27 C
Kolkata
Tuesday, October 4, 2022
More

    অলিম্পিক সোনাজয়ী দলের ৪ জিমন্যাস্ট ও কোচকে হত্যা করেছিল হিটলারের নাৎসি বাহিনী-নির্মল কুমার সাহা

    (‌১৯৯৮ সালে আমেরিকায় শুরু আর তারপর একে একে ভারত, রাশিয়া এবং আরও কিছু দেশ বাদে এখন অনেকেই আমেরিকার পথ ধরে প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় শনিবার ‘‌জিমন্যাস্টিক্স দিবস’‌ পালন করে। আজ ১৯ সেপ্টেম্বর এবার সেই দিনটি। এই উপলক্ষে জিমন্যাস্টিক্স নিয়ে একটি বিশেষ লেখা। যা ফ্যাসিস্ট অ্যাডলফ হিটলার ও নাৎসি বাহিনীর ইহুদি হত্যার নৃশংস এক কাহিনী!)‌

    ভদ্রলোকের নাম গেরিট ক্লীরেকপার (Gerrit Kleerekoper)‌‌‌‌‌‌‌‌। অলিম্পিক ইতিহাসের একজন সফল কোচ হলেও সেভাবে পরিচিত নন। ১৯২৮ সালের আমস্টারডাম অলিম্পিকেই প্রথম হয়েছিল মহিলাদের জিমন্যাস্টিক্স। মাত্র একটিই ইভেন্ট, দলগত প্রতিযোগিতা। যাতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল নেদারল্যান্ডস (‌হল্যান্ড)‌। গেরিটের প্রশিক্ষণেই অলিম্পিকে মহিলাদের জিমন্যাস্টিক্সের প্রথম আসরে সোনা জিতে হল্যান্ড ইতিহাস গড়েছিল। তারপর আর কখনও হল্যান্ডের মহিলা বা পুরুষ দল অলিম্পিক জিমন্যাস্টিক্সে সোনা তো দূরের, দলগত কোনও পদকই জিততে পারেনি। আর ব্যক্তিগত পদকও মাত্র দুটি। তা অবশ্য সোনাই। আমস্টারডামের সেই সোনার পর অলিম্পিক জিমন্যাস্টিক্সে হল্যান্ডকে দ্বিতীয় পদকের স্বাদ পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ৮৪ বছর। ২০১২ সালে লন্ডন অলিম্পিকে পুরুষদের ‌‌‌‌‌হরাইজন্টাল বারে সোনা জিতেছিলেন হল্যান্ডের এপকে জন্ডারল্যান্ড (‌Epke Zonderland)। জিমন্যাস্টিক্সে হল্যান্ডের তৃতীয় অলিম্পিক পদকটি ২০১৬ সালে মহিলাদের ব্যালান্স বিমে সানে ওভের্সের (‌Sanne Wevers)‌। এই পদকটিও সোনার।

    ১৯২৮ সালের অলিম্পিক। তখন জিমন্যাস্টিক্সে নিয়ম অন্যরকম ছিল। প্রতিটি দল ১২ জনের। যার মধ্যে ১০ জন অংশ নিতে পারতেন তিনটি ইভেন্টেই। Drill, Apparatuses and Jumps. ‌‌‌‌‌‌‌ওই তিনটি ইভেন্টে জিমন্যাস্টদের প্রাপ্ত পয়েন্ট যোগ করে দলগত চ্যাম্পিয়নশিপ নির্ধারণ হত। এভাবেই ৩১৬.‌৭৫ পয়েন্ট করে সোনা জিতেছিল হল্যান্ড। রুপো (‌২৮৯.‌০০ পয়েন্ট)‌ ইতালির, ব্রোঞ্জ (২৫৮.‌২৫ পয়েন্ট‌)‌ গ্রেট ব্রিটেনের। হল্যান্ডের সোনাজয়ী দলের ১২ জন :‌ এস্তেলা অ্যাগস্তেরিবে (‌Estella Agsteribbe)‌, জাকোমিনা ভান দেন বার্গ (‌Jacomina van den Berg)‌, আলিদা ভান দেন বস (‌Alida van den Bos)‌, পেট্রোনেলা বার্গারহফ (‌Petronella Burgerhof)‌, এলকা ডে লেভি (‌Elka de Levie)‌, হেলেনা নর্ডহেইম (‌Helena Nordheim)‌, আনস পোলাক (‌Ans Polak)‌, পেট্রোনেলা ভান রানডউইজিক (‌Petronella van Randwijk)‌, হেলড্রিকা ভান রুমট (‌Hendrika van Rumt)‌, জুড সিমন্স (‌Jud Simons)‌, জাকোবা স্টেলমা (‌Jacoba Stelma)‌, আন্না ভান দার ভেগট (‌Anna van der Vegt)‌।

