একাদশ বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে উত্থান ঘটে বিজেপির, যদিও তারা কোনো আসন পায়নি!

0
22

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার একাদশতম নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৮৭ সালে তৃতীয় বামফ্রন্ট সরকার গঠিত হওয়ার পর হিসেব মতো ১৯৯২ সালে এ রাজ্যের পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১৯৯১ সালের লোকসভা ভোটের সঙ্গেই বিধানসভা নির্বাচন করে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে। নির্বাচন কমিশন রাজ্য সরকারের এই প্রস্তাব মেনে নিয়ে ১৯৯১ সালে পশ্চিমবঙ্গে একাদশতম বিধানসভা নির্বাচন আয়োজন করে।

একাদশতম বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের ক্ষমতাসীন বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে মূলত মন্ডল কমিশনের সুপারিশকে হাতিয়ার করা হয়েছিল। অন্যদিকে তৃতীয় শক্তি হিসেবে উত্থান ঘটা বিজেপি বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী ইস্যুকে হাতিয়ার করে। দেশভাগের ফলে পূর্ববঙ্গ থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের যে সমস্ত মানুষ পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিল তাদের মন ছোঁয়ার চেষ্টা করে বিজেপি। এর পাশাপাশি রাজ্যে বসবাসকারী অবাঙালিদের মধ্যেও তাদের প্রভাব ভালো ছিল। অন্যদিকে এই বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়কে সামনে রেখে নির্বাচনী ময়দানে অবতীর্ণ হয়। তবে কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এই সময় ভয়াবহভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল।

এই বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ টি আসনের মধ্যে বামফ্রন্ট এককভাবে জয়লাভ করে ২৪৫ টি আসনে। তাদের প্রধান শরিক সিপিআই(এম) একাই ১৮২ টি কেন্দ্রে জয় লাভ করে। তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হল এই বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্টের অন্যতম শরিক হিসেবে দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চলে গোর্খা লিগ প্রতিদ্বন্দিতা করেছিল।

অন্তর্দ্বন্দ্বে দীর্ণ কংগ্রেস এই নির্বাচনে ৪৩ টি আসন নিজেদের দখলে রাখতে সক্ষম হয়। যদিও তৃতীয় শক্তি হিসেবে উঠে আসা বিজেপি একই সঙ্গে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের ভোট কেটে ১১.৩৪ শতাংশ পশ্চিমবঙ্গবাসীর সমর্থন পায়। তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হল তারা রাজ্যের একটি আসনেও জয়লাভ করতে পারেনি। নকশালপন্থী দলগুলোর সঙ্গে জোট বেঁধে এসইউসিআই একটি বিকল্প বামপন্থী জোটের মডেল রাজ্যবাসীর সামনে রাখে। এই বিকল্প বামপন্থী জোটের প্রধান শরিক এইউসিআই মাত্র দুটো আসন দখল করলেও তারা বামফ্রন্টের বেশকিছু ভোট কেটে নিয়েছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here