকার করতে হলে প্রণববাবুকে ছাড়া অসম্ভব। কারণ কংগ্রেসের মতাদর্শের রাজনীতি আর কূটনীতির উৎকর্ষ প্রণববাবুর মতো আর কারও কাজের মধ্যে সেভাবে ফুটে ওঠেনা। বিশ্বস্ত এ.কে.অ্যান্টনিকে নানা কারণে বেশি কাছের লোক বলে মনে করলেও জোট গড়ার দুরূহ কাজে তিনি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মতো যেমন দক্ষ তেমন নির্ভরযোগ্য হবেন কীভাবে ? অথচ তিনি কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পদমর্যাদার বড় নেতা এবং এবং অনেক দিকেই প্রণববাবুর মতো জাতীয় স্তরের রাজনীতিবিদ। তাছাড়া প্রণববাবুর যেমন একদা বামদুর্গ বাংলায় বামেদের বিরুদ্ধে রাজনীতি করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আছে তেমনি এ.কে. অ্যান্টনিরও আছে কেরলে ।এরফলে দুজনেই বাম রাজনীতির অন্ধিসন্ধি সবটাই জানেন। কিন্তু সনিয়া গান্ধী সুরজিৎ ও ভিপির সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনাতেই বুঝে নিয়েছিলেন, “প্রণবজি” ছাড়া ইউপিএর মত মঞ্চ গড়া আর কারও কম্মো নয়। মোর্চা রাজনীতির সফল প্রয়োগ ভারতে করেছেন কমিউনিস্টরাই। মূলত বামরাজ্যগুলোতে।

    সোশ্যালিস্টরা হিন্দি বলয়ের রামরাজ্যেও পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন ষাটের দশক থেকে। কিন্তু বামেদের মতো সাফল্য আসেনি। কংগ্রেস ও বিজেপি একক শক্তি নিয়েই চলার পথে নিজেদের রণনীতি বদলাতে বাধ্য হয়েছে। বুঝেছে কোয়লিশন যুগের বাস্তবতাকে স্বীকার করে নতুন রাজনৈতিক সংস্কারে অভ্যস্ত হতে হবে।কংগ্রেসের পাঁচমড়ী অধিবেশনে এনিয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছিল। কোয়লিশন সংস্কৃতি বরাবর ছিল কেরলে। কেরলে সিপিএমের নেতৃত্বে এলডিএফের বিপরীতে আছে কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইউডিএফ। প্রতি পাঁচবছর পরপরই এই দুই মোর্চার মধ্যে ক্ষমতার পাশা পাল্টে যায়। পালাবদল ঘটে। অন্যদিকে বিজেপি কেন্দ্রে প্রথম একক সরকার গড়েছিল ১৯৯৬ তে রাও সরকারের হারের পর। সে সরকার লোকসভায় আস্থাভোটে ভোটাভুটির আগেই পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল তেরদিনের মাথায়। তারপরই কোয়ালিশন বা জোট করার রণকৌশল নিয়ে সরকারে আসে বিজেপি। প্রথম এনডিএ সরকার হয় ‘৯৮ সালে। চলে ১৩ মাস। তারপর বাজপেয়ীর নেতৃত্বে দ্বিতীয় এনডিএ সরকার হয় ১৯৯৯-তে।চলে পুরো মেয়াদই।

    অগত্যা মধুসূদন। একক শক্তিতে ক্ষমতায় ফেরার গুমোর ছাড়তে ছাড়তে কংগ্রেসের আট বছর কেটে গেছে ক্ষমতার বাইরে। মাথার বদলে লেজ চালাবে সরকার , এই সূত্র অনুযায়ী বড় দল কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে সরকার চালিয়েছে যুক্ত ফ্রন্টের ছোট দলগুলো। সংখ্যায় অনেকটা বেশি কংগ্রেস পুরোপুরি সরকারের গণ্ডির বাইরে। কংগ্রেস বিরোধিতার বিচিত্র কৌশল। কংগ্রেস খারাপ, কিন্তু কংগ্রেসের সমর্থনটা ভাল। অসাধারণ দূরত্বনীতি । এমনকি মোর্চার মূল সংগঠক বামেরা নিজেরাও সরকারের বাইরে।সেই, বুঝলে নটবর, তুমিও যাবেনা, আমিও যাবনার মতো। তাদের কর্মসূচি ও গঠনতন্ত্রের অদ্ভুত সীমাবদ্ধতায় সিপিএম এবং ফরওয়ার্ড ব্লক ও আর এসপি ধরি মাছ না ছুঁই পানি অবস্থান নিয়ে সরকার চালানোর স্টিয়ারিং কমিটিতে থাকল কিন্তু মন্ত্রী হলনা যুক্তফ্রন্টের দুটো বছর, ১৯৯৬ থেকে ‘৯৮। পামুলাপুরতি ভেঙ্কট নরসিংহ রাও কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে যুক্তফ্রন্টকে সমর্থন করেছিলেন। তাঁর অপসারণের পর চাচা সীতারাম কেশরী এসে প্রথমে দেবগৌড়াকে সরিয়ে তাঁর পুরানা কিলা রোডের পাশের বাড়ির গুজরালকে যুক্তফ্রন্টের প্রধানমন্ত্রী করেন।তারপর একবছর যেতে না যেতেই সেই গুজরাল সরকারকেও ফেলে দেন।