    কোচ গেরিট ক্লীরেকপার।

    ওই দলের কোচ গেরিট ক্লীরেকপার ছিলেন ইহুদি। ১২ জন জিমন্যাস্টের মধ্যেও ইহুদি ছিলেন ৫ জন। জার্মানির অ্যাডলফ হিটলারের ইহুদি বিরোধিতা কারও অজানা নয়। একসময় তিনি চেয়েছিলেন সারা বিশ্ব থেকেই ইহুদিদের নিশ্চিহ্ন করে দিতে। ধরে ধরে ইহুদিদের খুন করেছে হিটলারের নাৎসি বাহিনী। শিশু থেকে বৃদ্ধ, মহিলা-‌পুরুষ, সাহিত্যিক, খেলোয়াড়, শিল্পী কেউ রেহাই পাননি। নাৎসি বাহিনীর নজর এড়ায়নি হল্যান্ডের সেই সোনাজয়ী দলের ইহুদি জিমন্যাস্টরাও। কোচ গেরিট ক্লীরেকপার এবং ওই দলের চার ইহুদি জিমন্যাস্টকে হত্যা করা হয়েছিল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। ওই চার জিমন্যাস্ট হলেন এস্তেলা অ্যাগস্তেরিবে, জুডিজে ‘‌জুড’‌ সিমন্স, হেলেনা নর্ডহেইম এবং আন্না ‘‌আনস’‌ পোলাক। নাৎসি বাহিনীর হাত থেকে রেহাই মেলেনি ওঁদের পরিবারের সদস্যদেরও। ওই দলের ইহুদি জিমন্যাস্টদের মধ্যে বেঁচে গিয়েছিলেন একমাত্র এলকা ডে লেভি। বছরের পর বছর তিনি ছিলেন আত্মগোপন করে।

    গেরিট ক্লীরেকপারের জন্ম ১৮৯৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আমস্টারডামে। গেরিট একসময় শিক্ষকতা করলেও তাঁর পেশা ছিল হীরে কাটা। আর নেশা জিমন্যাস্টিক্স। ওই সময় তিনি হল্যান্ডের জিমন্যাস্টদের কাছে খুবই প্রিয় কোচ ছিলেন। বিশেষ করে মহিলা জিমন্যাস্টরা ওঁকে খুব পছন্দ করতেন। আমরা এখন খেলার মাঠে রাজনীতির কথা বলে থাকি। এই রোগটা নতুন নয়। এখন থেকে ৯২ বছর আগেও হল্যান্ডের ওই জিমন্যাস্টিক্স দল গড়া নিয়ে ওখানকার প্রাদেশিক রাজনীতি তুঙ্গে উঠেছিল। লড়াই ছিল হগ (‌Hague) বনাম আমস্টারডাম (‌Amsterdam‌‌‌‌‌‌‌)‌। শেষ পর্যন্ত রফা হয়েছিল হগ ও আমস্টারডামের ৬ জন করে জিমন্যাস্টকে দলে রেখে। কোচ নির্বাচনেও একটা রফা সূত্র বের করা হয়েছিল। দলের ‘‌হেড কোচ’‌ ছিলেন হগের জান্ডভলিয়েট (‌A J van Zandvliet)‌। আর ‘‌কোচ’‌ আমস্টারডামের গেরিট ক্লীরেকপার। কিন্তু যোগ্যতায় জান্ডভলিয়েটের চেয়ে গেরিট ক্লীরেকপার অনেক এগিয়ে ছিলেন। জিমন্যাস্টরাও ওঁর ট্রেনিংই পছন্দ করতেন। ফলে জান্ডভলিয়েট শুধু খাতাকলমেই ‘‌হেড কোচ’‌ থেকে গিয়েছিলেন। কোচিংয়ের যাবতীয় দায়িত্বে ছিলেন গেরিট।

