প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন ছুঁড়তে গিয়ে প্রশ্নই বুমেরাং হচ্ছে না তো পিএম অফ ওয়েটিং রাহুল গান্ধীর কাছে

0
27

দ্য ক্যালকাটা মিরর ব্যুরো: সাম্প্রতিক ভারত চীন দ্বন্দ্ব ঘিরে মুখ খুলেছেন কংগ্রেসের প্রাক্তণ সর্বভারতীয় সভাপতি রাহুল গান্ধী। মাইক্রো ব্লগিং সাইট ট্যুইটারে নিজের ট্যুইটার অয়্যাকাউন্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করে ট্যুইট সহ ভিডিও পোস্ট করেছেন রাহুল গান্ধী। তা বেশ করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেছেন। নরেন্দ্র মোদি বিজেপির প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী। আমার এবং অন্যান্যদের মতো আপনারও প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার অধিকার রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দায়বদ্ধ ভারতের জণগণের কাছে প্রশ্নের উত্তর দিতে। বেশ, বেশ, বেশ।

প্রশ্ন করলেন রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে সরকারের সীমান্ত বিবাদ নিয়ে দৃষিভঙ্গিগত অবস্থান নিয়ে। প্রশ্ন উঠছে সঙ্গে আরও একটা। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু। ১৯৬২ সাল ভারত চীন যুদ্ধ। আকসাই চীনের মাটি ঘিরে ভারত ও চীনের টানাপোড়েন। ভারতের সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নেহেরুর আকসাই চীন নিয়ে মন্তব্য, যা সংসদীয় গণতন্ত্রে রেকর্ড রয়েছে। ‘আকসাই চীন বন্ধুর জমি, মাথার টাকের মতো। অল্প স্বল্প চুল রয়েছে টাকে। পুরোটাই ন্যাড়া ম্যাথা।’ এটা প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর তৎকালীন প্রশাসনের দৃষিভঙ্গিগত অবস্থান। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন হয়। ১৯৫০ সাল, ২৬ জানুয়ারি সংবিধান প্রণীত হয়। ভারত রাষ্ট্র ব্যাবস্থা গায়ে জামা কাপড় পড়ে সেজেগুঁজে টিপটপ হয়ে বিশ্ব মঞ্চে পা রেখে ফেলে। এই সময় থেকে কংগ্রেস কেন্দ্রে এবং রাজ্যে একচ্ছত্রবাদ কায়েম করে বসেছিল। অবশ্যই জণগণের ভোটে জিতে। কিন্তু কায়েম ছিল কংগ্রেসের একচ্ছত্রবাদ।

তাহলে চীন নিয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিগত অবস্থান নিয়ে কংগ্রেস সরকার নমনীয় ছিল কেন? কেন আকসাই চীন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নেহেরুর বক্তব্য উঠে এসেছিল জাতীয় স্বার্থ পরিপহ্নী? পণ্ডিত নেহেরু কি বুঝতে পারেন নি? তৎকালীন ভারতীয় সেনা আধিকারিক, সেনা গোয়েন্দা, রিসার্চ এন্ড অয়্যানালিসিস ‘র’ সম্পূর্ণ তথ্য প্রধানমন্ত্রী নেহেরুর সামনে তুলে ধরতে পারেনি? বলা ভাল প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুকে বোঝালেও প্রধানমন্ত্রী বুঝতে চাননি? প্রধানমন্ত্রী নেহেরু এবং প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের দৃষ্টিভঙ্গিগত অবস্থান।

তাই চীনের সঙ্গে ভারত স্বাক্ষর করে বসেছিল পঞ্চশীল নীতিতে। এরপরে ইউনাইটেড প্রোগ্রেসিভ এয়্যালায়েন্স (ইউপিএ) সরকারের প্রথম পর্যায়ে চীনের অরুণাচল প্রদেশ দখলদারি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং ইউপিএ চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী নিজেদের দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যেতে পারেন না। কেন্দ্র সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। উত্তর দিতে পারবেন কংগ্রেসের যুবরাজ। জণগণের কাছে আপনিও দায়বদ্ধ। প্রশ্ন ছুঁড়েছেন আপনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষ্য করে। বেশ করেছেন। ২০১৯ লোকসভা ভোটে কংগ্রেস হেরে যাওয়ার পর দলীয় সর্বভারতীয়  সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে রেখেছেন নিজেকে রাহুল গান্ধী। প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন ছুঁড়েছেন। বুমেরাং হয়ে ফিরে আসা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দায়বদ্ধতা বর্তায় আপনার ওপরেই কিনা। প্রশ্ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বেশ করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here