29 C
Kolkata
Monday, October 3, 2022
More

    ভারতে জাতীয় ক্রীড়া দিবস অলিম্পিকে সোনার পাথর বাটি- স্বরূপ চক্রবর্তী

    ক্ষমতা থাকলে তো জিতবেন সোনা। অলিম্পিকের অ্যাস্ট্রো টার্ফে বা সবুজ ঘাসে পা ঘষার আগেই খেলা হয়ে যায় লাল কার্পেট। ট্রান্সফার মানি থেকে, কিটস। কিটস থেকে মোজা। সর্বত্রই কটু গন্ধ ভারতীয় ক্রীড়া জগতের সিষ্টেমে। ১৯০০ সাল থেকে ভারত অলিম্পিকের ইতিহাসে। ১২০ বছরে আমাদের ক্রীড়াবিদরা এনেছেন মোট ২৯ টি পদক। এখন ১৪০ কোটি ভারতবাসী মানে জনসংখ্যায় বিশ্বে দ্বিতীয়। খেলার মানে (কোয়ালিটি) আমরা রূপো। আর রাজনীতিতে, চৌর্যবৃত্তির অর্থনীতিতে? ২২ ক্যারেট খাঁটি সোনা। ফলে আমরা হেলায় বিমানে চাপি, বেলায় বাড়ি ফিরি। একটু মার্কেটিং, সামান্য কেনাকাটা। বেশ কদিন মিডিয়ার মাথায় কাট আউট। তারপর ঢেঁকুর, হেঁইয়ো। ত্রিফলার জল খেয়ে অম্বল তাড়ানো। বেশ আছি তাই না?

    কিন্তু এই ভারতই বিশ্ব-হকিতে শাসন করেছে রাজার মত। ১৯০০ সালে ভরিত প্রতিনিধি পাঠিয়েছিল মাত্র একজন। ১৯২০ সালে দোরাবজি টাটা এবং একজন মুম্বাইয়ের ইংরেজ গভর্নর জর্জ লয়েডের সহায়তায় ভারত অলিম্পিকের ইতিহাসে পা দেয়। সাতজনের একটি কমিটি ছিল। সেই কমিটিতে ছিলেন, খেলোয়াড়, প্রফেসর, শিল্পপতি, কাপুরথালার মহারাজা, বর্ধমানের মহারাজা। দু:ক্ষিত, কোনো নেতা বা মন্ত্রী বা আমলারা নন। ১৯২৭ প্যারিস সামার অলিম্পিকের জন্যে ৭ জন অ্যাথলিট, ৭ জন টেনিস প্লেয়ারদের নিয়ে হ্যারি বাক যাত্রা করেন। সেই বছর আইওএ অর্থাত্‍ ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয়। ইন্ডিয়ান হকি ফেডারেশন তৈরি হয় ১৯২৮ সালে। গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে সেই দল পাঠানো হয়।

    “মন্ত্রীরাই খিলাড়ি! সিষ্টেমটাই খেল! পারিনা অলিম্পিকে, দেওয়াল ঠেলি হেঁইয়ো।”

    সোনা ফলে বা মেলে। ১৯২৮ থেকে ১৯৪৬ পর্যন্ত ভারত হকিতে বিশ্বকে শাসন করা শুরু করেছিল। রোমে রূপো। ফাইনালে হার। দলগত বিভাগে মোট ৭ টি সোনা। বেজিং অলিম্পিকে একমাত্র অভিনব বিন্দ্রা ব্যক্তিগত বিভাগে সোনাজয়ী ভারতীয়। রূপো বা ব্রোঞ্জ জুটেছে কালে ভদ্রে। দু’চার জনের। মেরি কম, সাইনি নেহয়াল, বিজেন্দ্র সিং, গগন নারাং, যোগেন্দ্র সিং’রা তো ছেড়ে দেওয়ার জন্যে অলিম্পিকে যাননি সেটা বোঝাই যায়, কিন্তু মানসিকতায় পিছিয়ে পড়ছেন সমস্ত খেলোয়াড়রা। কারণ, তাঁরা জানেন জিতলেই কোটি কোটি টাকার এনডোর্সমেন্ট, বিজ্ঞাপণের মডেল, ভবিষ্যত্‍ ঝকঝকে রোদ্দুর।

    প্রথম ভারতীয় অলিম্পিক দল, ১৯২০ সাল

    অলিম্পিকে গেলেই মোটামুটি নিজেকে একটা যায়গায় প্রতিষ্ঠিত করা যায়। হারলে কিছুই না। কোনো দায়বদ্ধতা নেই। জনতাকে জবাবদিহির দরকার নেই। আমার কোনো দায় নেই, দ্বায়িত্ব নেই। ১8০ কোটির দেশ আপনার। প্রত্যেকটি ভারতবাসী আপনার দিকে তাকিয়ে থাকে একটা সোনা জয়ের আশায়, সেটার কোনো দাম নেই? ভারত আবেগের দেশ, ভালোবাসার দেশ। আসলে সবাই জেনে গিয়েছে শেষ কথা ওই নেতা-মন্ত্রী। যারা খেলার আগে খেলেন, পরেও খেলেন। কাজেই লাগান না অতীতের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন খেলোয়াড়দের।

