16 C
Kolkata
Monday, January 17, 2022
More

    মানিয়ে নিয়েছেন, অচিন্ত্যর কোনও সমস্যা নেই – নির্মলকুমার সাহা

    পাতিয়ালায় জাতীয় শিবিরে খোশমেজাজেই আছেন বাংলার তরুণ ভারোত্তোলক অচিন্ত্য শিউলি। করোনার প্রভাবে অনেকেই দিশেহারা। হতাশায় ভুগছেন। অচিন্ত্যর তেমন কোনও সমস্যা নেই। রবিবার বিকেলে পাতিয়ালা থেকে ফোনে হাওড়া জেলার পাঁচলার দেউলপুরের ছেলে অচিন্ত্য বললেন, ‘‌সমস্যা মনে করলেই সমস্যা। শুধু খেলোয়াড় কেন, সারা বিশ্বে নানা জগতের মানুষেরই কোনও না কোনওভাবে ক্ষতি হয়েছে। লকডাউনের প্রথম দিকে কীভাবে সময় কাটাব, তা নিয়ে একটু চিন্তা ছিল। কয়েকদিনেই তা কেটে যায়। মানিয়ে নিই।’‌

    করোনাকালের প্রথম তিন মাস প্র‌্যাকটিস বন্ধ ছিল। কী করতেন তখন?‌ অচিন্ত্য জানালেন, ‘‌জিমে যাওয়ার উপায় ছিল না। মাঠেও যেতে পারতাম না। হস্টেলের বাইরে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ ছিল। হস্টেলের লনেই হাঁটতাম। হেঁটে নিজেকে যতটা ফিট রাখা যায়, সেই চেষ্টা করতাম। বাকি সময় ঘরে বসে খেলার ভিডিও, কিছু সিনেমা দেখা। ফোনে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করা। এভাবেই কেটে গেছে। আর এখন তো কিছু নিয়ম মানতে হলেও দু-‌বেলা প্র‌্যাকটিস হচ্ছে। অবসর সময় কমে গেছে।’‌

    গত বছর, ২০১৯ সালে বিশাখাপত্তনমে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে, সামোয়ায় কমনওয়েলথ ভারোত্তোলনে এবং নেপালে সাউথ এশিয়ান গেমসে ৭৩ কেজি বিভাগে সোনা জিতেছেন। বছরটা বেশ ভালই কেটেছে। কিন্তু ২০২০-‌র শুরুটা ভাল হয়নি। ফেব্রুয়ারিতে কলকাতায় জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিততে ব্যর্থ হন। জেতেন রুপো। তারপরই জোর প্র‌্যাকটিস শুরু করেছিলেন কোচ বিজয় শর্মার তত্ত্বাবধানে। লড়াইটা ছিল আবার সেরার আসনে বসার। কিন্তু তারপরই শুরু হয়ে গেল করোনা-‌আতঙ্ক, লকডাউন। অচিন্ত্য বললেন, ‘‌হঠাৎ প্র‌্যাকটিস বন্ধ হয়ে গেলে কিছুটা ছন্দপতন তো হয়ই। কিন্তু এতে কারও কিছু করার ছিল না। আসলে আমি শুরু থেকেই এটা নিয়ে বেশি ভাবিনি। তাতে নিজের ওপর মানসিক চাপ বাড়ত। হস্টেলের বন্দিজীবনে আমার একমাত্র কাজ ছিল নিজেকে চাপমুক্ত রাখা। সেটা যেভাবেই হোক পেরেছি।’‌

    আর সামনের প্রতিযোগিতা?‌ যদি সামনের বছর অলিম্পিক হয়?‌ এখানেও অচিন্ত্যর স্পস্ট জবাব, ‘‌কবে কী কম্পিটিশন হবে, সেটাই কেউ জানে না। এখন থেকে ভেবে লাভ নেই। আর টোকিও অলিম্পিক?‌ সেটাও সামনের বছরও যে ‌হবে, এরকম নিশ্চয়তা নেই। আর যদি হয়ও, কোয়ালিফাই করার জন্য আর কোনও কম্পিটিশন পাব কিনা, সেটাও জানি না। এখন থেকে ভেবে কী হবে?‌ তাতে সেই মানসিক চাপ বাড়বে।’‌

    আসলে শৈশব থেকেই লড়াই ওঁর রক্তে। অচিন্ত্যর বাবা জগৎ শিউলি ভ্যান চালাতেন। সাত বছর আগে হঠাৎই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সেই থেকে মা পূর্ণিমা শিউলি জরির কাজ করে সংসার চালাতে শুরু করেন। সংসারের ওই লড়াই দেখতে দেখতেই বেড়ে উঠেছেন অচিন্ত্য। হয়ত সেই জন্যই বলছিলেন, ‘‌আমি অতকিছু ভাবি না। লড়তে জানি। প্র‌্যাকটিস শুরুর পর আমার যেটা কাজ, মন দিয়ে সেটা করছি। তিন মাস প্র‌্যাকটিসে না থাকায় যতটা পিছিয়ে পড়েছি, সেটা পুরণ করার চেষ্টা করছি।’‌

    ‌‌

    Related Posts

    Comments

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    সেরা পছন্দ

    অনেকদিন পর রাজ্যে কমল করোনা সংক্রমন , উদ্বেগের কারণ কলকাতা

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : গত কয়েকদিন পর সামান্য কমল করোনা সংক্রমণ। কমল মৃত্যুর সংখ্যাও। গত তিনদিন ধরে বাংলায়...

    প্রয়াত নাট্যজগতের অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব শাঁওলি মিত্র !

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : প্রয়াত বাংলার অন্যতম বিখ্যাত নাট্যকার শাঁওলি মিত্র। আজ দুপুর তিনটের সময় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ...

    দীর্ঘদিন স্কুল কলেজ বন্ধ রাখার প্রয়োজন নেই , বললেন বিশ্ব ব্যাংকের কর্তা

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : করোনা থেকে শিশুদের রক্ষা করতে দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ স্কুল, কলেজ...

    ওমিক্রনের উপসর্গের সাথে অন্য ভ্যারিয়েন্টের পার্থক্য কি ? দেখুন কি বলছে বিশেষজ্ঞরা

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : ওমিক্রনের ফলে দ্রুত সংক্রমণ ছড়াচ্ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। ওমিক্রনে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে বটে। কিন্তু...

    আর ৭ দিন নয় , এবার ৫ দিন হতে পারে হোম আইসোলেশনের মেয়াদ !

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : আর ৭ দিন নয়, এবার থেকে করোনায় আক্রান্ত হলে ৫ দিন হোম আইসোলেশনে থাকলে...