30 C
Kolkata
Thursday, February 9, 2023
More

    “জীবন তো ছেলেবেলা”-স্বরূপ চক্রবর্তী

    চাকরিটা থমকে গিয়ে বিয়েটাই হল না। ফুলটুসকির জন্য, ফুলটুসকিকে পাওয়ার জন্য জীবন ছেলেবেলাই ছেড়ে দিয়েছিল। ফুলটুসকি পাশেই ওর মামার বাড়িতেই আসত। সেখানেই বন্ধুত্ব। তখন প্রেম ফ্রেম বোঝেনি জীবন। শুধু একটা অদ্ভুত টান বোধ করত ফুলটুসকি এলেই। শীতের ছুটিতে, ফাইনাল পরীক্ষার পর। আঃ কী যে ভাল লাগত। ডাঙগুলি, কাঁচগুলি, এক্কাদোক্কা, ডিজ্ঞেল, সাইকেলের রিঙয়ের  মাঝে শিক বেঁকিয়ে ধুলো ধুলো মাটির রাস্তা ধরে ছুট! আঃ! জীবন ধন্য হয়ে যেত। মহিমদের পাড়ায় ডাঙগুলি ম্যাচে অবিশ্বাস্য খেলেছিল ফুল। সবাই বলত, ধন্যি মেয়ে। তবে, স্কিপিঙয়ে ফুল, ফুল মার্কস পেত। আরে, কলকাতার মেয়ে বলে কথা। বার বয়সেই নিঃশব্দ সুন্দরী। জীবনের বাড়ি থেকেও রাজি, ফুলের বাড়িও না করেনি। দুটি বছরের বড় জীবন। তবে, এবার যখন ফুল এল, বেশ বদলে গিয়েছে। চুপচাপ। কথা কম। ছটফটানি হারিয়েছে। রূপে অন্য ঝিলিক। শুধু একবারই জীবনকে হেসে বলেছিল, ‘ওমা! তোমার গোঁফ আসছে গো জীবনদা।’ সে চাঁদ-লাজুক মুখে তীব্রতা কম, ভালবাসা বেশি বদলে যাওয়া জীবন-মুখে।

    জীবনের মা ওদের সেদিন একক গল্পে ডাক দিলেন। ‘যা গল্প করতে থাক, ওই ঘরে, আমি জলখাবার নিয়ে আসছি।’ ফুল জীবনকে একা পেয়ে জাপটে ধরল। বলল, ‘ও জীবনদা তুমি আমায় বিয়ে করবে তো? ছাড়বে না তো?’ জীবন চুপ রইল। বলল, ‘দাঁড়া আগে কিছু কাজকর্ম করি, পড়াশুনোটা আরও ভালো করতে হবে, তবে তো চাকরি, তবে তো ওসব।’

    পরদিন ফুল চলে গেল। এখন কম থাকে। আগে একমাস থাকত। এখন এক হপ্তা। পড়াশুনোর নাকী খুব চাপ। জীবন কাঁচা রাস্তা অবধি গিয়েছিল। ফিরে খানিক বসে রইল। আগামীবারে মাধ্যমিক। বড় জার থেকে কাঁচের গুলিগুলো বের করল, ডাঙগুলির ডাঙ আর দুটো পেয়ারা কাঠের গুলি, ডিজ্ঞেলটা পকেটে ভরল যখন, তখন মাঠে জমিয়ে খেলা হচ্ছে। গুলিগুলো পেয়ারা গাছের নীচে পুঁতে দিল, ডাঙগুলি নিয়ে চিলেকোঠার ঘরে চুপ করে লুকিয়ে ফেলল। ডিজ্ঞেলটা ছুড়ে দিল মাঝ পুকুরে, গোঁত খেয়ে পড়ল…। স্যাঁত শব্দে। ফুলের জন্য সব ত্যাগ! ছেলেবেলাও, এই অবেলায়!

    ফুল এসেছে মা-ই খবর দিলেন, মামার মেয়ের বিয়েতে। জীবন চাষের কাজ সেরে ঘরের দাওয়ায় বসেছিল। ফুলের দুটি ছেলে আঠাশ আর ছাব্বিশ। মেয়েটি বাইশ। ফুলের মামার বাড়ি জীবন আর যেত না। যাবেও না। জীবন উঠে দাঁড়াল নিঃশব্দ চরণে। পেয়ারা গাছটা নেই। মাটি খুঁড়ল অনেকটাই। গুলি ভরা কাঁচের বোতলে ঝকঝক করে উঠল কাঁচের চুনি, মারদিস, পুলটিস, গোদা গুলিরা। ছেলেবেলা খুইয়ে…জীবন খুঁজছিল…। খুব খুঁজছিল।

    শুকনো আছে, জ্যান্ত পেয়ারা গাছটা নেই।

    ডাংগুলি/ডাং/রিং/স্কিপিং

    Related Posts

    Comments

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    সেরা পছন্দ

    নিখরচায় চক্ষু পরীক্ষা শিবির

    কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাবের অর্থাৎ সিএসজেসি-‌র প্রচেষ্টায় এবং নাগরিক স্বাস্থ্য সঙ্ঘের সহযোগীতায় মঙ্গলবার সিএসজেসিতে কম্পিউটারাইজড চক্ষু পরীক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হল। ক্রীড়া সাংবাদিকদের...

    সবুজ মেরুনের ঘাড়ের‌ ওপর নি:‌শ্বাস বেঙ্গালুরুর :‌ রাজকুমার মণ্ডল

    জামশেদপুর ম্যাচে জয়ে ফিরতে মরিয়া এটিকে মোহনবাগান। বেঙ্গালুরুর কাছে হের একধাপ নীচে এটিকে মোহনবাগান। ১৬ ম্যাচে ২৭ পয়েন্টে পাঁচ নম্বরে সবুজ মেরুন।...

    নাগপুর টেস্টে তিন স্পিনারে নামছে ভারত :‌ রাজকুমার মণ্ডল

    ভারত-অস্ট্রেলিয়া প্রথম টেস্ট। যুদ্ধকালীন প্রস্তুতিতে দুই দলই। বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি শুরুর আগে ভারতের সহ অধিনায়ক কেএল রাহুলের মুখে তিন স্পিনার নিয়ে খেলার পরিকল্পনার...

    বাড়ির দেওয়ালে ছবি সাজানোর আগে বাস্তুর নিয়ম না জানলে বাড়তে পারে সমস্যা!

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো :- লোকেরা তাদের ঘর সাজানোর জন্য পারিবারিক ছবি রাখে। আসলে, বাড়ির দেয়ালে সজ্জিত ফটোগুলি পারস্পরিক ভালবাসাকে প্রতিফলিত করে।...

    শান্তিতে ঘুমাতে চাইলে এই জিনিসগুলো বিছানার অন্য পাশে রাখবেন না!

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো :- আমাদের জীবনে বাস্তুশাস্ত্রের অনেক গুরুত্ব রয়েছে। বাস্তুতে এমন অনেক নিয়ম বলা হয়েছে যা আমাদের জীবনের সমস্যাগুলি কাটিয়ে...