    কেশরীর কাঁচা রাজনীতিতে কংগ্রেস জল থেকে আগুনে পড়ে। বিপুল বিক্রমে বিজেপি যুক্তিযুক্ত ভাবে মোর্চা গড়ে ক্ষমতায় এসে পড়ে। এবং বৃহত্তর দল বিজেপিই হয় মোর্চার নেতা। যুক্তফ্রন্টের প্রথম প্রধানমন্ত্রী দেবগৌড়া ছিলেন দেশের দ্বিতীয় দক্ষিণী প্রধানমন্ত্রী। অন্ধ্রের করিমনগরের ব্রাহ্মণ রাওয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত সমীকরণ ভাল ছিল কর্নাটকের হাসানের কৃষক দেবগৌড়ার। কিন্তু কংগ্রেসের প্রাসাদবিরোধী ব্রাহ্মণ পিভিকে সরিয়ে আক্ষরিক ভাবেই সনিয়ার পায়ে পড়া এআইসিসির খাজাঞ্চি বিহারের দানাপুরী চাচা কেশরীকে সভাপতি করার পর্ব ছিল ভাঙাগড়ার। এই সময়ে কৌলীন্য ছেড়ে দেওয়াও যেন কাল হল কংগ্রেসের।

    “বেটি” মমতাকে দলে রাখতে পারলেন না চাচা কেশরী। কিছু টা তারিক আনোয়ার, কিছু টা কমলনাথের পরামর্শ মতো এগিয়ে লাভ হলনা। কলকাতায় কংগ্রেসের অধিবেশনের পাশাপাশিই ভাঙনের জয়গান গাইলেন কংগ্রেসের নয়া জমানার সফল জননেত্রী মমতা। তৃণমূলে ধস নামিয়ে দল গড়ার তোড়জোড় চূড়ান্ত রূপ নিল। এবং সদ্যোজাত তৃণমূল যোগ দিল এনডিএ সরকারে। যেমন আগেই এসেছে নীতীশ কুমারের জেডিইউ। কংগ্রেসের সমর্থন প্রত্যাহারের সময় বিরোধী দল গুলো লোকসভায় অনাস্থা বিতর্কে যোগ দিতে উঠে বুঝিয়ে দেয় যে এককভাবে কেউ আর সরকার গড়ার শক্তিতে নেই। নীতীশ কুমার বক্তৃতা দিতে উঠে সরস পরিবেশনায় বলেন, “চাচা তো বিসমিল্লায় গলত করে বসে আছেন। সহজ কথা বলতে গিয়ে সাত সকালে এক দাদার সঙ্গে চাচার দেখাটাই কাল হল।

    সরল চাচা চতুর বাঙালি দাদার খপ্পরে পড়লেন। আর বাঙালী দাদা চাচাকে বেওকুফ বানিয়ে ছাড়লেন । চাচা সত্যি সত্যিই ভেবে বসলেন, আমাদের সমর্থন দিয়ে অন্যকে রাজা বানিয়ে কী লাভ ?” আরা জিলার পুরনো কহাবৎ ” যেকর লাঠি ওকর ভৈঁস।” সরকার বানাতে হলে বানাব নিজের সরকার। যারা ছোটামোটা পার্টি তারা বিজেপিকে রুখতে হলে কংগ্রেসকে মদত দিক।দুবছর তো চালালো কংগ্রেস। নীতীশ আস্থা বিতর্কে ভাষণ দিতে উঠে প্রণববাবুর উদ্দেশ্যে এই খোঁচাটা দিলেন কংগ্রেসকে বিঁধতে। কিন্তু প্রণব তখন লোকসভায় নেই। তিনি রাজ্যসভার সদস্য।

