কোভিড টিকার আসন্ন সাফল্যের আঁচ পেতেই চোরের ভূমিকায় চীন

0
11

সন্তু ধর

এম্নিতেই করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে চীনকেই দায়ী বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মহল ঠিক সেই মূহুর্তে চীনের হ্যাকার দের অসাধু উত্পাত, সেই আগুনে ঘি দিল।

সরকারি ও বেসরকারি স্তরে আমেরিকার বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি কোভিড-১৯ ভাইরাসের টিকা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বানানোর জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় গবেষনার কাজ করছে।

এরই মাঝে গত সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সারির দু’টি দৈনিক ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ ও ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ কোভিড-১৯ টিকা তৈরির গবেষণা পত্রের চুরি নিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশ করেছেন।

তাদের রিপোর্টে মার্কিন প্রতিরক্ষা সংস্থা এফ বি আই এবং মার্কিন সাইবার বিশেষজ্ঞরা সরাসরি চীনের দুই হ্যাকারের দিকে আঙুল তুলেছেন। এই দুই হ্যাকারের নাম লি জীয়ায়ু আর ডং জিয়াজহি। এই দুই হ্যাকারদের সঙ্গে চিনা সরকারেরও যোগসাজশ রয়েছে। যদিও চিনা বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।

চিনা বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান সংবাদপত্র উদ্ধৃত করে জানিয়েছেন শুধু কোভিডের ক্ষেত্রে নয়; চিন সব রকমের সাইবার হানাদারিরই চরম বিরোধী।

ঝাও এও দাবি করেছেন যে করোনা টিকা নিয়ে গবেষণা ও চিকিৎসায় তারাই (চীন) বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে। তিনি এটি একটি মার্কিন সংস্থার তৈরি করা গুজব ও আন্তর্জাতিক মহলে চীনকে  বদনাম করার চক্রান্ত বলে মনে করছেন। তাঁর মতে সঠিক কোনও তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই চিনকে শূলে চড়ানো হচ্ছে।’’

যদিও উদ্ধৃত ওই দুই মার্কিন সংস্থার বিশেষজ্ঞরা এমনও দাবি করেছেন যে ওই চিনা হ্যাকাররা যারা আসলে প্রাক্তন ইন্জিনিয়ার, তারা আমেরিকায় করোনা রোগীদের চিকিত্‍সা পদ্ধতি সহ অন্যান্য যে কোনো ধরনের পরীক্ষর যাবতীয় তথ্যাদি ও মেধাসত্ত্ব (কপিরাইট) চুরিরও চেষ্টা চালাচ্ছে।

মার্কিন সুত্র অনুযায়ী এই বিষয়ের গভীরতা আঁচ করে এফবিআই এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা (হোমল্যান্ড সিকিওরিটি) দফতর এ ব্যাপারে কয়েকদিনের মধ্যেই একটি বিশেষ সতর্কতা জারি করতে চলেছে।

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে শুধু চীনা হ্যাকাররাই নয়; ইরান, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার হ্যাকাররাও এই মার্কিন কোভিড-১৯ টিকার তথ্যাদি চুরির চেষ্টা চালাচ্ছে।

এ বিষয়ে গত সপ্তাহে ব্রিটেন ও আমেরিকা সরকারি ভাবে একটি যৌথ বিবৃতিও দেন আর তাতে বলা হয়েছিল, এই হ্যাকার চক্রে রয়েছে রাশিয়ার সংগঠিত অপরাধীরা। এই হ্যাকিং এ তারা বহু পরিচিতি ও বহু ব্যবহৃত পাসওয়ার্ড পাঠিয়ে কোভিড সংক্রান্ত তথ্যাদি চুরির চেষ্টা করছে।

এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট একটি হ্যাকার গ্রুপের দিকে আঙুল তুলেছেন ব্রিটিশ গোয়েন্দারা। তার নাম কোজি বিয়ার তথা এপিটি২৯। এই দুই হ্যাকার গ্রুপই রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলির হয়ে কাজ করে। এমন ই দাবি ব্রিটেনের।

ব্রিটেনের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ক্রেমলিন। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেছেন, কোনওরকম হ্যাকিংয়ের চেষ্টার সঙ্গে রাশিয়া জড়িত নয়।

কোভিড মোকাবিলার জন্য এখনও পর্যন্ত গোটা বিশ্বে ১৪০ টি ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা চলছে। এর সবই ট্রায়ালের বিভিন্ন স্তরে রয়েছে। তবে প্রাথমিক গবেষণার পর ত্রি স্তর ট্রায়ালে এগিয়ে রয়েছে মূলত দুটি গবেষণা। চিনের সাইনোভ্যাক এবং অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেশিয়া ভ্যাকসিন। যার মধ্যে গত মঙ্গলবার অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেশিয়া ভ্যাকসিন ৯০% হিউম্যান ট্রায়ালে সফল বলে জানা গিয়েছে।

এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র  ও ব্রিটেনের এই “চুরি” সংক্রান্ত অভিযোগ কতটা সত্য সেটা আগামী সময় বলবে। তবে সারা বিশ্ব এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে সঠিক ভ্যাকসিনের প্রয়োগে এই মহামারির কবল থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্যে। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here