28 C
Kolkata
Thursday, August 11, 2022
More

    লেখাপড়া ছেড়ে দিতে হচ্ছে বিশ্বজিৎকে, ছাড়তে হবে কি অ্যাথলেটিক্সও? – নির্মলকুমার সাহা

    করোনার ধাক্কায় বিভিন্ন বয়সভিত্তিক বিভাগে বাংলার পরিচিত অ্যাথলিটদের অধিকাংশই এখন গভীর আর্থিক সঙ্কটের মুখে। পেট ভরে খেতে পারছে না। মাঠে যেতে পারছে না। হতাশায় দিন কাটছে। শুধু কি তাই?‌ টাকার অভাবে অনেকে লেখাপড়া ছেড়ে দেওয়ার মুখেও। এরকম পরিস্থিতিতে কীভাবে চালিয়ে যাবে খেলাধুলো?‌ এরকমই একজন গত বছর রাজ্য স্কুল অ্যাথলেটিক্সে ৩০০০ মিটার দৌড়ে মিট রেকর্ড (‌৯ মিনিট ১৭ সেকেন্ড)‌ গড়ে সোনাজয়ী বিশ্বজিৎ দেবনাথ।

    বিশ্বজিতের বাবা মদন দেবনাথ রঙের মিস্ত্রি। এক ঠিকাদারের তত্ত্বাবধানে কলকাতায় এসে কাজ করেন। এমনিতেই প্রতিদিন কাজ থাকে না। আধা-‌বেকার। সংসার চলে টেনেটুনে। লকডাউন শুরুর পর থেকে তো তিনি পুরোপুরি ‘‌বেকার’‌‌। কল্যাণী গয়েশপুরের ডাক্তার মোড়ের বাড়িতে স্ত্রী, পুত্রকে নিয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। কবে আবার কলকাতায় এসে কাজ করতে পারবেন, জানেন না। পেট ভরে খাবার জুটছে না, তার মধ্যেই আরেক সমস্যা বিশ্বজিৎ এবার উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছে। অনেক কষ্টেও ছেলেকে খেলাধুলোর পাশাপাশি লেখাপড়া শিখিয়ে যাচ্ছিলেন মদন দেবনাথ। ইচ্ছা ছিল, ছেলে খেলাধুলোর পাশাপাশি লেখাপড়া ভালভাবে করুক। কিন্তু এখন আর চালাতে পারছেন না। ছেলেকে বলে দিয়েছেন, কলেজে ভর্তি করার টাকা নেই, আর লেখাপড়া করতে হবে না।

    কাঁচড়াপাড়ার জোনপুর অ্যাথলেটিক্স কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থী বিশ্বজিৎ। ওখানে প্রশিক্ষণ নেয় গোপাল দেবনাথের কাছে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় অবশ্য ওর নিজের নদীয়া জেলার গয়েশপুর ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে। ২০১৯ সালে রাজ্য স্কুল মিটে রেকর্ড গড়ে সোনা জেতা ছাড়াও রাজ্য অ্যাথলেটিক্সে নদীয়া জেলার হয়ে ৩০০০ মিটারে পঞ্চম হয়েছে। গত বছর অংশ নিয়েছে রাজ্য ক্রশ কান্ট্রি প্রতিযোগিতায়ও। অনূর্ধ্ব ১৮ বিভাগে ৬ কিলোমিটারে পেয়েছে দ্বিতীয় স্থান। অংশ নিয়েছে জাতীয় স্কুল অ্যাথলেটিক্সেও।

    ঠিক ছিল ৫০০০ এবং ১০০০০ মিটার সামনে রেখে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করে দেবে। তখনই সব পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে করোনা। পুরোপুরি সম্ভব নয়, তবু লকডাউন কিছুটা শিথিল হতেই অল্পস্বল্প অনুশীলন শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু বিশ্বজিৎ বলছিল, ‘‌আদৌ আর খেলাধুলো করতে পারব কিনা, সেটা নিয়েই তো চিন্তায় আছি। দিন দিন অবস্থা যা খারাপ হচ্ছে!‌ লেখাপড়া ছেড়ে দিতে হচ্ছে। আর কিছুদিন এরকম চললে হয়ত অ্যাথলেটিক্সও ছেড়ে দিতে হবে। ফ্রি রেশন পাচ্ছি। আর স্যার (‌গোপাল দেবনাথ)‌ ও ক্লাবের অন্যরা সাহায্য করছেন বলে খেতে পাচ্ছি।’

    ‌বলার অপেক্ষা রাখে না, আমাদের বাংলায় অ্যাথলেটিক্সে আসে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের ছেলেমেয়েরাই বেশি। করোনা, কোথাও কোথাও তার সঙ্গে আমফান, গভীর সঙ্কটে ফেলে দিয়েছে ওদের। বাংলার নতুন প্রজন্মের এই অ্যাথলিটরা এখন সঙ্কট থেকে মুক্তির পথ খুঁজছে।  

    ‌‌

    Related Posts

    Comments

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    সেরা পছন্দ

    কমনওয়েলথে সোনাজয়ী অচিন্ত্যকে রাজ্য সরকারের ৫ লক্ষ!‌ ‘খেলা দিবসে’ আর্থিক পুরস্কার সৌরভকেও

    দ্য ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : কমনওয়োলথ গেমসো ভারোত্তোলনে সোনা জয়ী অচিন্ত্য ও স্কোয়াশে ব্রোঞ্জ জয়ী সৌরভ ঘোষাল। দুই...

    সরাসরি ধর্মতলা থেকে হাবড়া এক বাসেই , দেখুন সম্পূর্ণ তথ্য

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : এবার সরাসরি ধর্মতলা থেকে হাবড়া এক বাসে যাওয়া যাবে।ওই বাসে পৌঁছে যাওয়া যাবে বকখালিও।...

    সঞ্জীবনী সঞ্চার বঙ্গ বিজেপিতে , এলেন নতুন পর্যবেক্ষক

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : বিজয়বর্গীয় যুগের অবসান। নয়া পর্যবেক্ষক পেল বঙ্গ বিজেপি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুনীল বনশলকে...

    নির্ধারিত সূচির আগে শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপ , জানাল FIFA

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : নির্ধারিত সূচির একদিন আগে শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। কাতারে প্রচণ্ড গরমের কারণে শীতকালে ফুটবল...

    একেই বলে ঈশ্বরের কৃপা ! ৭০ বছর বয়সে মা হলেন চন্দ্রাবতী দেবী

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : একে বলে ঈশ্বরের আশির্বাদ ! দশকের পর দশক ধরে চেষ্টাতেও সম্ভব হচ্ছিল না, এবারে...