    “পরণববাবু”-কে দারুণ মানতেন চাচা কেশরী। কারণ, ইন্দিরা ক্যাবিনেটের নাম্বার টু হিসেবে তাঁকে কদর করতেন রাও তো বটেই, জনপথবাসিনী সনিয়াও। শাশুড়ি ইন্দিরার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগী প্রণববাবুর বিশেষ সম্মান ছিল পুত্রবধূর কাছে। সমসাময়িকদের মধ্যে নরসিংহ রাও, বেক্টরমণ আর প্রণবকেই বিশেষ মর্যাদা দিয়ে কথা বলতেন সনিয়া। প্রথমোক্ত দুজন তো যথাক্রমে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি হয়ে এমনিতেই উচ্চাসন পেলেন এবং দলের দৈনন্দিন কার্যকলাপ থেকে সরে গেলেন।কিন্তু রইলেন যাঁরা তাঁদের মধ্যে প্রণববাবুই একমাত্র, যাঁকে সনিয়ার সামনে উঠে দাঁড়িয়ে সম্ভ্রম জানাতে হত না।

    যুক্তফ্রন্ট সরকার চলাকালীন বেশ কিছু তিক্ততার বেসুর ভেসে আসছিল দুতরফ থেকেই। সনিয়া তখন কংগ্রেসের মূলস্রোতটিকে নিয়ন্ত্রণ করতেন ঠিকই। কিন্তু নেপথ্যে থেকেই। রহস্যময়ী এই আলেয়া আদৌ কখনও আলোয় প্রকট হবেন কিনা তা নিয়ে রহস্য পুরোপুরি কাটতে দিতেন না কংগ্রেসিরা। নরসিংহ রাও প্রস্থানপর্বে চলে গেলেও তাঁর প্রভাবিত ছিলেন স্টলওয়ার্ট নেতারা অনেকেই। প্রণব ছিলেন এঁদের সারিতে প্রথম। সুতরাং দলের চলতি কেশরী জমানার বা আগামি দিনের সম্ভাব্য সনিয়া জমানার সবাই তাঁকে সঙ্গে নিয়েই চলতে চাইতেন। তাছাড়া বন্ধু বা সমমনোভাবাপন্ন দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে প্রণববাবুর সম্পর্কের রসায়ন ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। ফলে অপরিহার্য প্রণববাবুর মুশকিল আসানের ভূমিকা তখনও ছিল বিকল্পহীন। তাঁর তুখোড় তিরন্দাজি এতটাই উচ্চাঙ্গের যে তার মর্ম বোঝার ক্ষমতা কংগ্রেস ও বিরোধী শিবিরের গোনাগুনতি কয়েকজন নেতারই শুধু ছিল।

    কংগ্রেসের রাও তিওয়ারি অর্জুন আর বিরোধী পক্ষের বাজপেয়ী আডবাণী ছাড়া প্রণবের তূণীরের তিরে আস্থা ছিল বৃহত্তর মঞ্চের মিত্র জ্যোতিবাবু বা সুরজিৎয়ের মত রাজনীতির জহুরিদের। যুক্তফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সঙ্গে কংগ্রেসের সমন্বয়ের যে ছোট কমিটি ছিল তার আলোকবৃত্তে অলিখিত অক্ষরে লেখা ছিল ভারতের সংবিধানের মুখবন্ধের কটি মুক্তাক্ষর। সেটাই ছিল হিন্দুত্বের বিরুদ্ধে ভারতীয়ত্ব প্রতিষ্ঠার সার্থকতাকে তুলে ধরার ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। কংগ্রেসের সঙ্গে বামেদের হাত ধরাধরি করে চলার সেটাই শুরু। অতীতে শুধু সিপিআইয়ের একটি গোষ্ঠী বাম স্বাতন্ত্র্য বিলোপ করে ইন্দিরার আগ্রাসনের কাছে যেভাবে আত্মনিবেদন করেছিল সেই লাইন ওই দলই বাতিল করে। এমনকি কংগ্রেসের নিজস্ব নথিতেই নেতৃত্বের বিচ্যুতির কথা স্বীকার করা হয়। যা সচরাচর কোনও দল করেনা।

