30 C
Kolkata
Thursday, February 9, 2023
More

    পরিবারের কারও কার্ড নেই, ফ্রি রেশনও পাচ্ছে না রুবিনারা – নির্মলকুমার সাহা

    গত বছর ২০১৯ সালে রাজস্থানের জয়পুরে এশিয়ান যুব হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের গোলরক্ষার দায়িত্ব সামলেছে। ২০১৯-‌এর শেষ এবং এবছরের গোড়ায় পরপর খেলেছে বাংলার হয়ে সিনিয়র ও জুনিয়র ন্যাশনালে, যথাক্রমে দিল্লি ও গাজিয়াবাদে। ২০১৯ সালের শুরুতে বাংলার হয়ে অংশ নিয়েছে মহারাষ্ট্রে সিনিয়র ন্যাশনালে। তারপর বাংলার হয়ে খেলেছে আসামে পূর্বাঞ্চল হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়নশিপে। সেখানে বাংলা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তার আগে ২০১৬ থেকে একাধিকবার বাংলার হয়ে অংশ নিয়েছে সাব জুনিয়র ও জুনিয়র জাতীয় প্রতিযোগিতায়। সারা ভারত অনূর্ধ্ব ১৯ আন্তঃ সাই হ্যান্ডবলে খেলেছে দু’‌বার। ওদের সল্টলেক সাই সেন্টার ২০১৮ সালে তৃতীয় ও ২০১৯-‌এ রানার্স হয়। বাংলার মহিলা হ্যান্ডবলের নামী গোলকিপার ১৮ বছরের রুবিনা খাতুনের খেলোয়াড় জীবনের এটা মোটামুটি পরিসংখ্যান। এর বাইরে স্থানীয় পর্যায়েও কিছু সাফল্য আছে। স্থানীয় প্রতিযোগিতায় রুবিনা খেলে সেন্ট্রাল কলকাতার হয়ে।

    রাজারহাট রাইগাছির মসজিদ কমিটির বাড়িতে ভাড়া থাকে রুবিনারা। নাগরপোতায় এক হোটেলে রান্নার কাজ করেন ওর বাবা কলিমুদ্দিন। করোনা-‌লকডাউন শুরু হতেই সেই হোটেলে তালা। পরে হোটেল খুললেও খদ্দের বিশেষ নেই। ফলে দু-‌চারদিন কাজে গেলেও মালিক বারণ করে দেন, এখন আর আসতে হবে না। ফলে করোনার প্রভাবে আরও অনেকের মতো কলিমুদ্দিনও এখন ‘‌বেকার’‌। কীভাবে চলছে সংসার?‌ অনেকেরই এই পরিস্থিতিতে বড় ভরসা সরকারের ফ্রি রেশন। রুবিনাদের সেটাও নেই। কেন?‌ রুবিনা বলল, ‘‌আমাদের বাড়িতে কারও রেশন কার্ডই তো নেই। বাবা-‌মা অনেক চেষ্টা করেও রেশন কার্ড করাতে পারেননি। আমিও অনেকবার বিডিও অফিসে গেছি। কোনও লাভ হয়নি। আমাদের রেশন কার্ড আর হয়নি!‌ কেন হয়নি, সেটা বলতে পারব না।’‌

    পাড়ায় বিশ্বজিৎ সাউয়ের কাছে হ্যান্ডবল খেলা শুরু করে। পরে সুবিনয় ঠাকুরের কাছে কোচিং নেয়। সেখান থেকে সাইয়ে অতনু মজুমদারের কাছে। রুবিনা বলছিল, ‘‌আমি যতটুকু যা করতে পেরেছি, তা অতনু স্যারের জন্যই। শুধু কোচিং করানো নয়, যে কোনও সমস্যাতেই উনি আমার পাশে থাকেন।’‌ ২০১৭-‌র ১ নভেম্বর থেকে সাই হস্টেলে থাকারও সুযোগ পেয়ে যায়। আমাদের এখানে অনেক কিছু না থাকলেও একবার সাই হস্টেলে সুযোগ জুটে গেলে দরিদ্র পরিবারের অনেক ক্রীড়াপ্রতিভাই নিশ্চিন্ত হয়ে যেতে পারে অন্ততঃ খাওয়া-‌দাওয়া, খেলাধুলোর সুযোগ-‌সুবিধার অভাব হবে না। সাই হস্টেলে সুযোগ পেয়ে অনেকটাই নিশ্চিন্ত হয়েছিল রুবিনাও। কিন্তু লকডাউন শুরুর ঠিক আগেই তো সল্টলেক সাই কেন্দ্র থেকে হ্যান্ডবল খেলাই তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে তল্পিতল্পা গুটিয়ে রুবিনাকে চলে আসতে হয়েছে বাড়িতে। তারপর লকডাউন শুরু হতেই সঙ্কট আরও বেড়েছে।

    রাইগাছি হাই স্কুল থেকে এবছরই উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছে। রুবিনা বলল, ‘স্কুল থেকে অবশ্য এখনও চাল, গম পাচ্ছি। এর সঙ্গে ধারদেনা করে না চলার মতো সংসার চলছে।‌’

    Related Posts

    Comments

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    সেরা পছন্দ

    নিখরচায় চক্ষু পরীক্ষা শিবির

    কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাবের অর্থাৎ সিএসজেসি-‌র প্রচেষ্টায় এবং নাগরিক স্বাস্থ্য সঙ্ঘের সহযোগীতায় মঙ্গলবার সিএসজেসিতে কম্পিউটারাইজড চক্ষু পরীক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হল। ক্রীড়া সাংবাদিকদের...

    সবুজ মেরুনের ঘাড়ের‌ ওপর নি:‌শ্বাস বেঙ্গালুরুর :‌ রাজকুমার মণ্ডল

    জামশেদপুর ম্যাচে জয়ে ফিরতে মরিয়া এটিকে মোহনবাগান। বেঙ্গালুরুর কাছে হের একধাপ নীচে এটিকে মোহনবাগান। ১৬ ম্যাচে ২৭ পয়েন্টে পাঁচ নম্বরে সবুজ মেরুন।...

    নাগপুর টেস্টে তিন স্পিনারে নামছে ভারত :‌ রাজকুমার মণ্ডল

    ভারত-অস্ট্রেলিয়া প্রথম টেস্ট। যুদ্ধকালীন প্রস্তুতিতে দুই দলই। বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি শুরুর আগে ভারতের সহ অধিনায়ক কেএল রাহুলের মুখে তিন স্পিনার নিয়ে খেলার পরিকল্পনার...

    বাড়ির দেওয়ালে ছবি সাজানোর আগে বাস্তুর নিয়ম না জানলে বাড়তে পারে সমস্যা!

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো :- লোকেরা তাদের ঘর সাজানোর জন্য পারিবারিক ছবি রাখে। আসলে, বাড়ির দেয়ালে সজ্জিত ফটোগুলি পারস্পরিক ভালবাসাকে প্রতিফলিত করে।...

    শান্তিতে ঘুমাতে চাইলে এই জিনিসগুলো বিছানার অন্য পাশে রাখবেন না!

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো :- আমাদের জীবনে বাস্তুশাস্ত্রের অনেক গুরুত্ব রয়েছে। বাস্তুতে এমন অনেক নিয়ম বলা হয়েছে যা আমাদের জীবনের সমস্যাগুলি কাটিয়ে...