34 C
Kolkata
Wednesday, August 17, 2022
More

    সিনেমায় দেখা এই ডায়নোসরের চেহারা বাস্তবে ছিল বহু গুণ!

    সন্তু ধর

    পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ এর হাত ধরে সিনেমা থেকে যাদুঘরের প্রদর্শনী পর্যন্ত, ডাইনোসর ডিলোফোসরাস আধুনিক জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে কোনও অপরিচিত চেহারা নয়। কিন্তু নতুন খোঁজ বলছে এটির বাস্তব আকার সিনেমায় দেখানো জন্তুর আকারের তুলনায় বহুগুন বড়! দেখে নেব নতুন খোঁজ কী কী জানাচ্ছে আমাদের।  

    নামটি শোনার পর অনেকেই সম্ভবত স্মরণ করতে পারছেন যে এটি “জুরাসিক পার্ক” চলচ্চিত্র তে দেখা গলায় বিষাক্ত থুতনিযুক্ত জন্তু যার মাথার দুপাশে দুলছে দুটি পাখনা এবং কপালের কাছে রয়েছে দুটি প্যাডলের মতো ক্রেস্ট।

    যদিও মুভিতে দেখানো এই ডাইনোসরটির বেশিরভাগই ছিল কল্পনা।  হালফিল সময়ে আবিষ্কৃত ডিলোফোসরাস জীবাশ্মের একটি নতুন বিশ্লেষণ বলছে যে সিনেমায় ছোট গিরগিটির মতো দেখতে এই ডিলোফোসরাস ডাইনোসর প্রকৃত পক্ষে তার সময়ের সবচেয়ে বড় স্থলজীবী প্রাণী ছিল। এটি দৈর্ঘ্যে 20 ফুট পর্যন্ত পৌঁছেছিল এবং আধুনিক পাখির সাথে এটির অনেক সাদৃশ্য ছিল।

    বিশ্লেষণটি গত ৭ ই জুলাই টেক্সাস ইউনিভার্সিটির জার্নাল অফ প্যালিয়ন্টোলজিতে প্রকাশিত।

    ডিলোফোসরাস বর্তমান ছিল 183 মিলিয়ন বছর আগে যা  পুরোনো বা আদি জুরাসিকের সমসাময়িক। আশ্চর্যজনকভাবে  বড় পর্দার খ্যাতি সত্ত্বেও আজ এই জার্নাল প্রকাশিত হওয়ার আগে অবধি বিজ্ঞানীরা জানতেন না এর সঠিক আকার এবং এর পারিবারিক রেখাচিত্রটি।

    এই জার্নাল এর মুখ্য লেখক অ্যাডাম মার্শ বলেছেন, “এটি সেরা, এবং সবচেয়ে খারাপ-ডাইনোসর হিসেবে পরিচিত। এবং এই আবিষ্কার ও নিরীক্ষণ করার আগে অবধি, কেউই জানত না যে ডাইলোফোসরাসটি দেখতে কেমন বা এটি কীভাবে বিকশিত হয়েছিল” ।

    আর এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে গিয়েই টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অস্টিনের জ্যাকসন স্কুল অফ জিওসিয়েন্সের স্কলার মার্শ, তাঁর পিএইচডি অর্জনের সময় পাঁচটি স্বয়ং-সম্পুর্ন ডিলোফোসরাস ধরণের নমুনার বিশ্লেষণ করেছিলেন। বর্তমানে তিনি পেট্রিফাইড ফরেস্ট ন্যাশনাল পার্কের মুখ্য পেলিয়োনোলজিস্ট।

    এই বিশ্লেষণটির সহ-রচয়িতা জ্যাকসন স্কুলের অধ্যাপক টিমোথি রো, যিনি বিশ্লেষণ করা পাঁচটি ডিলোফোসরাস নমুনার মধ্যে দুটি আবিষ্কার করেছিলেন।

    মার্শ বলেন যে এই জীবাশ্মটি প্লাস্টার দিয়ে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল। যদিও প্রাথমিক বর্ণনায় এই ডাইনোসরকে ভঙ্গুর ক্রেস্ট এবং দুর্বল চোয়াল হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। যা “জুরাসিক পার্ক” বই এবং মুভিতে ডাইলোফোসরাসকে চিত্রিত করেছে এবং যে ডায়নোসর তার শিকারকে বিষাক্ত থুতু দিয়ে অবশ করে ফেলেছিল।