    যুক্তফ্রন্ট সরকারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য মাইলস্টোন ছিল ভারতে কেন্দ্রের সরকারে প্রথম কমিউনিস্টদের যোগদান। সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটি সরকারে যোগদান নিয়ে “চুল ভেজালেও বেনী ভেজাব না” বললেও সিপিআই কিন্তু ভাবের ঘরে চুরি করেনি। “জাতও যাবে আর পেটও ভরবে না” বলেছিল ছোট বামেরা। যারা এখন কেরলে কংগ্রেসের জোটে সরবে শরিক। বাংলায়, ত্রিপুরায় বামজোটে। আর কেরলে কং ভোটের ভাগীদার। কিন্তু ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সিপিআইয়ের শীর্ষ নেতা ইন্দ্রজিৎ গুপ্ত ও চতুরানন মিশ্র যুক্তফ্রন্ট সরকারের যথাক্রমে স্বরাষ্ট্র ও কৃষিমন্ত্রী থাকলেও কংগ্রেস বিরোধিতার আঁচ তো ছিলই তাঁদের রাজনীতিতে। উত্তর প্রদেশে ৩৫৬ জারির জন্য কংগ্রেসের চাপ লাগাতার জারি থাকলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  ইন্দ্রজিৎ গুপ্তর তাতে সায় ছিল না । তবু প্রধানমন্ত্রীর প্রতিবাদ শোনা না যাওয়ায় কংগ্রেস চাপ শিথিল করেনি। এরই মধ্যে ইন্দ্রজিৎ বাবু লোকসভায় দাঁড়িয়ে বলে দিলেন, “কাণ্ডজ্ঞান না রেখে কংগ্রেস উত্তর প্রদেশে যদি রাষ্ট্রপতির শাসন চাপিয়ে দেয়, এবং তাতে বাধা দিলে যদি আমাদের সরকার ফেলে দেয় তাহলে লোকে তাদের জুতোপেটা করবে।”

    “…..কাংগ্রেস পর জুতে পড়েঙ্গে ।” টিভি চ্যানেলে চ্যানেলে আগুনের মতো ছড়াল এই মন্তব্য। কংগ্রেসের ভেতর থেকেই আওয়াজ উঠল, “যুক্তফ্রন্ট সরকার / আর নেই দরকার। ” সংকটমোচনই সেই সন্ধ্যায় ধর্ম সংকটে। মনে হচ্ছে সরকার বুঝি এবার গেল। সারাদিনই ২৪, আকবর রোড – ১০ জনপথ করার পর ১৩ নং তালকাটোরার বাড়িতে ফিরেই অফিসে বসে পড়েছেন দাদা। ওঁর কোনও বিরতি বা বিশ্রাম নেওয়ার দরকার হতনা কাজের দিনে। কাজবিহীন কোনও রবিবার দিল্লিতে থাকলে দুপুরে খাওয়ার পর কিছু টা বিশ্রাম। তাও হাতে কিছু বই। ওই সময় বই রাজনীতি ইতিহাস বা সমাজবিজ্ঞান নয়। নির্ভেজাল আজকের দিনের বাংলা সাহিত্য। যাতে একদম আপডেট থাকা যায় সবসময়। কথা অন্য প্রসঙ্গে চলে যাওয়ার আগে তার গতিমুখ ঘুরিয়ে আনা যাক। ১৩ নং তালকাটোরার টেবিলে তখন কোনও সরকারি ফাইলপত্তর নেই। বই, পার্লামেন্টারি কমিটির ফাইল আর দলের কিছু কাজকর্মের ফিরিস্তি ছাড়া আছে ব্যক্তিগত চিঠিপত্রের ফাইল। প্রণববাবু একের পর এক কল নিচ্ছেন ল্যান্ডফোনে। সবগুলোই কংগ্রেস সভাপতি থেকে ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যদের। এবার ফোনের স্রোত একটু থামতেই দাদার বাহন হীরা তার অননুকরণীয় স্টাইলে এক গ্লাস জলে গোলা কবিরাজি অর্জুন চূর্ণ নিয়ে এল। দাদা পান করেই সামনে বসা কয়েক জন তীর্থের কাকের দিকে তাকিয়ে বললেন, “বল তোরা কী খবর ? আবার একটু পরে বেরতে হবে।

