27 C
Kolkata
Friday, May 27, 2022
More

    ‌ ইস্টবেঙ্গলের দুই মহিলা ফুটবলার মুগলি, গুরুবারি এখন চাষী!‌ – নির্মলকুমার সাহা

    মুগলি সোরেন ও গুরুবারি মান্ডি। দু’‌জনই ঝাড়গ্রামের মেয়ে। দু’‌জনই এবার মহিলা ফুটবল লিগে ইস্টবেঙ্গলের খেলোয়াড়। যে লিগ করোনা-‌লকডাউনের জেরে মাঝপথে বন্ধ। মুগলি ডিফেন্ডার, গুরুবারি গোলকিপার। দু’‌জনই এখন আর্থিক অনটনে জেরবার।

    মুগলির বাড়ি সাঁকরাইল থানার নয়াগা গ্রামে। ওর বাবা ধনঞ্জয় সোরেনের বয়স ৭০ পার হয়ে গিয়েছে। মা সালমা সোরেনের বয়স ৬০-‌এর বেশি। একসময় দু’‌জনই দিন মজুরিতে চাষের কাজ করত অন্যের জমিতে। বয়সের কারণে অনেকদিন ধরেই পুরো দিন কাজ করতে পারছিলেন না। পুরো মজুরিও পাচ্ছিলেন না। আর এখন করোনা-‌লকডাউন শুরুর থেকে কাজ প্রায় পুরোই বন্ধ, ভয়ে ক্ষেতে যাচ্ছেন না ধনঞ্জয়-‌সালমা। কিন্তু সংসার টানতে ধানক্ষেতে কাজে যেতে হচ্ছে মুগলিকে। যেদিন কাজ পায়, সকাল ৮টা থেকে বিকেল তিনটে পর্যন্ত পরিশ্রম করে হাতে আসে ১৫০ টাকা। 

    গুরুবারির বাড়ি কেশিয়াপাতা গ্রামে। ওর বাবা শুকলাল মান্ডিও দিন মজুর। তবে কাজের কোনও ঠিক নেই। কখনও চাষ করেন। কখনও গাড়ির খালাসির কাজ। কখনও রাজমিস্ত্রির জোগাড়ে। করোনার জেরে এখন বলতে গেলে কোনও কাজই পাচ্ছেন না। গুরুবারির মা ডুনানি মান্ডি মানসিক ভারসাম্যহীন। ফলে সংসার চালানোর দায় এখন অনেকটাই গুরুবারির। ফুটবল খেলা এখন নেই। সকাল হলে গুরুবারিকেও যেতে হচ্ছে টাকার খোঁজে ক্ষেতে। দৈনিক মজুরি ওই ১৫০ টাকা।

    রোহিনী বালিকা বিদ্যালয়ের ক্লাস ইলেভেনের ছাত্রী মুগলি ২০১৯‌-‌২০-‌তে অরুণাচলে মহিলাদের সিনিয়র জাতীয় ফুটবলে বাংলার হয়ে খেলেছে। ২০১৭ সালে খেলেছে কটকে জুনিয়র ন্যাশনালে। আরও আগে ২০১৬ সালে খেলো ইন্ডিয়ায়। ২০১৪ সালে সুব্রত কাপে খেলেছে কেশিয়াপাতা গোপীনাথ মেমোরিয়াল হাই স্কুলের হয়ে।

    টাকার অভাবে একসময় লেখাপড়া ছেড়ে দিতে হয়েছিল গুরুবারিকে। পরে আবার ভর্তি হয়েছে কেশিয়াপাতা গোপীনাথ মেমোরিয়াল হাই স্কুলে। এখন পড়ে ক্লাস টেনে। ২০১৭ সালে কটকে জুনিয়র ন্যাশনালে বাংলার হয়ে খেলেছে। ওই কটকেই ২০১৮-‌১৯-‌এ খেলেছে সিনিয়র ন্যাশনালেও।

    দু’‌জনেরই ফুটবল খেলা শুরু সাঁকরাইল থানা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির মাঠে অশোক সিংহর কাছে। এখনও যখন গ্রামের বাড়িতে থাকে ওই মাঠেই যায় ফুটবল খেলতে, অনুশীলনে।

    মুগলি ও গুরুবারি দু’‌জনই জানাল, ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে ওদের চুক্তি হয়েছিল ৯ হাজার টাকা করে। সাড়ে ৪ হাজার করে পেয়েছে। বাকিটা পাওয়ার কথা ছিল পরে। কিন্তু লকডাউনের জন্য লিগ বন্ধ, আসতে পারছে না কলকাতায়ও। ফলে বাকি ওই টাকাও নিতে পারছে না। যে টাকা পেলে ওদের সংসার সাময়িকভাবে চলে যেত। ওরা এখন ওই টাকার অপেক্ষায় দিন গুনছে।

    Related Posts

    Comments

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    সেরা পছন্দ

    করোনা আবহে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ‘টম্যাটো ফ্লু’ , কি কি সতর্কতা অবলম্বন করবেন ?

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : এতদিন গ্রামের শিশুরা সংক্রমিত হত। খাস কলকাতার খুদেরাও আক্রান্ত হচ্ছে ভাইরাস ঘটিত ‘হ্যান্ড, ফুট...

    যারা “আইন” মেনে চলে তাদের জন্যই গ্রাহ্য মৌলিক অধিকার , পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : সাম্প্রতিককালে সামাজিক মাধ‌্যমে আপত্তিকর পোস্ট গুলিও ‘বাকস্বাধীনতার’ অধিকারের আড়ালে আশ্রয় নিয়ে বাঁচার চেষ্টা করে।...

    আইনি স্বীকৃতি পেলেন যৌনকর্মীরা , দেহ ব্যবসাকে পেশা হিসাবে স্বীকৃতি দিল সুপ্রিম কোর্ট

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আইনি স্বীকৃতি পেলেন যৌনকর্মীরা। দেহ ব্যবসাকে আর পাঁচটা সাধারণ কাজের মতো...

    অতীতে এলিয়েন বার্তা এসেছিল পৃথিবীতে , গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : প্রায় অর্ধশতক আগে এলিয়েন বার্তা এসেছিল পৃথিবীতে। বার্তার স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ৭২ সেকেন্ড। বিগ...

    ফের বেসরকারিকরণের পথে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ! তালিকায় আর কোন কোন সংস্থা ?

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : ফের বেসরকারিকরণের পথে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা। এবার হিন্দুস্তান জিঙ্ক। দেশের বৃহত্তম ইন্টিগ্রেটেড জিঙ্ক প্রস্তুতকারী...