    চ্যাম্পিয়ন দলের আলিদা ভান দেন বস বেঁচে ছিলেন ১০১ বছর। ২০০৩ সালে মারা যান। মৃত্যুর কয়েক বছর আগে হল্যান্ডের একটি পত্রিকায় ইন্টারভিউ দিয়েছিলেন তিনি। তাতে জানিয়েছিলেন ওই সোনা জয়ে কোচ গেরিটের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। গেরিটের প্রশংসা করে বলেছিলেন, ‘‌‘‌ওঁর দূরদৃষ্টি ছিল প্রখর। সেবার অলিম্পিকে জিমন্যাস্টিক্স হয়েছিল খোলা স্টেডিয়ামে। সাধারণত সবাই জিমন্যাস্টিক্স প্র‌্যাকটিস করে ইনডোর হলে। আমরাও তাই করতাম। অলিম্পিক শুরুর কয়েক মাস আগে উনি আমাদের খোলা মাঠে প্র‌্যাকটিস শুরু করালেন। সেখানে কখনও প্রবল হাওয়া। আবার কখনও গাছের পাতাও নড়ে না। উনি বললেন, ‘‌কম্পিটিশনের দিন আবহাওয়া কীরকম থাকবে, আগে থেকে জানা সম্ভব নয়। তাই সবরকম পরিবেশে প্র‌্যাকটিস করে তৈরি থাকতে হবে।’‌ এর ফল আমরা পেয়েছিলাম অলিম্পিকে। অন্য দলগুলোকে অনেক পিছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম।’‌’‌

    হল্যান্ডের তখনকার ওই জনপ্রিয় কোচ গেরিটকে নাৎসি বাহিনী হত্যা করেছিল ১৯৪৩ সালের ২ জুলাই। বিষাক্ত গ্যাস চেম্বারে ছুঁড়ে ফেলে। পোল্যান্ডের সবিবর ‌‌‌‌বন্দি শিবিরে (‌Sobibor Extermination Camp) একই সঙ্গে হত্যা করা হয়েছিল ওঁর স্ত্রী ক্যাটি ও ১৪ বছরের কন্যা এলিজাবেথকে। গেরিটের পুত্র ১৮ বছরের লিন্ডহার্টকে অবশ্য মারা হয়েছিল আরও একবছর পর, ১৯৪৪ সালের ৩১ জুলাই, অসউইচ (‌Auschwitz)‌ বন্দি শিবিরে।

    সোনার দলের যে ৪ জিমন্যাস্টকে হত্যা করা হয়েছিল—
    এস্তেলা অ্যাগস্তেরিবে:‌ জন্ম হল্যান্ডের আমস্টারডামে ১৯০৯ সালের ৬ এপ্রিল। ১৯২৮-‌এর অলিম্পিক জিমন্যাস্টিক্সে সোনাজয়ী দলের এই সদস্যকে হিটলারের নাৎসি বাহিনী হত্যা করে ১৯৪৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। তাঁর পুরো পরিবারকেই আটকে রাখা হয়েছিল জার্মানির দখলে থাকা পোল্যান্ডের অসউইচ বন্দি শিবিরে। সেখানেই এস্তেলার পুত্র আলফ্রেড (‌২ বছর)‌ ও কন্যা ন্যানিকেও (‌৬ বছর)‌ একইদিনে হত্যা করা হয়। বিষাক্ত গ্যাস চেম্বারের মধ্যে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছিল আরও অনেকর সঙ্গে এই তিনজনকেও। একইভাবে ১৯৪৪ সালের ২৮ এপ্রিল খুন করা হয়েছিল এস্তেলার স্বামী স্যামুয়েল ব্লিটসকেও (‌মতভেদে এস্তেলা এবং তাঁর স্বামী, পুত্র, কন্যাকে একই সঙ্গে ১৯৪৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর খুন করা হয়েছিল)‌।