    “প্রশ্ন এল, কোথায় ? দাদা বললেন, “কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট কথা বলবেন।” এবার জনৈক কাকের কাতর জিজ্ঞাসা : প্রণববাবু, সরকার কি থাকবে ? হোম মিনিস্টার যা বলেছেন, পিএম তা সমর্থন বা কাউন্টার করেন নি। কংগ্রেস মেনে নেবে ? দাদা স্থির গম্ভীর ভাবে তাকিয়ে ছিলেন প্রশ্ন কর্তার দিকে । আরও দু একজন জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিল কিছু। দাদা থামিয়ে দিয়ে আগের প্রশ্নেরই জবাব দিলেন। “প্রাইম মিনিস্টার কথা বলেছেন কংগ্রেস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে।” বলেই হঠাৎ বিরক্তি ফুটিয়ে তুলে মন্তব্য করলেন, এরকম চলতে থাকলে ঢাকিশুদ্ধু বিসর্জন দিয়ে দেব।” আমরা সবাই জেনে এসেছি। ওঁর কখনও বলার দরকার হয়নি। যে এই বেসরকারি পরিসরে উচ্চারিত মন্তব্যগুলো কোট নয়। অর্থাৎ লেখার জন্যে বলা নয়। এই মন্তব্য থেকে দলের মুড বা মনোভাব অবশ্যই লিখতে বাধা নেই। সেটাই তো সাংবাদিকের বিবেচনা শক্তি বা কাণ্ডজ্ঞান। যৎ শ্রুতং তল্লিখিতং নৈব নৈব চ এই রাজনীতির খবর লেখার ক্ষেত্রে।

    এভাবেই ভাঙাগড়ার মধ্যে দিয়ে এগিয়েছে কংগ্রেস-বাম বোঝাপড়ার রাজনীতি। বামনেতারা বঙ্গের রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে দাঁড়িয়ে বলতেন, ফাইট অ্যান্ড ইউনাইট । কমন এনিমির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের রণনীতি। ক্লাস নেওয়ার মতো করে বোঝাতেন সরোজ মুখোপাধ্যায়, বিশ্বনাথ মুখোপাধ্যায়, অশোক ঘোষ আর মাখন পালের মত বাম বাংলার চার স্তম্ভ। লেনিনের রণনীতি বলতে গিয়ে। পরে দিল্লি গিয়ে প্রণববাবুর মতো কংগ্রেস নেতাকে দেখলাম হাতে কলমে তার প্রয়োগ করতে। সেইসঙ্গে এই সংস্কারের, মোর্চা রাজনীতির অনুজ রূপকার সীতারাম ইয়েচুরি পরমাণু চুক্তি নিয়ে প্রণববাবুর সঙ্গে যে সূত্রের ভিত্তিতে রোজ আলোচনা করতে করতে সম্মতির পরিসর বাড়াচ্ছিলেন তা হল , “লেট আস এগ্রি টু ডিসেগ্রি।” বর্ধনের কাছে প্রথম শোনা লেনিন উবাচ। তারপর অসংখ্য নেতার কাছে শুনেছি। আর সচক্ষে দেখেছি ইউপিএ ১ ও ২ জমানায় মনমোহনকে শান্তিতে ঘুমোনোর ব্যবস্থা করতে কীভাবে এই সূত্র প্রয়োগ করেছেন তাঁর চেয়ে লক্ষগুণ যোগ্য কিন্তু আসলে তাঁর নাম্বার টু , কীর্ণাহারের কীর্তিমান বাঙালি প্রণব মুখোপাধ্যায়।

    শেষপর্যন্ত ২০০৪-এ সারাদেশে বামেদের সঙ্গে জোট গড়ার ভাবনা মূর্ত হয়েছিল প্রণব চাণক্য মুখোপাধ্যায়ের মুন্সিয়ানায়। প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সি থাকলে নিশ্চয়ই সেদিনের এক জ্বলন্ত সাক্ষীর সাক্ষ্য পাওয়া যেত। সূচনা পর্বের আগাগোড়া জোটের নীল নকশার সূত্রধর ছিলেন সিপিএমের সেই সময়ের সাধারণ সম্পাদক হরকিষেন সিং সুরজিৎ। আর নেপথ্যের মহানায়কের নাম বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং। ১৯৯৬- এর ঐতিহাসিক ভুল ভারতীয় রাজনীতির সমকালীন অনুঘটক বামেদের রণনীতি বদলাতে বাধ্য করেছিল। গঠনতন্ত্রের গোঁড়ামি বহাল রাখলেও কংগ্রেসের ব্যাপারে ছুৎমার্গ অনেকটাই কাটিয়ে উঠছিল সিপিএম। এবং কংগ্রেসের সঙ্গে বোঝাপড়া করে সাম্প্রদায়িকতাকে রোখার লাইনটিকে মাইলফলক বানিয়ে পাদপ্রদীপের আলো থেকে সরে গিয়েছিলেন সিপিএমের নবরত্নসভার শেষ দুই কমরেড। অনেকটাই অবসৃত জ্যোতি বসুকে সঙ্গে নিয়ে দলে সংখ্যালঘু সাধারণ সম্পাদক সুরজিৎ নেমেছিলেন পার্টির লাইন বদলের দিশায় ইনার পার্টি স্ট্রাগলে।