    তবে এই বিশ্লেষণে মার্শ তার বিপরীত বিষয় খুঁজে পেয়েছেন। এর চোয়ালগুলিতে শক্তিশালী পেশীর নিদর্শন বেশ ভারী কাজ করার প্রমাণ দেয়। তিনি আরও দেখতে পেয়েছনে যে কিছু হাড়গুলিতে বায়ু পকেটে ছড়িয়ে পড়েছিল, যা মূল কঙ্কালটিকে তার দ্বৈত ক্রেস্ট সহ আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করেছিল।

    মার্শ বলেছেন, “এগুলি একরকম বুদ্বুদ মোড়কের মতো যার কারণে হাড়টি সুরক্ষিত এবং শক্তিশালী হয়”।

    এই এয়ার স্যাকগুলি শুধুমাত্র ডিলোফোসরাস এ নয়। আধুনিক পাখি এবং বিশ্বের বৃহত্তম আকারের ডাইনোসরগুলিরও বায়ুতে ভরা হাড় রয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই, এই এয়ার স্যাকগুলি বোঝা হালকা করে তোলে, যা বড় ডাইনোসরদের কে  তাদের বিশাল দেহ এবং পাখিদের কে আকাশে বয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করে।

    মার্শ এর পরীক্ষা করার জন্য সমস্ত নমুনা অ্যারিজোনার কায়েন্ত-গঠন বা কায়েন্ত ফরমেশন থেকে এসেছিল এবং এটি নাভাজো জাতির অন্তর্ভুক্ত। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যালিয়ন্টোলজির জাদুঘর এই পাঁচ নমুনার তিনটির মালিক। দ্যা জ্যাকসন স্কুল অফ আর্থ এর যাদুঘরটি রোয়ের আবিষ্কার করা বাকি দুটির মালিক।

    তথ্য সুত্র: অ্যাডাম ডি মার্শ এবং টিমোথি বি রো, 7 জুলাই 2020, প্যালিওনটোলজির জার্নাল দ্বারা “উত্তর অ্যারিজোনার কায়েন্টা ফর্মেশন থেকে নতুন নমুনার বিবরণ সহ ডিলোফোসৌরাস ওয়েথেরিলি (ডাইনোসোরিয়া, থেরোপডা) এর একটি বিস্তৃত শারীরবৃত্তীয় এবং ফাইলোজেনেটিক মূল্যায়ন”।

    Related Posts

    Comments

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    সেরা পছন্দ

    নেতাজির চিতাভস্ম দেশে ফেরানো হোক , দাবি নেতাজী কন্যার

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : তার অন্তর্ধান রহস্য কি সমাধান হবে ? সেই বিষয়েই এবার বড় পদক্ষেপের কথা বললেন,...

    ভারতীয় ফুটবলের কালো দিন ! AIFF-কে নির্বাসিত করল FIFA

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : ভারতীয় ফুটবলে কালো দিন। অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনকে নির্বাসিত করল ফিফা। ফিফার তরফে প্রেস...

    আজ ভারত ছাড়া আর কোন কোন দেশের স্বাধীনতা দিবস ?

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : আজ ১৫ অগাস্ট আমাদের দেশের ৭৬তম স্বাধীনতা দিবস। অনেক আন্দোলন আর প্রাণ বিসর্জনের বিনিময়ে...

    দেশবাসীর গর্বের মুহূর্ত , মহাকাশে উড়ল জাতীয় পতাকা

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : কোথাও জলের রঙ হল গেরুয়া-সাদা-সবুজ। ফুটে উঠেছে অশোক চক্র। কোথাও আবার জলপ্রপাতে ফুটে উঠেছে...

    মেয়েরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ , জাতির উদ্দেশ্যে ভাষনে বললেন রাষ্ট্রপতি

    দ্যা ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো : স্বাধীনতার আগের মুহূর্তের সন্ধেয় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলের দেশের নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।...