    জুডিজে ‘‌জুড’‌ সিমন্স: জন্ম ‌‌‌‌‌‌হগে ২০ আগষ্ট, ১৯০৪‌‌‌‌। অলিম্পিক সোনাজয়ী ১২ জনের দলে থাকলেও প্রথম ১০-‌এ ছিলেন না। জুডকেও হত্যা করেছিল নাৎসি বাহিনী। স্বামী বার্নার্ডকে নিয়ে তিনি একটি অনাথ আশ্রম চালাতেন হল্যান্ডের উট্রেখটে। সেই অনাথ আশ্রমে হামলা চালায় নাৎসি বাহিনী। ওখানে তখন ৮৩ জন অনাথ শিশু ছিল। ওখানেই ছিল জুডের ৩ বছরের ছেলে Leon‌ ও ৫ বছরের মেয়ে Sonja.‌ সবাইকেই নিয়ে যাওয়া হয় পোল্যান্ডের সবিবর ‌‌‌‌বন্দি শিবিরে। ‌১৯৪৩ সালের ২০ মার্চ সবাইকে একই সঙ্গে হত্যা করা হয়। পদ্ধতি সেই একই, পরপর বিষাক্ত গ্যাস চেম্বারে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া।

    হেলেনা নর্ডহেইম:‌ জন্ম আমস্টারডামে ১৯০৩ সালের ১ আগস্ট। হল্যান্ডের সোনাজয়ী দলের এই সদস্যকেও ইহুদি হওয়ার ‘‌অপরাধে’‌ খুন হতে হয়েছিল। একইসঙ্গে ওঁর স্বামী আব্রাহাম ও ১০ বছরের কন্যা রেবেকাকেও হত্যা করা হয়েছিল। ১৯৪৩ সালের জুন মাসে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল Westerbork concentration camp‌‌‌‌‌-‌এ। পরে ওই বছরেরই ২ জুলাই পোল্যান্ডের সবিবর ‌‌‌‌বন্দি শিবিরে হত্যা করা হয়।

    আন্না ‘‌আনস’‌ পোলাক:‌ জন্ম আমস্টারডামে ১৯০৬ সালের ২৪ নভেম্বর। হল্যান্ডের দল নির্বাচনের প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হয়ে অলিম্পিকের দলে ঢুকেছিলেন আনস পোলাক। অলিম্পিকের পরের বছর, ১৯২৯ সালে হল্যান্ডে মহিলাদের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অলরাউন্ডে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছিলেন। সবিবর বন্দী শিবিরেই ১৯৪৩ সালের ২৩ জুলাই আন্না পোলাক এবং তাঁর ৬ বছরের মেয়ে ইভাকে খুন করা হয়। আন্নার স্বামী বারেন্ড ড্রেসডেনকে হত্যা করা হয় কয়েকমাস পর ১৯৪৪ সালের গোড়ায়।

    হল্যান্ডের সেই সোনার মেয়েরা। বাঁ দিক থেকে:‌ আলিদা ভান দেন বস, পেট্রোনেলা ভান রানডউইজিক‌, জাকোবা স্টেলমা‌, হেলেনা নর্ডহেইম‌, জাকোমিনা ভান দেন বার্গ‌, আনস পোলাক‌, আন্না ভান দার ভেগট‌, এস্তেলা অ্যাগস্তেরিবে, পেট্রোনেলা বার্গারহফ‌, হেলড্রিকা ভান রুমট‌, এলকা ডে লেভি, জুড সিমন্স‌।

    হল্যান্ডের সেই সোনার দলের ৫ ইহুদি জিমন্যাস্টের মধ্যে বেঁচে গিয়েছিলেন একমাত্র এলকা ডে লেভি। এলকার জন্ম আমস্টারডামে ১৯০৫ সালের ২১ নভেম্বর। অলিম্পিকে সোনা জয়ের পরের বছর (‌৩১ অক্টোবর, ১৯২৯)‌ বিয়ে করেন। স্বামী আদ্রায়েস আব্রাহাম বোয়াস। বিশ্বযুদ্ধ চলার সময়ই ১৯৪৩ সালের ২০ এপ্রিল বিবাহ বিচ্ছেদ। দুই কন্যাকে নিয়ে দীর্ঘদিন ছিলেন আত্মগোপন করে। মারা যান ১৯৭৯ সালের ৩ ডিসেম্বর।