    বাইরের জমি তৈরি করতে সুরজিৎকে সহারা দিয়েছিলেন ভিপি। আর রাজীবের বন্ধু থেকে শত্রু হওয়া ভিপির অক্লান্ত চেষ্টা আর শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যস্থতায় কংগ্রেসের সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীর ভুল ভেঙেছিল ভিপির বিষয়ে। ছিয়ানব্বইয়ে সিপিএমের সরকারে না যাওয়ার জেদ দেখে অকংগ্রেসি ধর্মনিরপেক্ষ শিবিরের মুকুটহীন রাজা বিশ্বনাথপ্রতাপ সবাইকে বলেছিলেন কংগ্রেসকেই জোটের নেতৃত্বে আনা ছাড়া সরকার গড়া বা তা স্থিতিশীল করা যাবে না। বাংলায় , কেরলে সংগঠন বাঁচাতে ভাবের ঘরে চুরি করার রণনীতি বহাল রেখেই সেকুলার জোট গড়তে হবে। এবং কংগ্রেসের নেতা কে হবেন তা নিয়ে কংগ্রেসই মাথা ঘামাবে। বিশ্বনাথের সঙ্গে সম্পর্ক মধুর ছিলনা প্রণবের। তাই প্রণবকে সঙ্গে নিয়ে জমি তৈরির কাজে নামলেন সুরজিৎ। বিশ্বনাথ ব্যক্তিগতভাবে ভোট রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিয়েও সনিয়ার সঙ্গে লাগাতার কথা বলতে শুরু করলেন । কার্যক্ষেত্রে তার ফলোআপ করতেন সুরজিৎ ও তাঁর সঙ্গী সিপিআইয়ের শীর্ষনেতা এবং লালু , মুলায়মের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কমরেড অর্ধেন্দুভূষণ বর্ধন । যিনি এবি বর্ধন নামেই পরিচিত। নাগপুরের বাঙালি বর্ধনদার সঙ্গে খাতিরের সম্পর্ক শরদ পওয়ারের।  

    সনিয়া ও পওয়ারের তিক্ততা মিটিয়ে বোঝাপড়ার কথা হল কংগ্রেস ও এনসিপির। এই আগাগোড়া একের সঙ্গে আরেককে জোড়ার কঠিনতম কাজটি পড়ল প্রণববাবুর ও সুরজিতের ওপর। পরিস্থিতি অনেকটা পরিপক্ব হওয়ার পর আসরে এলেন জ্যোতি বসু। এদিকে সীতারাম ইয়েচুরি ও প্রকাশ কারাটের সঙ্গে নিত্যই দিল্লিতে পার্টি সেন্টারে হাজির পিবি সদস্যদের বৈঠকে কথা বলতেন সুরজিৎ। জ্যোতি বসুর মতামততো নিতেনই। এই সময়ে তালকাটৌরা রোডের ১৩ নম্বর বাড়িতে সন্ধ্যার পর আসতেন সুরজিৎ। ওঁর সঙ্গে অতীতে রাজ্যসভা থেকেই ঘনিষ্ঠতা ছিল প্রণববাবুর। দিনের পর দিন প্রণববাবুর কাছে গিয়ে দেখা হয়েছে কমরেড সুরজিৎয়ের সঙ্গে। দীর্ঘ পরিচয়ের সূত্রে ওঁর কাছেও সস্নেহ প্রশ্রয়ের অভাব ছিলনা। সুরজিৎয়ের মজা ছিল, কী কথা হল, কার সঙ্গে হল, এসব বলতেন না। বলতেন, সময় হলে সব জানতে পারবে। শুধু জেনে রাখ সবকিছু সঠিকভাবে এগোচ্ছে। সুরজিৎয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর একদিন প্রণববাবুর কাছে গিয়ে জানতে চাইছি।