    তাঁদের কাউকেই ছোট করছি না বা আমি করলেই তাঁরা ছোট হবেন না। বিষয় হল, এটা কী পারফরম্যান্স? এক সহৃদয় স্পোর্টসম্যান বলেছিলেন, “সুইস ব্যাংকে ভারতীয়দের যা টাকা আছে ঐরকম কয়েক কোটি অলিম্পিকের মেডেল ভারতীয়রা কিনতে পারে। ছো: অলিম্পিক আবার একটা জায়গা হলো? আমরা রাজনীতি আর অর্থনীতি দিয়ে বিশ্বকে সামলাই।” হ্যাঁ, ঠাট্টা করার জন্যে তাঁর এই কথা নয়। আমরা গোটা বিশ্বের অর্থনীতিও পরিচালনা করি, সেটা স্বপার্জিত ধনে নয়, চুরি করা সাধরণ মানুষের টাকা নিয়ে।

    ভারতীয় অলিম্পিক হকি দল। ১৯২৮ সাল।

    তাহলে উপায়? খুব সহজ এবং সাধারণ। প্রথমত: আসু প্রয়োজন স্কুলে খেলাধুলোকে অঙ্কের মত করে ব্যবহার করা। নম্বর ঘোষণা করা। দ্বিতীয়ত অলিম্পিক বা আন্তর্জাতিক কোনো প্রতিযোগীতায় কোনো দলের কোনো নেতা-মন্ত্রী কোনো দ্বায়িত্বে থাকবেন না। প্রত্যেকটি টুর্নামেণ্টের আগে গুপ্ত সিবিআইয়ের টিম লুকিয়ে সমস্ত প্রত্যক্ষ করবে। কেউ জানবে না তাদের উপস্থিতি। এমনকী তাদের ও নিয়মিত বদল হবে। আরও আছে, অনেক আছে।

    আমাদের অলিম্পিকের ইতিহাস করূন। রাজনীতি, জলবায়ু, দেশের প্রতি মানুষের সাচ্চা ভালোবাসা প্রতিবন্ধকতা। এরপর, পরিকাঠামো। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঘুণময়। ঘুষময়। যোগ্য মানুষের সুযোগ নেই। চিকিত্সা সমস্যা। এরপর অর্থনীতি। যখন খেলোয়াড় তৈরির সময় তখন তাকে কেউ-ই নজর দেন না। শারিরীক সক্ষমতা তৈরি হয়ে উঠতে পারে না। অপুষ্টির পর তাকে ১৭ বছরে যখন অনুশীলনে পাঠানো হয়, স্পোর্টসম্যান হাঁফিয়ে পড়েন। কী করে লড়বেন? সিষ্টেমটাই খেল, বাকিটা খেলেন মন্ত্রী আমলা নেতা। হার-জিত কিছু না। সোনা, রূপো, ব্রোঞ্জ কিছু না। শুধু লড়াই আর লড়াই। এই লড়াইয়ের মানসিকতাটাই হারিয়ে দিচ্ছে আমাদের। ফাইট, ফাইট, ফাইট।

    আছে, এখনও আছে। দুর্দান্ত দৌড়, চোয়াল কাঁপানো বক্সিং, পাঞ্চ, পায়ের পেশী কামড়ে ধরে ভারোত্তোলন। তিরঙ্গা উড়লেই বুকের ভিতরে কাঁপুনি ধরে। টাকা দিয়ে অনেক কিছু কেনা যায়, আর তিরঙ্গা উড়লে তুচ্ছ মা, বাবা, সন্তান…..অলিম্পিকের খেল আসরে বিশ্বের সবচাইতে বড় মঞ্চে পতপতিয়ে সব দেশকে নিচে রেখে….স্বপ্নের রঙ ত্যাগ, শান্তি, ভালোবাসা।

    Related Posts

    Comments

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    সেরা পছন্দ

    বদলে যাচ্ছে ট্রেনের টাইমটেবিল

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : ভারতে দু’কোটি ২৩ লক্ষ মানুষ প্রতি দিন ট্রেনে যাতায়াত করেন। কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য লোকাল,...

    চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণাবর্ত , বৃষ্টিতে ভিজবে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণাবর্ত। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, ওই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে সপ্তমী থেকেই দক্ষিণবঙ্গে বাড়তে পারে...

    খাড়্গে বনাম থারুর , জমজমাট কংগ্রেস সভাপতি পদের লড়াই

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : সরকারিভাবে কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচন হয়ে গেল দ্বিমুখী। ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মন্ত্রী কে এন ত্রিপাঠির মনোনয়নপত্র...

    মুস্তাক আলি ট্রফিতে বাংলা দলে বিশ্বকাপজয়ী বোলার দলে নেই অভিজ্ঞ ব্যাটার মনোজ, অনুষ্টুপ

    দ্য ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : ১১ অক্টোবর থেকে শুরু সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির দল ঘোষণা করল বাংলা। ক্রিকেটে...

    গল্‌ফ মঞ্চে বিশ্বকাপজয়ী কপিল-‌ধোনি

    দ্য ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : গুরগাঁওয়ে আমন্ত্রণীমূলক গল্‌ফের মঞ্চে প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক কপিল দেব ও মহেন্দ্র সিংহ ধোনি।...