    আমস্টারডাম অলিম্পিকের সময় ওই দলের জিমন্যাস্টরা সবাই ছিলেন অবিবাহিত। বিয়ের পর পদবি পরিবর্তন হয়। ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর হল্যান্ডের অলিম্পিক সংস্থা ইহুদি জিমন্যাস্টদের কোনও খোঁজই পাচ্ছিল না, নাম বিভ্রাটের জন্য। ওঁদের পরিণতি কী হয়েছে, সেটা অজানাই থেকে গিয়েছিল। কোচ গেরিট ক্লীরেকপারকে নিয়ে ওরকম কোনও সমস্যা হয়নি। বিশ্বযুদ্ধ থেমে যাওয়ার পরই তালিকা দেখে সবাই নিশ্চিত হতে পেরেছিলেন গেরিটকে হত্যা করেছে নাৎসি বাহিনী। কিন্তু জিমন্যাস্টদের ব্যাপারে ‘‌নিশ্চিত খবর’‌ জোগাড় করতে লেগে যায় অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময়। হল্যান্ডের এক ইঞ্জিনিয়ার ফ্রেড এ লোবাটো (Fred A. Lobatto‌) ‌বছরের পর বছর চেষ্টা চালিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। অবশেষে গত শতাব্দির নয়ের দশকের মাঝামাঝি নিশ্চিত হওয়া যায়, ওই দলের ৪ জন জিমন্যাস্টকে হত্যা করা হয়েছিল। একজন বেঁচে গিয়েছিলেন। ১৯২৮ সালে অলিম্পিকের সময় স্কুলে পড়তেন ফ্রেড। হল্যান্ডের সোনা জয়ের দিন ছিলেন দর্শক। যুদ্ধের পর নিজের আগ্রহেই তিনি খুঁজতে শুরু করেছিলেন সোনার নায়িকাদের। শেষ পর্যন্ত সফল হন। ‌‌‌‌‌তাঁকে সহযোগিতা করে অন্য কয়েকটি সংস্থাও।

    চেষ্টা করেছিলেন আরও একজন। তিনি রুদ পাউ। ১৯৬১ থেকে ১৯৯৮, তিনি ছিলেন নেদারল্যান্ডস অলিম্পিক কমিটির সংগ্রহশালার দায়িত্বে। ওই দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনিও খুঁজতে শুরু করেছিলেন সোনার দলের ইহুদি জিমন্যাস্টদের। অনেকটা এগোলেও পুরোপুরি সফল হতে পারেননি। আরও আগে হল্যান্ডের কয়েকজন সাংবাদিকও চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছিল।

    খুন হওয়া ওই চার জিমন্যাস্ট ও কোচের পুরনো বাড়ির সামনে ২০১০ সালে স্মৃতি ফলক বসানো হয়েছে। আরও নানা ভাবে এখন ওঁদের স্মরণ করা হয় হল্যান্ডে। যুদ্ধে নিহত সেনা ও সাধারণ মানুষের স্মরণে প্রতি বছর ৪ মে হল্যান্ডে পালন করা হয় Remembrance Day.‌ ২০১৬ সালের ওই বিশেষ দিনে আমস্টারডামের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে ওঁদের স্মরণে হয়েছিল এক অনুষ্ঠান। কারণ ওই স্টেডিয়ামেই তো ১৯২৮ সালে ওঁরা জিতেছিলেন অলিম্পিকের সোনা। গড়েছিলেন ইতিহাস।

    Related Posts

    Comments

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    সেরা পছন্দ

    হিন্দু মহাসভার পুজোয় মহিষাসুর রূপে গান্ধীজী ! তুঙ্গে জোর বিতর্ক

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : কলকাতা-সহ সারা রাজ্য জুড়ে বিরাট ধুমধাম করে পালন করা হচ্ছে দুর্গাপুজো। অন্যদিকে দানা বেধেছে...

    বদলে যাচ্ছে ট্রেনের টাইমটেবিল

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : ভারতে দু’কোটি ২৩ লক্ষ মানুষ প্রতি দিন ট্রেনে যাতায়াত করেন। কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য লোকাল,...

    চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণাবর্ত , বৃষ্টিতে ভিজবে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণাবর্ত। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, ওই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে সপ্তমী থেকেই দক্ষিণবঙ্গে বাড়তে পারে...

    খাড়্গে বনাম থারুর , জমজমাট কংগ্রেস সভাপতি পদের লড়াই

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : সরকারিভাবে কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচন হয়ে গেল দ্বিমুখী। ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মন্ত্রী কে এন ত্রিপাঠির মনোনয়নপত্র...

    মুস্তাক আলি ট্রফিতে বাংলা দলে বিশ্বকাপজয়ী বোলার দলে নেই অভিজ্ঞ ব্যাটার মনোজ, অনুষ্টুপ

    দ্য ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : ১১ অক্টোবর থেকে শুরু সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির দল ঘোষণা করল বাংলা। ক্রিকেটে...