    ” দাদা ” রাজনীতিবিদ হিসেবে উৎকর্ষের শিখরে থেকে স্বভাবতই ব্যক্তিগত বিশ্বাসযোগ্যতায় আস্থা রাখতেন। স্নেহের সম্পর্ক একদিনে গড়ে উঠতনা বা ভেঙেও যেতনা। ইতিহাস বা রাজনীতির অজ্ঞতা যদি কারও প্রশ্নে ধরা পড়ত তাহলে তার ধমক খাওয়া অনিবার্য ছিল। সুরজিৎয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর সেদিন দাদার মেজাজ বেশ ফুরফুরে। বললেন, সুরজিৎ একদম ভাইস চ্যান্সেলর । দারুণ রাজনীতির লোক। ওর দলের ছেলেগুলো ওর কাছ থেকে কিছু শিখলনা। সিরিয়স কথা , কিন্তু বললেন হাসির ছলে। প্রকাশ কারাটের সঙ্গেও কথা বলতেন দাদা। কিন্তু সুরজিৎয়ের সঙ্গে বৈঠকের সুবাদে সীতারাম অনেক বেশী যেতেন। এবং সীতারামকে একটু বেশিই স্নেহ করতেন অর্থনীতির ভালো ছাত্র বলে। পরে যখন ইউপিএ গঠিত হল, এবং দৃশ্যপট থেকে সরে গেলেন সুরজিৎ, তখন ইউপিএ-বাম সমন্বয়ের মূল কাজটি প্রণববাবু করতেন সীতারাম ইয়েচুরিকে ডেকে নিয়ে। বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে শুধু সীতারামকেই বলতে বলতেন। নিজে বলতেন দুটো একটা কথা।

    এইভাবেই ২০০৪ এর সরকারের মুশকিল আসান প্রণববাবু চার বছর নিরুপদ্রবেই চালিয়ে নিয়েছিলেন। মাঝেমধ্যে জ্যোতিবাবুর সঙ্গে দেখা করতে যেতেন কলকাতায় গেলে। দুজনের কথাবার্তার পর প্রেস মিডিয়া ছেঁকে ধরেছে দুজনকেই। প্রণববাবুর সৌজন্য এত প্রখর ছিল, যা শেখার মতো। হাসিমুখে ক্যামেরাকে বলেছেন জ্যোতিবাবুকে দেখিয়ে, ওঁর কাছে আগে যান। এবং জ্যোতি বাবুর মস্তিষ্ক মিডিয়ার সামনে শেষদিনেও ছিল প্রখর। প্রণবকে দেখিয়ে বলেছেন, ” জিজ্ঞাসার কিছু নেই। ও আছে তো। সব ঠিকমতোই করছে। ও আমাদের পার্টিকে জানে। আমরা কী চাই সেটা খুব ভালো করে জানে। তাই কোনও সমস্যা নেই।” সেদিন অভিভূত হাসিমুখ ছাড়া প্রণববাবু মিডিয়াকে আর কিছুই দেননি।

    সেই সরকার থেকে বামদের সমর্থন তুলে নেওয়ার ঘটনাটি রোখার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলেন দাদা। পরমাণু চুক্তির কিছু প্রস্তাবিত ধারার বয়ান বদলানোর চেষ্টা তিনি কীভাবে করেছিলেন তা জানতেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, প্রকাশ কারাট ও সীতারাম ইয়েচুরি। সনিয়াকেও রাজি করিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু আমেরিকার তৎকালীন বুশ প্রশাসন ছিল অনমনীয়। তখন একমাত্র  প্রধানমন্ত্রী মনমোহনই পারতেন হয় কে নয় করতে। কিন্তু যাঁরা তাকে দুর্বল প্রধানমন্ত্রী বলে প্রচারে নেমেছিলেন তাঁদের নেতা আডবাণীও বিলক্ষণ জানতেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী কখনও দুর্বল হননা। এই সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ঈশ্বরের মতোই সর্বশক্তিমান। তাছাড়া কংগ্রেস সভানেত্রী বহু জনমুখী কর্মসূচিতে বামেদের কথামতো চাপ দিলেও চাননি প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃত্ব কোনওভাবে খর্ব হোক আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে।

    যাঁরা প্রণববাবুর সম্পর্কে কিছুই না জেনে অনর্গল প্রচারে বলে, উনি সাধারণ মানুষের জন্যে, রাজ্যের জন্যে কিছু করেন নি, তাঁদের জেনে রাখা ভাল, একশ দিনের কাজ থেকে রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও সর্বভারতীয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপনাসহ বাজেটে এমন বহু জনমুখী কর্মসূচি নিতে প্রধানমন্ত্রীকে চাপ দিয়েছেন যেগুলো কোনওদিন আলোর মুখ দেখতনা। চিদম্বরম অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন সব জনমুখী প্রকল্প রুখতেন টাকা নেই বলে। এবং মনমোহন তাতে সায় দিতেন। প্রণববাবু নীরবে এই ‘না’ গুলোকে হ্যাঁ করিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে। সনিয়াকেও সঙ্গে পেয়েছেন। কিন্তু শেষ যেদিন মনমোহন দেখলেন প্রণববাবুর সমঝোতার সূত্রে বামেরা রাজি এবং চুক্তির মূল বয়ানের কিছুটা বদলাতে হবে, সেদিন তিনি তাঁর শান্ত এবং বরফশীতল কণ্ঠ শোনালেন দলনেত্রীকে।

