22 C
Kolkata
Thursday, January 27, 2022
More

    বাংলার, মোহনবাগানের ছোটদের গোলকিপার প্রদীপের দিন কাটছে না খেয়ে থাকার আশঙ্কায় – নির্মলকুমার সাহা

    কাশীনাথ দাস একসময় ফুটবল খেলতেন। সাহু মেওয়ালালের হাত ধরে কলকাতা ময়দানে খেলা শুরু করেছিলেন হেস্টিংসের হয়ে পঞ্চম ডিভিশনে। পরে গ্রিয়ার, যুগশান্তির হয়ে বিভিন্ন ডিভিশনে কয়েক বছর খেললেও ফুটবলার হিসেবে বেশি দূর এগোতে পারেননি। তিনি চাইতেন নিজে যা পারেননি, ছেলে যেন সেটা পারে। বাবার সেই স্বপ্নপূরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রদীপ দাস। সংসারে নানা প্রতিকূলতা, তবু লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে গত বছর বাংলার হয়ে সাব জুনিয়র জাতীয় প্রতিযোগিতা মীর ইকবাল ট্রফিতে খেলা গোলকিপার।

    মোহনবাগান মাঠে ।

    কাশীনাথ ফুটবলে বেশি এগোতে পারেননি, চাকরিও জোগাড় করতে পারেননি। সংসার চালাতে একসময় পেশা হিসেবে বেছে নিতে হয়েছিল ভ্যান চালানো। এখনও ওটাই পেশা। তবে সারাদিন ভ্যান চালাতে পারেন না। কারণ শৈশব-‌কৈশোরের ফুটবলপ্রেম। ফুটবলের প্রতি সেই ভালবাসার টানেই বেলুড়ের বাড়ি থেকে লিলুয়ার সূর্যনগর মৈত্রী সঙ্ঘে ছোটদের খেলা শেখাতে যান। তখন আর ভ্যান চালানো হয় না।

    বেলুড় খামারপাড়ায় প্রদীপদের পরিবারে দারিদ্র‌্য নিত্যসঙ্গী। সেই দারিদ্র‌্য করোনা-‌লকডাউন পর্বে বেড়েই চলেছে। সাড়ে ৪ মাস পরিবারে কোনও আয় নেই। কীভাবে সংসার চলছে?‌ প্রদীপ বলল, ‘‌বাবার কাজ বন্ধ। এখন শুধু ফ্রি রেশনই ভরসা লকডাউনের প্রথমদিকে বিভিন্ন ক্লাব, সংস্থা ত্রাণ দিচ্ছিল আর ঘরে যা টাকা ছিল মোটামুটি চলে যাচ্ছিল। এখন আর চলছে না। যত দিন যাচ্ছে সমস্যা বাড়ছে। এরকম আরও কিছুদিন চললে মনে হয়, না খেয়ে থাকতে হবে।’‌

    পরিবারের এই অবস্থায়ও ছেলেকে ফুটবল খেলায় উৎসাহ দেওয়া কমেনি বাবার। প্রবল দারিদ্র‌্যের মধ্যেও মনে জোর রাখছে ছেলেও। প্রদীপ বলছিল, ‘‌সুব্রত পাল, শঙ্কর রায় আমার প্রিয় দুই গোলকিপার। শঙ্করদার বাড়ির অবস্থাও ভীষণ খারাপ ছিল। আমাদের চেয়েও খারাপ। লড়াই করে বড় হয়েছে। শঙ্করদার লড়াইয়ের কথা শুনেছি। যা আমার মনের জোর বাড়ায়। শঙ্করদা যখন পেরেছে, আমিও পারব।’‌‌ বারবার ওর মুখে শোনা যাচ্ছিল, ‘‌হার মানছি না। আমি শেষ পর্যন্ত লড়ব।’‌

    ফুটবলে এরই মধ্যে প্রদীপ অনেকটা সম্ভাবনা তৈরি করেছে। পরপর দু’‌বার সাব জুনিয়র জাতীয় ফুটবলে বাংলার হয়ে খেলেছে। গত বছর বাংলা সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে গেলেও ওর খেলা নজর কেড়েছিল। বাংলার ওই দলের কোচ অর্চিষ্মান বিশ্বাস এখনও প্রদীপের খেলার প্রশংসা করেন। ইস্টবেঙ্গল, রেনবো হয়ে প্রদীপ দাস এখন মোহনবাগানের অনূর্ধ্ব ১৫ দলের ফুটবলার। প্রদীপ বলছিল, ‘‌সবে তো শুরু। আমাকে অনেক দূর যেতে হবে। সবারই তো লক্ষ্য থাকে ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানের সিনিয়র দলের হয়ে খেলা। সেটা তো আছেই। খেলতে চাই ভারতের হয়েও।’‌ 

    Related Posts

    Comments

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    সেরা পছন্দ

    করোনা সংক্রমনের লক্ষণ ফুটে উঠতে পারে ত্বকে ? কি বলছেন বিশেষজ্ঞরা

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : করোনা সংক্রমনের লক্ষণ শুধু শ্বাসযন্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শরীরের বিভিন্ন অংশে ফুসকুড়ি, মাথাব্যথা, পেশী...

    করোনা আবহে বাচ্চাদের সাধারণ সর্দি-কাশি হলে কি করবেন ? দেখুন কেন্দ্রের নির্দেশিকা

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : বাচ্চাদের সাধারণ সর্দি-কাশি হলে ব্যস্ত হয়ে পড়েন বাবা-মায়েরা। করোনা আবহে সামান্য অসুস্থতাও চিন্তা বাড়াচ্ছে...

    সাঁওতালি সাহিত্যে অবদানের জন্য পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হলেন ঝাড়গ্রামের সাঁওতালি ভাষার কবি-সাহিত্যিক কালীপদ সোরেন

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : সাঁওতালি সাহিত্যে অবদানের জন্য পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হলেন ঝাড়গ্রামের সাঁওতালি ভাষার কবি-সাহিত্যিক কালীপদ সোরেন।...

    ধীরে ধীরে নামবে তাপমাত্রা , শেষ লগ্নে জাঁকিয়ে পড়তে পারে শীত

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : বৃষ্টির ভ্রুকুটি সরছে না রাজ্যের উপর থেকে। প্রজাতন্ত্র দিবসের দিনও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিল...

    দেশে আবারও বাড়ল করোনা সংক্রমণ , বাড়ছে সুস্থতা

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে বাড়ল করোনা সংক্রমণ। দৈনিক কোভিড গ্রাফ একধাক্কায় বাড়ল ১১.৭ শতাংশ।...