    ৭, রেসকোর্স রোডে সনিয়াজি যখন এলেন মনমোহন তাঁকে ঠাণ্ডা গলায় জানিয়ে দিলেন, পরমাণু চুক্তির বয়ান বদল করতে হলে আমি এখনই পদত্যাগ করব। এটাই আমার অপরিবর্তনীয় স্থির সিদ্ধান্ত। এরপরই রীতিমতো হতবাক সনিয়া প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলেন, তাঁর কর্তৃত্ব কখনোই খর্ব হবেনা। তিনি যা বলবেন সেটা অবশ্যই শেষ কথা। রাতেই চূড়ান্ত হল চুক্তির বয়ান। বামেদের বিসর্জন দিয়ে ও স্পিকারকে পাশে নিয়ে মনমোহন যে চুক্তি করলেন তা দিল্লির মসনদকে ধাক্কা দিয়ে গেল। প্রণবকে সব বিষয়ে শেষ কথা বলার অধিকার দিলেও এই পরমাণু চুক্তির বিষয়ে তিনি পুরোপুরি অনমনীয় থাকলেন। শেষে বার্তা চলে গেছে যখন বুশের দফতরে তখনও প্রণববাবুর কাছে কোনও বিস্তারিত বয়ান নেই। কিন্তু মনমোহনের সঙ্গে সম্পর্কের রসায়ন চমৎকার থাকায় প্রণববাবু নিষ্ঠ সহযোগীর দায়িত্বও চালিয়ে গেলেন। বামেদের বিচ্ছিন্ন হওয়ার ক্ষোভ চেপে সরকার বাঁচাতে নতুন বন্ধু খুঁজতে নামলেন। বাম বিকল্প বাংলাতেই বেড়ে উঠছিল। সনিয়ার নয়া অবস্থান তীব্র বাম বিরোধিতা মমতাকে যে জলপাই পাতা দেখাল তার আসমানি আয়োজন আর জমিনি জোটের ছবি আঁকা ছিল প্রণববাবুর ক্যানভাসে।

    Related Posts

    Comments

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    সেরা পছন্দ

    কত চালে কত ঝলমলে বাঙালি ত্বক! হ্যাঁ, রূপচর্চায় ‘চাল’!

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো :- সৌন্দর্য এমন একটি জিনিস যা সবারই কাম্য। মানুষ জানে না যে তারা তাদের ত্বককে উজ্জ্বল করতে কতটা...

    দাঁতের ক্যাভেটি দূর করতে এই উপায় ম্যাজিকের মত কাজ করে!

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো:- শক্তিশালী দাঁত আমাদের গর্ব এবং আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এগুলো ছাড়া আমরা আমাদের প্রিয় খাবার খাওয়ার কথা...

    লক্ষ্মী-মনোজ জুটিতে ফের ট্রফি! বিজয় হাজারের পর এবার রঞ্জি জয়?

    ধোনির রাজ্যের বিরুদ্ধে ৯ উইকেটে জিতে রঞ্জির সেমিফাইনালে মনোজ তিওয়ারিররা। সেমিফাইনালে বাংলার সামনে পণ্ডিতের মধ্যপ্রদেশ। উল্লেখ্য রঞ্জি কোয়ার্টার ফাইনালে ঝাড়খণ্ডকে ৯ উইকেটে...

    বিমান বন্দরে তিতাস ও হৃষিতা, ক্রীড়ামন্ত্রী ও সিএবি সভাপতির উপস্থিতিতে সম্বর্ধনা

    মহিলাদের অনূর্ধ্ব-১৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার পরে গতকাল শহরে ফিরলেন দুই বাঙালি বিশ্বজয়ী চুঁচুড়ার তিতাস সাধু ও হাওড়ার হৃষিতা বসু। আর এক বিশ্বজয়ী...

    লক্ষ্মীর বাংলা কার্যত সেমিফাইনালে! ঝাড়খণ্ডের বিরুদ্ধে জয়,শুধু সময়ের অপেক্ষা?

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো: আকাশ শাহবাজদের দাপটে বিধ্বস্ত বিরাটরা। রঞ্জি ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালে ঝাড়খণ্ডের বিরুদ্ধে ৮১ রান করলেন শাহবাজ আমেদ। ১২০ বলের...